📄 ওমর রা.-এর প্রভাব
ইবনে আব্বাস رضي الله عنه বলেন, আমি ওমর رضي الله عنه-এর একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব ভেবে এক বছর কাটিয়ে দিলাম, কিন্তু তাঁর প্রতি অধিক শ্রদ্ধা ও ভয়ের কারণে আমি তা জিজ্ঞেস করতে পারিনি। এরই মাঝে একদিন তিনি হজ্জ্বের হেরে গেলেন। আমিও তাঁর সাথে হজ্জ্ব বের হলাম। যখন আমরা ফিরে আসছিলাম তখন একদিন তিনি তাঁর প্রয়োজন পুরা করার জন্য বাহন থেকে নামলেন। আর আমি বসে বসে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তিনি প্রয়োজন পুরা করে ফিরে আসার পর আমরা আবার চলা শুরু করলাম। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আমীরুল মুমিনীন, রাসূল ﷺ-এর স্ত্রীদের মধ্যে কোন দুইজন প্রধানা পেয়েছেন। তিনি বললেন, হাফসা ও আয়েশা। ইবনে আব্বাস বলেন, আমি তাঁকে বললাম, আল্লাহ্র শপথ! আমি আপনাকে এক বছর ধরে এ প্রশ্নটি করতে অপেক্ষা করেছিলাম, কিন্তু আপনার প্রতি অধিক শ্রদ্ধা ও ভয়ের কারণে জিজ্ঞেস করতে পারিনি。
টিকাঃ
১৫৩ বুখারী শরীফ, ৪থ খন্ড, হাদিস নং ১৮৩৮।
📄 ওমর রা.-এর বেতনভাতা
একবার মুসলমানগণ ওমর رضي الله عنه-এর জন্য মাসিক বেতন নির্ধারণ করতে চাইলেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর সম্পদ থেকে ওমরের জন্য দুইটি কাপড় ব্যতীত অন্যকিছু বৈধ নয়। শীতকালে একটি কাপড় আর গ্রীষ্মকালে একটি কাপড়। .......আমার ভরণপোষণ আমার খাদ্য ও আমার পরিবারের ভরণপোষণ অন্য কোরাইশী লোকদের মতোই। আমি তাদের থেকে গরিবও নই আবার ধনীও নই। আর আমি তো মুসলমানদেরই একজন।
📄 রক্তপণ আদায় করলেন ওমর রা.
এক মহিলার স্বামী সফরে যাওয়ার বেপ কিছুক্ষণ পর সে গর্ভবতী হয়েছে। এ সংবাদটি ওমর আল্লাহ-এর কানে এসে পৌঁছল এবং তা লোকদের মুখে রটতে লাগল। ব্যাপারটি ওমর আল্লাহ খুবই অপছন্দ করলেন। তাই তিনি মহিলাকে ডেকে পাঠালেন। তখন মহিলা বলল, ওমরের কাছে আমার কী? এরপর সে ওমর আল্লাহ-এর কাছে রওনা হলো, কিন্তু পথে সে ব্যাপারটি নিয়ে ভীতু হয়ে গেল। প্রচণ্ড ভয় পাওয়ার কারণে তার প্রবল বেদনা শুরু হয়ে গেল। তখন সে পাশের একটি ঘরে প্রবেশ করল এবং একটি বাচ্চা প্রসব করল। বাচ্চাটি দুইবার চিৎকার দেওয়ার পর মারা গেল। তখন ব্যাপারটি নিয়ে ওমর আল্লাহ সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন। তখন তারা তাঁকে বলল, এতে আপনার কোনো দোষ নেই। আপনি তো দায়িত্বশীল এবং নিষ্ঠাবান শিক্ষক, কিন্তু হযরত আলী আল্লাহ কোনো মন্তব্য না করে চুপ রইলেন। তাকে চুপ থাকতে দেখে ওমর আল্লাহ তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, তুমি কী বল? আলী আল্লাহ বললেন, যদি তারা তাদের ধারণা মতো বলে থাকে তবে তারা ভুল বলেছে। আর যদি তারা আপনার অবস্থানের কারণে এমন বলে থাকে তবে তারা আপনার ভালো চায়নি। আমি দেখছি আপনার ওপর রুদগণ আবশ্যক। কেননা আপনিই মহিলাটিকে ভয় দেখিয়েছেন। আর মহিলাটি আপনার কাছে আসার সময় বাচ্চা প্রসব করেছে। তখন ওমর আল্লাহ বাচ্চার রুদগণ আদায় করে দিলেন এবং সে অর্থ কোরাইশদের মাঝে ভাগ করে দেওয়ার জন্যে আলী আল্লাহ-কে নির্দেশ দিলেন。
টিকাঃ
১১০ মাসায়িব আলীর রাদিয়াল্লাহু, ১৯৩ ও আল ফালু, ১৫৯ খণ্ড, ৪৪ পৃ।
📄 আল্লাহর রাস্তায় আঘাত
লোকজন তাদের ভাতা নেওয়ার জন্য ওমর আল্লাহ-এর কাছে একত্রিত হলো। তাদের সংখ্যা এত বেশি যে, সেখানে প্রচণ্ড ভিড় জমে গেল। ওমর আল্লাহ মাথা তুলে লোকদের দেখতে লাগলেন। তখন তিনি দেখতে পেলেন এক লোক মানুষের কাঁধের কাছে সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। যার চেহারায় আঘাতের দাগ আছে। যে দাগ তার চেহারার চামড়াকে দুই ভাগ করে দিয়েছে। লোকটি আসার পর তিনি তাকে আঘাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। উত্তর লোকটি বলল, এক যুদ্ধে আমি এ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি। এ কথা শুনে ওমর আল্লাহ বললেন, এ লোককে এক হাজার দিরহাম দাও। তারা তাকে এক হাজার দিরহাম দিলেন। এরপর তিনি আবার বললেন, তাকে আরো এক হাজার দিরহাম দাও। তারা তাকে আরো এক হাজার দিরহাম দিল। এভাবে তিনি চারবার তাকে এক হাজার দিরহাম করে দিতে বললেন। তারা তাকে চারবার এক হাজার দিরহাম করে মোট চার হাজার দিরহাম দিল। অন্যদের থেকে তাকে এত বেশি দেওয়ার কারণে সে লোকটি মনে লজ্জা পেল এবং সে চলে গেল। তাকে দেখতে না পেয়ে ওমর আল্লাহ তার সম্পর্কে লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন। লোকেরা বলল, আমরা দেখেছি তাকে বেশি দেওয়ার কারণে সে লজ্জা পেয়ে চলে গেছে। ওমর আল্লাহ বললেন, যদি সে এখানে থাকত তবে অর্থ-কড়ি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে আমরা দিতাম。
টিকাঃ
১১১