📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওমর রা. ও তাঁর ভাইয়ের খুনি

📄 ওমর রা. ও তাঁর ভাইয়ের খুনি


ওমর (রা.) তাঁর ভাই যায়েদকে অনেক বেশি ভালোবাসতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, তিনি আমার আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং আমার আগেই শাহাদাত বরণ করেছেন।
আল্লাহ তা’আলা তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি একজন কোরআনে হাফেজ ছিলেন। ইমায়ামার যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি সে যুদ্ধেই শহীদ হয়েছেন। ওমর (রা.) তাঁর খুনিকে চিনতেন। পরে যায়েদ (রা.)-এর হত্যাকারী লোকটি তাওবা করে ইসলাম গ্রহণ করেছে, কিন্তু যখনই ওমর (রা.) ঐ লোকটিকে দেখতেন তিনি মুখ ফিরিয়ে নিতেন, আমি তোমাকে দেখতে পছন্দ করি না, কেননা তুমি আমার ভাইকে হত্যা করেছ।
তখন লোকটি বলল, এ কারণে কি আমি আমার অধিকার থেকে বঞ্চিত হব? তিনি বললেন, না। এভাবেই ওমর (রা.) শত্রুদের অধিকারও আদায় করে দিতেন。

টিকাঃ
১৩ বুখারীর রাফিশীন লাল আওফাল।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 চন্দ্রের সাথে বিচারক

📄 চন্দ্রের সাথে বিচারক


হযরত ওমর (রা.)-এর কাছে এক লোক আসল। তিনি লোকটিকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিলেন, কিন্তু লোকটি আবার তাঁর নিকট এসে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আমি স্বপ্নে দেখেছি সূর্য আর চন্দ্র যুদ্ধ করছে।
তখন ওমর (রা.) বললেন, তুমি কার পক্ষে যুদ্ধ করেছ? লোকটি বলল, আমি চাঁদের পক্ষ নিয়ে সূর্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি।
ওমর (রা.) বললেন, আমি তোমাকে বিচারকের পদ থেকে বরখাস্ত করলাম। এরপর লোকটি চলে যেতে লাগল তখন সে জানাল না কি কারণে তাকে বরখাস্ত করা হলো, কিন্তু ওমর (রা.) জানতেন যে, আল্লাহর হুকুমে চন্দ্র সূর্য থেকে আলো নিয়ে তা ছাড়িয়ে দেয়। এ কারণে সূর্যের অধিকার চন্দ্র থেকে বেশি। সূর্য চন্দ্র থেকে অধিক শক্তিশালী। এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা হয়েছে অচিরেই একটি যুদ্ধ হবে, সে যুদ্ধে এ লোকটি বাতিলের পক্ষ হয়ে সত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে। তা হয়েও ছিল। ওমর (রা.)-এর ইন্তিকালের পর সত্যপন্থী ও বাতিল পন্থীর মাঝে যুদ্ধ হয়েছিল। তখন সে লোকটি বাতিল পন্থীদের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধ করেছে。

টিকাঃ
১৪ বুখারীর রাফিশীন লাল আওফাল।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমি জুলুম করেছি

📄 আমি জুলুম করেছি


তাবি বর্কা এক হাতে নিয়ে... অন্য হাতে কাপড়ের কিনারা ধরে হযরত আবু বকর (রা.) আসছিলেন। এমনকি চলার গতিতেও তাঁর হাঁটু মাঝে মাঝে প্রকাশিত হচ্ছিল। তাঁর চেহারায় দুশ্চিন্তার ছাপ দেখা যাচ্ছিল।
তাঁকে দেখে রাসুল (সা.) বুঝতে পারলেন যে, তাঁর সাথে হযরত ওমর (রা.)-এর কোনোকিছু হয়েছে।
হযরত আবু বকর (রা.) ওমর (রা.)-এর দিকে এগিয়ে গেলেন তাঁর তাঁকে ক্ষমা করে দিতে বললেন, কিন্তু হযরত ওমর (রা.) মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
তখন রাসুল (সা.) বললেন, আবু বকর! তোমাকে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করুন......... (এ কথাটি তিনি তিন বার বললেন)। পরে হযরত ওমর (রা.) তাঁর এ কাজে অনুতপ্ত হলেন। তিনি হযরত আবু বকর (রা.)-এর কাছে আসলেন, কিন্তু তাঁকে পেলেন না। তাঁকে না পেয়ে তিনি নবী করীম (সা.)-এর কাছে গেলেন। হযরত ওমর (রা.) রাসুল (সা.)-এর নিকটবর্তী হলে রাসুল (সা.)-এর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল, তাঁর চোখ লাল হয়ে গেল। হযরত ওমর (রা.)-এর প্রতি রাসুল (সা.)-এর প্রচণ্ড রাগ দেখে হযরত আবু বকর (রা.) তাঁর কাছে গিয়ে খুব নম্রভাবে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি জুলুম করেছি..........। আল্লাহর শপথ! আমি জুলুম করেছি। অর্থাৎ, তিনি রাসুল (সা.)-এর কাছে হযরত ওমর (রা.)-কে দোষমুক্ত প্রমাণ করার চেষ্টা করতে লাগলেন।
রাসুল (সা.) বললেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে তোমাদের নিকট প্রেরণ করেছিলেন। তোমরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছ, আর আবু বকর আমাকে সত্যবাদী বলেছ....এর নিজের জান, মাল দিয়ে আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। আর এখন তোমরা আমার সেই সঙ্গীকে ত্যাগ করছ?

টিকাঃ
২২ বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৩৫৬১।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 দিনারের ব্যাগ

📄 দিনারের ব্যাগ


একদিন ওমর (রা.)-এর কাছে সম্পদ এসে পৌঁছল। তিনি তা থেকে চারশত দিনার একটি ব্যাগ নিয়ে তা তাঁর গোলামকে দিয়ে বললেন, এগুলো নিয়ে আবু উবায়দা বিন জাররাহর কাছে যাও। তারপর সেখানে গিয়ে ব্যস্ততার ভান দেখিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবে এবং লক্ষ্য রাখবে তিনি এগুলোকে কী করেন? গোলাম সে ব্যাগটি নিয়ে আবু উবায়দা (রা.)-এর কাছে গিয়ে বলল, আমীরুল মুমিনীন আপনাকে বলেছেন, এগুলো দ্বারা আপনার প্রয়োজন পূরণ করবেন।
আবু উবায়দা (রা.) বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুন, তাঁর প্রতি রহম করুন। তারপর তিনি তাঁর দাসীকে বললেন, তুমি এ পাঁচ দিনার অন্যকে দিয়ে আস, আর এ পাঁচ দিনার অন্যকে দিয়ে আস। এভাবে তিনি সবগুলো দিনার অন্যদেেরক দান করে দিলেন। এরপর গোলামটি ফিরে এসে তা ওমর (রা.)-কে জানাল। ওমর (রা.) আরও একটি ব্যাগ চারশত দিনার নিয়ে তাকে মুয়াজ বিন জাবাল (রা.)-এর কাছে পাঠালেন। তিনি তাকে বললেন, এগুলো নিয়ে মুয়াজের কাছে যাও। তারপর সেখানে গিয়ে ব্যস্ততার ভান দেখিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবে এবং লক্ষ্য রাখবে তিনি এগুলোকে কী করেন? গোলাম ব্যাগটি নিয়ে মুয়াজ (রা.)-এর কাছে গিয়ে বলল, আমীরুল মুমিনীন আপনাকে বলেছেন, এগুলো দ্বারা আপনার প্রয়োজন পূরণ করবেন। মুয়াজ (রা.) বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুন, তাঁর প্রতি রহম করুন। এই যে এই দাসী, তুমি এ পরিমাণ দিনার নিয়ে অন্যকে কাছে যাও, আর এ পরিমাণ দিনার নিয়ে অন্যকে কাছে যাও। এভাবে তিনি সবগুলো দিনার দান করে দিলেন। তখন মুয়াজ (রা.)-এর স্ত্রী বললেন, আল্লাহর শপথ! আমরা তো আরও বেশি অভাবী। আমাদেরকে কিছু দিন। বাসের ভেতর তখন মাত্র দুই দিনার ছিল। মুয়াজ (রা.) সে দুই দিনার তাঁর স্ত্রীকে দিলেন। এরপর গোলামটি ফিরে এসে ওমর (রা.)-কে যা ঘটেছে তা জানাল। এদিকে ওমর (রা.) হুজায়ফা (রা.)-এর জমিও চারশত দিনারের একটি ব্যাগ প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। তিনি তা গোলামকে দিয়ে তাঁর কাছে পাঠালেন। হুজায়ফা (রা.)-ও তাদের মতো সব দিনার বিলিয়ে দিলেন। এ তিন জনই এমন কাজে ওমর (রা.) খুবই খুশি হলেন। তিনি বললেন, তারা একে অপরের ভাই。

টিকাঃ
১৯ আল মু'জামুল কাবীর, ২য় খণ্ড, ৬২ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00