📄 এক ছোট ছেলেকে পাহারা দিচ্ছে ওমর রা.
সিনান বিন সালামা তখন বাইরে বের হলেন। তখন তিনি ছোট ছিলেন। মদিনার অন্যান্য শিশুদের সাথে তিনি বাতাসে পড়ে যাওয়া খেজুর মাটি থেকে কুড়িয়ে নিচ্ছিলেন। তারা খেজুর কুড়াচ্ছিল এমন সময় ওমর আল্লাহ এসে পড়লে বাচ্চারা সবাই তাঁকে দেখে দৌড়ো দিল, কিন্তু সিনান বিন সালামা দাঁড়িয়েছিল। তিনি বললেন, আমিরুল মুমিনীন, এগুলো বাতাসে পড়া খেজুর। ওমর আল্লাহ বললেন, দেখি, আমাকে দেখাও, কেননা তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। ওমর আল্লাহ তাঁর ব্যাগের চেতোর তাকিয়ে বললেন, তুমি সত্য বলছ। তখন সিনান বললেন, আমিরুল মুমিনীন, আপনি এ ছেলেগুলোকে দেখেছেন না? তিনি বললেন, হ্যাঁ! সিনان বললেন, আল্লাহর শপথ! যদি আপনি আমাকে ছেড়ে চলে যান তবে তারা আমার ওপর হামলা করে আমার কাছ থেকে খেজুর নিয়ে যাবে। তখন ওমর আল্লাহ তার সাথে সাথে গিয়ে তাকে বাড়িতে পৌঁছিয়ে দিলেন。
টিকাঃ
১১৮ তাবাক্বাতু ইবনি সাদ, ৭৮ খণ্ড, ১২৯ পৃ।
📄 খলিফা ও ইবনে সালামা
ওমর আল্লাহ-এর একটি লাঠি ছিল। একদিন তিনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই রাস্তায় ইবনে সালামা নামে এক লোক ছিলেন। তিনি তাকে হালকা আঘাত দিয়ে বললেন, ইবনে সালামা, রাস্তা খালি কর। পূর্ণ এক বছর পর ওমর আল্লাহ সে লোকের সাথে দেখা করলেন। তিনি তাকে বললেন, ইবনে সালামা, তুমি কি কি এ বছর হজ্ব করেছ হজে? সে বলল, হ্যাঁ। তখন ওমর আল্লাহ ঘরে গিয়ে হরিশত্ন দেহরাম নিয়ে আসলেন। তিনি সেগুলো ওই লোকটিকে দিয়ে বললেন, এগুলো তোমার হজ্ব সফরের সহযোগী হিসাবে নাও।
আর জেনে রাখ, আমি যে তোমাকে গত বছর লাঠি দিয়ে আঘাত করেছি এটা সেটির বিনিময়। সে বলল, আল্লাহর শপথ! আমিরুল মুমিনীন, আমি তা ভুলে গেছি। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তা ভুলতে পারিনি এ ভয়ে যে, আল্লাহ তা'আলা আমার থেকে এর হিসাব নিবেন।
📄 বিশ্বস্ত দাস
ওমর আল্লাহ তাঁর যেকোনো এক সফরের এক দাসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে বকরি চরাচ্ছিল। তিনি তাকে বললেন, আমার কাছে একটি বকরি বিক্রি কর। দাসটি বলল, এগুলো আমার নয়, এগুলো আমার মালিকের। তিনি বললেন, তুমি তোমার মালিককে বলবে, বকরি বাঘে খেয়ে ফেলেছে। দাসটি বলল, আমি যদি আমার মালিককে বলি বা বাঘে খেয়ে ফেলেছে কিয়ামতের দিন আমার প্রভূকে কি বলব? তার এমন উত্তর শুনে ওমর আল্লাহ কান্না করলেন। তারপর তিনি দাসটির মালিকের কাছে গিয়ে তাকে ক্রয় করে আজাদ করে দিলেন এবং তাকে বললেন, তোমার এ কথার কারণে আমি তোমাকে আজাদ করে দিয়েছি। আমি আশা করি তুমি তোমার এ কথার কারণে আখিরাতেও মুক্তি পাবে, ইন-শা-আল্লাহ (আল্লাহ চাইলে)।
টিকাঃ
১২০ রামাজ্জাতুল শাহরেন নুক্কফাও, ২১ পৃ।
📄 ওমর রা.-এর ঘুম
মুয়াবিয়া বিন বুদাইজ ওমর আল্লাহ-কে ইকরাদার বিজয়ের খবর দিতে মদিনায় আসলেন। তখন মদিনা এসে দেখলেন ওমর আল্লাহ কান্নাকাটি করছিলেন। (কান্নাকাটা হচ্ছে দুপুরের পরে সামান্য সময় ঘুমানো।) তখন মুয়াবিয়া বিন বুদাইজ বললেন, আমিরুল মুমিনীন ঘুমাচ্ছেন। ওমর আল্লাহ ভীততন্ত্র হয়ে ছুটে এসে চিৎকার দিয়ে বললেন, মুয়াবিয়া, মসজিদে এসে তুমি কী বললে? সে বলল, আমি বলেছি, আমিরুল মুমীনীন ঘুমাচ্ছেন। ওমর আল্লাহ বললেন, তুমি কতই না মন্দ ধারণা করেছ। যদি আমি দিনের বেলায় ঘুমাই তবে আমি প্রজাদেরকে ধ্বংস করলাম। আর যদি রাতের বেলা ঘুমাই তবে তো নিজের নফসকে ধ্বংস করলাম। মুয়াবিয়া, কী কীভাবে এ দুটির সাথে আমি ঘুমাই?
টিকাঃ
১২১ তাবাক্বাতু ইবনি সাদ, ৭৫ খণ্ড, ২৪০ পৃ।