📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমার কাছে তোমার অংশ ছাড়া আর কোনো অংশ নেই

📄 আমার কাছে তোমার অংশ ছাড়া আর কোনো অংশ নেই


একদিন ওমর (রা) সাহাবীদের একদলকে সাথে মদিনার কোনো এক পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন।
তখন তিনি এক শিশুকে দেখলেন যার পরনের জামাটি ছেঁড়া। চুলগুলো এলোমেলো। ক্ষুধা ও দুর্বলতার কারণে সে বারবার হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল। এরপর আবার উঠে আবার পড়ে যাচ্ছে।
এ দৃশ্য দেখে ওমর (রা) বললেন, আহ্ কি দুর্দশা মেয়েটির! তোমাদের মধ্য কে কে একে চিন?
তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ্ বিন ওমর (রা) ছিলেন, যিনি তাঁর পাশেই ছিলেন। তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনি তাকে চিনতে পারেননি?
তিনি বললেন, না,.......কে সে?
তাঁর ছেলে বললেন, এ হচ্ছে আপনার এক মেয়ে।
তিনি বললেন, আমার কোন্ মেয়ে?
তাঁর ছেলে বললেন, এ হচ্ছে আব্দুল্লাহ্ বিন ওমরের মেয়ে।
তখন তিনি রেগে বললেন, তোমার জন্য ধ্বংস! কিসে তাকে এমন করল যেমন আমি তাকে দেখতে পাচ্ছি?
তাঁর ছেলে বললেন, আপনার কাছে যা আছে তা দিতে আপনি নিষেধ করেছেন।
তিনি বললেন, আমি তোমাকে তা থেকে নিষেধ করিনি বরং যা ধনীরা তাদের মেয়েদেরকে পরিয়ে থাকে। আল্লাহ্র শপথ! আমার কাছে তোমার জন্যে তোমার অংশ ব্যতীত দেওয়াল ও আর কিছুই নেই। চাই তা তোমার হোক বা না হোক। এ হচ্ছে আল্লাহ্র কিতাব যা আমার ও তোমার মাঝে বিদ্যমান。

টিকাঃ
১০৬ সানানজিহিয়্যুল মুমিনীন, ১৯৯ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ইয়ামুল জিস্‌র

📄 ইয়ামুল জিস্‌র


মুংকের তীব্রতা কঠিন আকার ধারণ করল। তরবারির আঘাতও মুজাকে টেনে আনছিল। যুদ্ধে মুসলমানগণ পরাজিত হলো। তাদের মধ্যে যারা শহীদ হলো। আর যারা পলায়ন করার তারা পলায়ন করল। সে সকল পলায়নকারীদের মধ্যে হযরত মুয়াজ (রা)-ও ছিলেন। এ কারণে তিনি যখনই আল্লাহ্র বাণী
وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفًا لِقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزًا إِلَىٰ فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
‘আর তাদের থেকে যারা সেদিন পশ্চাদসরণ করবে, অবশ্য লড়াইয়ের কৌশল পরিবর্তনকল্পে কিম্বা যে নিজ সৈন্যদের কাছে আশ্রয় নিতে আসে, সে ব্যতীত অন্যারা আল্লাহ্র গযব নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। আর তার ঠিকানা হলো জাহান্নাম। বস্তুত সেটি নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তন স্থল।’ (সূরা আনফাল: ১৬)
এ আয়াতটি যখন মুয়াজ (রা) তেলাওয়াত করতেন তখনই প্রচণ্ড কান্না করতেন।
একদিন তাঁর কান্না অবস্থায় ওমর (রা) দেখে ফেলেন। তখন তিনি বললেন, মুয়াজ, তুমি কেঁদো না, আমিও তোমার মত, তুমি তো আমার কাছেই এসেছ।
তারপর তিনি আরো বললেন, তুমি কি সিরিয়ায় যাবে? কেননা মুসলমানগণ সেখানে গিয়েছে। আর শত্রুদের আক্রমণ তাদের জন্যে কঠিন হয়েছে। সম্ভবত সেখানে গেলে তোমার যুদ্ধ পলায়নের গুনাহ্ মুছে দিবে।
মুয়াজ (রা) বললেন না,....... যে জমিন থেকে আমি পালিয়ে এসেছি সে জমিন ব্যতীত আমি আর অন্য কোথাও যাব না। চাই শত্রু আমাকে খাই করুক।
তখন তিনি কাফিসিয়াহ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সে যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।
....... হে মুয়াজ, আল্লাহ্ আপনার প্রতি রহম করুন হে কারী মুয়াজ。

টিকাঃ
১০৭ তারিখুত তাবারী, ৩য় খণ্ড, ৪৬০ পৃ. ও তাবাকাতু ইবনি সাদ ৩য় খণ্ড, ইবনি সাদ ৪১৮ পৃ.। কর্মা--১২

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বায়তুল মুকাদ্দাসে ওমর রা.

📄 বায়তুল মুকাদ্দাসে ওমর রা.


ওমর (রা)-এর খেলাফাতে আল্লাহ্র সাহায্যে মুসলমানগণ বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয় করেন। বায়তুল মুকাদ্দাসের অধিবাসীরা আমীরুল মুমিনীন ওমর (রা)-এর ব্যতীত অন্য কারো হাতে বায়তুল মুকাদ্দাসের চাবি অর্পণ করতে অস্বীকার করল।
ওমর (রা) একটি উটের ওপর আরোহণ করলেন। তার সাথে তাঁর গোলাম আসলামও ছিল। তখন তিনি তাঁর গোলামকে বললেন, আমরা আহবোয়াবে ভাগ করে নিব। কিছু পথ আমি আরোহণ করব আর কিছু পথ তুমি আরোহণ করবে।
কথা অনুযায়ী তারা পথ চলতে লাগলেন। কিন্তু ওমর (রা) উটের ওপর আরোহণ করেছেন আর কিছু সময় তাঁর গোলাম আরোহণ করেছে। যখন তাঁরা বায়তুল মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী হলেন তখন ওমর (রা)-এর হাঁটার পালা ছিল।
তাঁর গোলামটি উট থেকে নেমে যেতে চাইল, কিন্তু তিনি তাকে নামতে দিলেন না।
এবং এদিকে পথে কাঁদা ছিল। যার কারণে তিনি কাপড় উঠিয়ে চলছিলেন। তারা যখন বায়তুল মুকাদ্দাসে গিয়ে পৌঁছলেন তখন তাঁর পায়ে কাঁদা লেগে ছিল। তাঁর গোলাম উটে আরোহী ছিল আর তিনি উটের রশি ধরে ধরে গিয়ে যাচ্ছিলেন। এ দৃশ্য দেখে সেখানে উপস্থিত মুসলমানগণ হতভম্ব হয়ে গেল। এ দিকে বায়তুল মুকাদ্দাসের অধিবাসীরা চিৎকার দিয়ে বলল, এই হচ্ছে ওমর, তাঁর পায়ে কাঁদা লেগে আছে!
মুসলমানগণ তখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করল, তোমরা তাঁকে কীভাবে চিনলে? তারা বলল, এভাবে আমরা আমাদের ধর্মীয় কিতাবে পেয়েছি। তখন তারা ওমর (রা.)-এর হাতে চাবি অর্পণ করল।
তখন ওমর (রা.) বললেন, আমরা এমন জাতি যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা ইসলাম দ্বারা সম্মানিত করেছেন, সুতরাং আমরা যদি ইসলাম ব্যতীত অন্যকিছুতে সম্মান খুঁজতে যাই তবে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে অপমানিত করবেন।
এরপর তিনি তাদের গির্জায় প্রবেশ করলেন। ঠিক সময়ে নামাজের সময় হলে তিনি গির্জার ভেতরে নামাজ পড়তে অস্বীকার করেন। তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, যতক্ষণ না মুসলমানগণ তা গ্রহণ করবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি সেখানে নামাজ পড়ব না। তারপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসের পাথরের কাছে গেল। যে পাথরের থেকে রাসুল (সা.) মিরাজের সফর শুরু করেছেন। ওমর (রা.) সে পাথরটিকে নিজের কাপড় দ্বারা পরিষ্কার করলেন এবং সেটিকে স্বচ্ছ সাদা করে দিলেন। ............. হে আল্লাহ আমাদেরকে বায়তুল মুকাদ্দাস আবার ফিরিয়ে দাও এবং বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিদের থেকে পবিত্র করে দাও।”

টিকাঃ
৭ বুখারীর রাফিশীন লাল আওকাল।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 কিয়ামতের দিন কী তুমি আমার বোঝা বহন করবে?

📄 কিয়ামতের দিন কী তুমি আমার বোঝা বহন করবে?


আমরা এ ঘটনা থেকে জানতে পারব ওমর (রা.) দুর্বলদের প্রতি কতটা দয়া করতেন এবং ক্ষুধার্থদেরকে কীভাবে খেতে দিতেন।
আসলাম নামে তার একজন দাস আছে, এক রাতে তিনি তাকে নিয়ে বের হলেন। এটা ওমর (রা.)-এর স্বভাব ছিল তিনি রাতের বেলা ঘুরে ঘুরে প্রজাদের অবস্থা দেখতেন। যাচেকেরাও তিনি ক্ষুধার্থ ও অভাবীদের অবস্থা দেখতে পান। তেমনই সে রাতে তিনি চলতে চলতে দূরে এক জায়গায় আগুন জ্বলছে। সেখানে বাচ্চাদের কান্নার আওয়াজ শুনা যাচ্ছে। তিনি গিয়ে দেখলেন এক মহিলা চুলার উপর একটি পাত্রে তাপ দিচ্ছে। যে পাত্রে পানি আর পাথর ছিল। সে মহিলার পাশেই বাচ্চারা বসে বসে কাঁদছে।
ওমর (রা.) তাদের একটু দূরে থাকতেই বললেন, আসসালামু আলাইকুম হে আলো অধিবাসীরা। এটা ওমর (রা.)-এর স্বভাব ছিল তিনি কোনো আগুন প্রজ্জ্বলনকারীদেরকে তাদের অধিবাসী বলে সম্বোধন করতেন না। মহিলাটি তাঁর সালামের উত্তর দিল।
তারপর তিনি বললেন, আমরা কি কাছে আসতে পারি? মহিলা বলল, কল্যাণের সাথে আসুন। তিনি বললেন, তোমাদের কি হয়েছে? মহিলা বলল, আমাদের ঘরে এমন কিছুই নেই যা দ্বারা আমরা রাতের শীত নিবারণ করব। তিনি বললেন, এ বাচ্চাদের কি হয়েছে তারা কাঁদছে কেন? মহিলা বলল, তারা ক্ষুধার্থ। তিনি বললেন, এ পাত্রে কী? মহিলাটি ওমর (রা.)-কে চিনত না, তাই সে বলল, এতে পাথর, আমি তা রেখেছি এদেরকে শান্ত রাখতে যাতেকরে তারা এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে। আমাদের মাঝে আর ওদেরর মাঝে আল্লাহ তা'আলা আছেন!
তিনি বললেন, আল্লাহ তোমাকে রহম করুন, তুমি ওমর সম্পর্কে কি জান? মহিলা বলল, সে আমাদের দায়িত্ব পেয়ে আমাদের ব্যাপারে গাফেল হয়ে আছে। মহিলায় এ কথাটি ওমর (রা.)-এর অন্তরে গিয়ে আঘাত করল। তিনি তাঁর গোলাম আসলামকে নিয়ে দ্রুত বায়তুল মালে গিয়ে এক পাত্র আটা ও কিছু তেল নিলেন। তিনি তাঁর গোলামকে বললেন, আমার পিঠে উঠিয়ে দাও ও সে বলল, না; বরং আমি বহন করে নিব।
তখন তিনি তাকে বললেন, কিয়ামতের দিন কি তুমি আমার ওনার বহন করবে? তারপর তিনি ওই আটা ও তেল নিজে বহন করে মহিলার বাড়িতে দিয়ে আসলেন।
তিনি তাকে বললেন, তুমি রুটি বানাও, আমি তা পাত্রে উঠিয়ে দিচ্ছি। ওমর (রা.) লম্বা দাড়ি অধিকারী ছিলেন। তাই ধোঁয়া তাঁর দাড়ি স্পর্ষ করছিল। তারপরও তিনি তাপ দিচ্ছিলেন আর রুটি উঠিয়ে দিচ্ছিলেন। রুটি হওয়ার পর তা বাচ্চাদেরকে খেতে দেওয়া হলো। বাচ্চারা তা খেয়ে পরিতৃপ্ত হলো। এমনকি তারা খুশি হয়ে হাসতে লাগল। এরপর বাচ্চাতোলা ঘুমিয়ে গেল।
তখন মহিলা বলল, আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, আল্লাহর শপথ! ওমরের থেকেও তুমি খেলাফতের অধিক উপযুক্ত। তখন ওমর (রা.) বললেন, তুমি যখন আমীরুল মুমিনীনর কাছে যাবে তখন সেখানে আমাকে পাবে। এটা বললেন, যাতে করে সে আমীরুল মুমিনীনর কাছে যেতে ভয় না করে। বাচ্চাদেরকে হাসিখুশি না দেখে তিনি যেতে চাননি। এরপর তিনি তাঁর গোলাম আসলামকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আসলাম! ক্ষুধায় তাদেরকে কাঁদিয়েছে, আর তাই আমি তাদেরকে হাসিখুশি না দেখে ফিরে আসতে চাহিনি。

টিকাঃ
১৪
২ মুন্তাওয়ারু কানফীল উয়াহ, ৪র্থ খণ্ড, ৪১০ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00