📄 আল্লাহর রাস্তায় আঘাত
লোকজন তাদের ভাতা নেওয়ার জন্য ওমর আল্লাহ-এর কাছে একত্রিত হলো। তাদের সংখ্যা এত বেশি যে, সেখানে প্রচণ্ড ভিড় জমে গেল। ওমর আল্লাহ মাথা তুলে লোকদের দেখতে লাগলেন। তখন তিনি দেখতে পেলেন এক লোক মানুষের কাঁধের কাছে সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। যার চেহারায় আঘাতের দাগ আছে। যে দাগ তার চেহারার চামড়াকে দুই ভাগ করে দিয়েছে। লোকটি আসার পর তিনি তাকে আঘাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। উত্তর লোকটি বলল, এক যুদ্ধে আমি এ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি। এ কথা শুনে ওমর আল্লাহ বললেন, এ লোককে এক হাজার দিরহাম দাও। তারা তাকে এক হাজার দিরহাম দিলেন। এরপর তিনি আবার বললেন, তাকে আরো এক হাজার দিরহাম দাও। তারা তাকে আরো এক হাজার দিরহাম দিল। এভাবে তিনি চারবার তাকে এক হাজার দিরহাম করে দিতে বললেন। তারা তাকে চারবার এক হাজার দিরহাম করে মোট চার হাজার দিরহাম দিল। অন্যদের থেকে তাকে এত বেশি দেওয়ার কারণে সে লোকটি মনে লজ্জা পেল এবং সে চলে গেল। তাকে দেখতে না পেয়ে ওমর আল্লাহ তার সম্পর্কে লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন। লোকেরা বলল, আমরা দেখেছি তাকে বেশি দেওয়ার কারণে সে লজ্জা পেয়ে চলে গেছে। ওমর আল্লাহ বললেন, যদি সে এখানে থাকত তবে অর্থ-কড়ি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে আমরা দিতাম。
টিকাঃ
১১১
📄 অন্ধ মহিলার সেবায় ওমর রা.
একদিন ওমর আল্লাহ শেষ রাতে বের হয়ে মদিনার গলিতে হাঁটছিলেন। তখন তাঁকে তালহা বিন উবায়দুল্লাহ আল্লাহ দেখতে পেলেন। তালহা আল্লাহ জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের একজন ছিলেন। তিনি ওমার আল্লাহ-এর পিছু নিলেন। তিনি দেখলেন ওমর আল্লাহ ছোট একটি ঘরে প্রবেশ করলেন। এরপর তিনি সেখান থেকে ফিরে এলেন। সকাল হওয়ার পর তালহা আল্লাহ সে বাড়িতে গেলেন। গিয়ে দেখলেন সেখানে এক অন্ধ বৃদ্ধ মহিলা বসে আছে। সে মহিলাটি তাকে দেখতে পা না। তিনি ওই মহিলাকে জিজ্ঞেস করলেন, এ লোক তোমার কাছে কেন এসেছে? উদ্দেশ্য ওমার আল্লাহ। মহিলা বলল, সে অমুক দিন থেকে আমার সেবা করে এবং আমার থেকে কষ্টকর বস্তু দূর করে, আমার প্রয়োজনীয় জিনিস এনে দেয় এবং আমার দেখাশুনা করে। তখন তালহা আল্লাহ জানতে পারলেন যে, পৃথিবীতে ওমরের মতো আর কেউ নেই。
টিকাঃ
১১২ আল হুলিয়া, ৩য় খণ্ড, ৩২০ পৃ।
১১৩ হুলিয়াতুল আউলিয়া, ১ম খণ্ড, ৪৬ পৃ।
📄 আমার স্বামী মারা গেছে
ওমর আল্লাহ একদিন বাজারে নিজেরা প্রয়োজন অনুযায়ী হাঁটছিলেন। তখন তাঁর সাথে এক যুবতী মহিলা তার প্রয়োজনে দেখা করল। সে লজ্জার সাথে বলল, আমিরুল মুমীনীন, আমার স্বামী কয়েকটি সন্তান রেখে মারা গেছে। আল্লাহর শপথ! তাদের কোনো পশু বা বাবারা কোনো কিছুই নেই। আমার ভয় হচ্ছে তারা অভাবে শেষ হয়ে যাবে। আমি বুশরাহ বিন ইয়া আল গিফারীর মেয়ে, যিনি হুদায়বিয়ার যুদ্ধে নবী আল্লাহ-এর সাথে যুদ্ধ করেছিলেন।
তার কথা শুনে ওমর আল্লাহ দাঁড়িয়ে তালহা আল্লাহকে দিয়ে হাসিমুখে বললেন, শপথম! নিকটাত্মীয়তার শপথম। এরপর তিনি ঘরে বাঁধা একটি উটের কাছে গিয়ে দুই বুড়া বাবারা নিলেন। সাথে তাদের জন্যে কাপড়ও অন্যান্য আসবাবপত্র দিলেন। তারপর তিনি উটের লাগাম ওহ মহিলা হাতে দিয়ে বললেন, নাও, এগুলো শেষ হওয়ার পূর্বেই আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে আরো কিছু উট দান করবেন। এক লোক এগুলো দেওয়ার সময় তাকিয়ে দেখছিল। এরপর সে বলল, আমিরুল মুমীনীন, আপনি তো তাকে বেশি দিয়ে ফেললেন। ওমর আল্লাহ বললেন, তোমার মা তোমাকে হারাকো, আল্লাহর শপথ! আমি তার বাবা ও ভাইকে দেখেছি তারা অনেকদিন ধরে একটি দুর্গন্ধে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। অর্থাৎ কাফেরদের দুর্গন্ধ অবরোধের তারা অংশগ্রহণ করেছিল。
টিকাঃ
১১৫ বুখারী শরীফ, ৫ ম খণ্ড, ২৩৮।
📄 বন্দি আব্বাস রা.
বদরের যুদ্ধের দিন আনসারদের এক ব্যক্তি আব্বাস আল্লাহ-কে বন্দি করে। আনসাররা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। রাসূল আল্লাহ বললেন, আমি আমার চাচা আব্বাসের চিন্তায় ঘুমাতে পারিনি। আমি ধারণা করেছি আনসাররা তাঁকে হত্যা করে ফেলবে। ওমর আল্লাহ বললেন, আমি কী তাকে নিয়ে আসব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন ওমর আল্লাহ আনসারদের কাছে এসে বললেন, আব্বাসকে পাঠিয়ে দাও। তারা বলল, আল্লাহর শপথ! আমরা আব্বাসকে পাঠাব না। তিনি বললেন, যদি রাসূল আল্লাহ এতে খুশি হন। তারা বলল, রাসূল আল্লাহ যদি এতে খুশি থাকে তবে নাও। আব্বাস আল্লাহ-কে ওমর আল্লাহ গ্রহণ করলেন। কেননা খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ থেকে আপনার ইসলাম গ্রহণ আমার কাছে অধিক প্রিয়। এটা এ কারণে যে, আপনার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে রাসূল আল্লাহ-এর প্রচণ্ড আগ্রহ আমি দেখতে পেয়েছি。
টিকাঃ
১১৬ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, লি ইবনি কাসির, ৩য় খণ্ড, ২৬৭ পৃ।