📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 দুধ বিক্রয়কারিনী কন্যা

📄 দুধ বিক্রয়কারিনী কন্যা


রাত ঘনিয়ে এসেছে। ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আসে। এদিকে হযরত ওমর বিন খাত্তাব (রা) তাঁর গোলাম আসলামকে নিয়ে প্রজাসাধারণের খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য বেশ করে ঘুরতে লাগলেন। তিনি চলতে লাগলেন, চলতে চলতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে গেলেন। ক্লান্তি হালকা করতে তিনি পাশের একটি দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন। ঠিক সে সময় এক মহিলার কণ্ঠস্বর তাঁর কানে গিয়ে পৌঁছল।
মহিলাটি তার মেয়েকে বলছিল, হে মেয়ে! তুমি দুধের সাথে পানি মিশিয়ে দাও।
মেয়ে মাকে বলল, মা! আপনি কি বর্তমান আমীরুল মুমিনীন নির্দেশ জানেন না? তিনি তাঁর লোককে ঘোষণা দিতে বলেছেন, “দুধের সাথে যেন কেউ পানি না মিশায়।”
মা বললেন, তুমি দুধের সাথে পানি মিশিয়ে দাও। কেননা তুমি তো এমন জায়গায় আছ যেখানে ওমর বা ওমরকে তোমাকে দেখছে না।
মেয়ে বলল, মা! ওর আমাদেরকে দেখছে না, ঠিক কিন্তু ওমরের রব তো দেখছেন। আল্লাহ্র শপথ! আমীরও এমন নেই যে, প্রকাশ্যে তাঁর আনুগত্য করব আর গোপনে অবাধ্য হব।
সত্য ও ন্যায়ের মানদণ্ড ওমর (রা) এতক্ষণ যাবত মা-মেয়ের কথোপকথন শুনছেন। অতঃপর তিনি তাঁর গোলাম আসলামকে বললেন, আসলাম! এ দরজা ও জায়গা ভালোভাবে চিনে রাখ। তারপর তিনি ফিরে গেলেন।
পরের দিন সকালে ওমর (রা) আসলামকে বললেন, আসলাম! গতরাতের ওই বাড়িতে গিয়ে দেখ, কথাগুলো কে বলেছে আর কাকে বলেছে এবং তাদের কোনো অভিভাবক আছে কিনা।
আসলাম বাড়িতে গিয়ে জানতে পারলেন, গত রাতের কথাগুলো এক কুমারী মেয়ে তার মাকে বলেছিল। তাদের কোনো অভিভাবক নেই।
হযরত ওমর (রা) তাঁর সন্তানদের ডেকে একত্রিত করে বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি বিয়ে করতে চাও? যদি মহিলাদের কাছে যাওয়ারও শক্তি তোমাদের বাবার থাকত তবে তিনিই ঐ মেয়েকে বিয়ে করতেন।
তখন তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ্ বলল, আমার একজন স্ত্রী আছে।
তাঁর আরেক ছেলে আব্দুর রহমান বললেন, আমারও একজন স্ত্রী আছে।
তখন তাঁর ছেলে আসেম বললেন, বাবা! আমার কোনো স্ত্রী নেই, আপনি চাইলে আমাকে বিয়ে করাতে পারেন, আর তখন হযরত আসেম সেই মেয়েটিকে নিজের বউ হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে সেই মেয়ের ঘরে উম আসেম নামে এক মেয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাকে আব্দুল আযীয বিন মারওয়ান বিয়ে করেন। তাঁদের ঘরে হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) জন্মগ্রহণ করেন。

টিকাঃ
১০৫ তাবাক্বাতুল কুবরা, ৫ ম খণ্ড, ৩০৫ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমার কাছে তোমার অংশ ছাড়া আর কোনো অংশ নেই

📄 আমার কাছে তোমার অংশ ছাড়া আর কোনো অংশ নেই


একদিন ওমর (রা) সাহাবীদের একদলকে সাথে মদিনার কোনো এক পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন।
তখন তিনি এক শিশুকে দেখলেন যার পরনের জামাটি ছেঁড়া। চুলগুলো এলোমেলো। ক্ষুধা ও দুর্বলতার কারণে সে বারবার হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল। এরপর আবার উঠে আবার পড়ে যাচ্ছে।
এ দৃশ্য দেখে ওমর (রা) বললেন, আহ্ কি দুর্দশা মেয়েটির! তোমাদের মধ্য কে কে একে চিন?
তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ্ বিন ওমর (রা) ছিলেন, যিনি তাঁর পাশেই ছিলেন। তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনি তাকে চিনতে পারেননি?
তিনি বললেন, না,.......কে সে?
তাঁর ছেলে বললেন, এ হচ্ছে আপনার এক মেয়ে।
তিনি বললেন, আমার কোন্ মেয়ে?
তাঁর ছেলে বললেন, এ হচ্ছে আব্দুল্লাহ্ বিন ওমরের মেয়ে।
তখন তিনি রেগে বললেন, তোমার জন্য ধ্বংস! কিসে তাকে এমন করল যেমন আমি তাকে দেখতে পাচ্ছি?
তাঁর ছেলে বললেন, আপনার কাছে যা আছে তা দিতে আপনি নিষেধ করেছেন।
তিনি বললেন, আমি তোমাকে তা থেকে নিষেধ করিনি বরং যা ধনীরা তাদের মেয়েদেরকে পরিয়ে থাকে। আল্লাহ্র শপথ! আমার কাছে তোমার জন্যে তোমার অংশ ব্যতীত দেওয়াল ও আর কিছুই নেই। চাই তা তোমার হোক বা না হোক। এ হচ্ছে আল্লাহ্র কিতাব যা আমার ও তোমার মাঝে বিদ্যমান。

টিকাঃ
১০৬ সানানজিহিয়্যুল মুমিনীন, ১৯৯ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ইয়ামুল জিস্‌র

📄 ইয়ামুল জিস্‌র


মুংকের তীব্রতা কঠিন আকার ধারণ করল। তরবারির আঘাতও মুজাকে টেনে আনছিল। যুদ্ধে মুসলমানগণ পরাজিত হলো। তাদের মধ্যে যারা শহীদ হলো। আর যারা পলায়ন করার তারা পলায়ন করল। সে সকল পলায়নকারীদের মধ্যে হযরত মুয়াজ (রা)-ও ছিলেন। এ কারণে তিনি যখনই আল্লাহ্র বাণী
وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفًا لِقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزًا إِلَىٰ فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
‘আর তাদের থেকে যারা সেদিন পশ্চাদসরণ করবে, অবশ্য লড়াইয়ের কৌশল পরিবর্তনকল্পে কিম্বা যে নিজ সৈন্যদের কাছে আশ্রয় নিতে আসে, সে ব্যতীত অন্যারা আল্লাহ্র গযব নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। আর তার ঠিকানা হলো জাহান্নাম। বস্তুত সেটি নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তন স্থল।’ (সূরা আনফাল: ১৬)
এ আয়াতটি যখন মুয়াজ (রা) তেলাওয়াত করতেন তখনই প্রচণ্ড কান্না করতেন।
একদিন তাঁর কান্না অবস্থায় ওমর (রা) দেখে ফেলেন। তখন তিনি বললেন, মুয়াজ, তুমি কেঁদো না, আমিও তোমার মত, তুমি তো আমার কাছেই এসেছ।
তারপর তিনি আরো বললেন, তুমি কি সিরিয়ায় যাবে? কেননা মুসলমানগণ সেখানে গিয়েছে। আর শত্রুদের আক্রমণ তাদের জন্যে কঠিন হয়েছে। সম্ভবত সেখানে গেলে তোমার যুদ্ধ পলায়নের গুনাহ্ মুছে দিবে।
মুয়াজ (রা) বললেন না,....... যে জমিন থেকে আমি পালিয়ে এসেছি সে জমিন ব্যতীত আমি আর অন্য কোথাও যাব না। চাই শত্রু আমাকে খাই করুক।
তখন তিনি কাফিসিয়াহ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সে যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।
....... হে মুয়াজ, আল্লাহ্ আপনার প্রতি রহম করুন হে কারী মুয়াজ。

টিকাঃ
১০৭ তারিখুত তাবারী, ৩য় খণ্ড, ৪৬০ পৃ. ও তাবাকাতু ইবনি সাদ ৩য় খণ্ড, ইবনি সাদ ৪১৮ পৃ.। কর্মা--১২

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বায়তুল মুকাদ্দাসে ওমর রা.

📄 বায়তুল মুকাদ্দাসে ওমর রা.


ওমর (রা)-এর খেলাফাতে আল্লাহ্র সাহায্যে মুসলমানগণ বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয় করেন। বায়তুল মুকাদ্দাসের অধিবাসীরা আমীরুল মুমিনীন ওমর (রা)-এর ব্যতীত অন্য কারো হাতে বায়তুল মুকাদ্দাসের চাবি অর্পণ করতে অস্বীকার করল।
ওমর (রা) একটি উটের ওপর আরোহণ করলেন। তার সাথে তাঁর গোলাম আসলামও ছিল। তখন তিনি তাঁর গোলামকে বললেন, আমরা আহবোয়াবে ভাগ করে নিব। কিছু পথ আমি আরোহণ করব আর কিছু পথ তুমি আরোহণ করবে।
কথা অনুযায়ী তারা পথ চলতে লাগলেন। কিন্তু ওমর (রা) উটের ওপর আরোহণ করেছেন আর কিছু সময় তাঁর গোলাম আরোহণ করেছে। যখন তাঁরা বায়তুল মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী হলেন তখন ওমর (রা)-এর হাঁটার পালা ছিল।
তাঁর গোলামটি উট থেকে নেমে যেতে চাইল, কিন্তু তিনি তাকে নামতে দিলেন না।
এবং এদিকে পথে কাঁদা ছিল। যার কারণে তিনি কাপড় উঠিয়ে চলছিলেন। তারা যখন বায়তুল মুকাদ্দাসে গিয়ে পৌঁছলেন তখন তাঁর পায়ে কাঁদা লেগে ছিল। তাঁর গোলাম উটে আরোহী ছিল আর তিনি উটের রশি ধরে ধরে গিয়ে যাচ্ছিলেন। এ দৃশ্য দেখে সেখানে উপস্থিত মুসলমানগণ হতভম্ব হয়ে গেল। এ দিকে বায়তুল মুকাদ্দাসের অধিবাসীরা চিৎকার দিয়ে বলল, এই হচ্ছে ওমর, তাঁর পায়ে কাঁদা লেগে আছে!
মুসলমানগণ তখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করল, তোমরা তাঁকে কীভাবে চিনলে? তারা বলল, এভাবে আমরা আমাদের ধর্মীয় কিতাবে পেয়েছি। তখন তারা ওমর (রা.)-এর হাতে চাবি অর্পণ করল।
তখন ওমর (রা.) বললেন, আমরা এমন জাতি যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা ইসলাম দ্বারা সম্মানিত করেছেন, সুতরাং আমরা যদি ইসলাম ব্যতীত অন্যকিছুতে সম্মান খুঁজতে যাই তবে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে অপমানিত করবেন।
এরপর তিনি তাদের গির্জায় প্রবেশ করলেন। ঠিক সময়ে নামাজের সময় হলে তিনি গির্জার ভেতরে নামাজ পড়তে অস্বীকার করেন। তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, যতক্ষণ না মুসলমানগণ তা গ্রহণ করবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি সেখানে নামাজ পড়ব না। তারপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসের পাথরের কাছে গেল। যে পাথরের থেকে রাসুল (সা.) মিরাজের সফর শুরু করেছেন। ওমর (রা.) সে পাথরটিকে নিজের কাপড় দ্বারা পরিষ্কার করলেন এবং সেটিকে স্বচ্ছ সাদা করে দিলেন। ............. হে আল্লাহ আমাদেরকে বায়তুল মুকাদ্দাস আবার ফিরিয়ে দাও এবং বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিদের থেকে পবিত্র করে দাও।”

টিকাঃ
৭ বুখারীর রাফিশীন লাল আওকাল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00