📄 ওমর রা. ও অনাবৃষ্টির বছর
ওমর رضي الله عنه-এর খেলাফতকালে মুসলমানদেরকে অনাবৃষ্টি আক্রান্ত করেছে। দিনের পর দিন চলে যাচ্ছে, কিন্তু আকাশ থেকে এক ফোঁটা বৃষ্টিও নামছে না আর জমিনও কিছু উৎপাদন করছে না। এমনকি জমিন ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। মনে হচ্ছিল জমিনকে আগুনে পুড়ানো হয়েছে। জমিনের রং ছাইয়ের মতো হয়ে গেছে। আর এ কারণে মানুষ ওই বছরের নাম দিল আমুল রমাদা অর্থাৎ ছাইয়ের বছর। বাইতুল মালে ও ওমর رضي الله عنه-এর তত্ত্বাবধানে খাদ্য ছিল। তিনি তা মানুষের মাঝে বন্টন করেছেন। কিন্তু তিনি শুধু শিরকা দিয়ে রুটি খেতেন, তিনি গোশত খেতেন না। এমনকি শেষ পর্যন্ত তাঁর শরীর দুর্বল হয়ে গেছে। তিনি মায়া ও খাওয়ার উপক্রম হলেন। যদি আল্লাহ্ বুদ্ধির ব্যবস্থা না করতেন তাহলে ওমর رضي الله عنه মুসলমানদের চিন্তায়ই মরে যেতেন।
📄 ওমর রা.-এর প্রভাব
ইবনে আব্বাস رضي الله عنه বলেন, আমি ওমর رضي الله عنه-এর একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব ভেবে এক বছর কাটিয়ে দিলাম, কিন্তু তাঁর প্রতি অধিক শ্রদ্ধা ও ভয়ের কারণে আমি তা জিজ্ঞেস করতে পারিনি। এরই মাঝে একদিন তিনি হজ্জ্বের হেরে গেলেন। আমিও তাঁর সাথে হজ্জ্ব বের হলাম। যখন আমরা ফিরে আসছিলাম তখন একদিন তিনি তাঁর প্রয়োজন পুরা করার জন্য বাহন থেকে নামলেন। আর আমি বসে বসে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তিনি প্রয়োজন পুরা করে ফিরে আসার পর আমরা আবার চলা শুরু করলাম। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আমীরুল মুমিনীন, রাসূল ﷺ-এর স্ত্রীদের মধ্যে কোন দুইজন প্রধানা পেয়েছেন। তিনি বললেন, হাফসা ও আয়েশা। ইবনে আব্বাস বলেন, আমি তাঁকে বললাম, আল্লাহ্র শপথ! আমি আপনাকে এক বছর ধরে এ প্রশ্নটি করতে অপেক্ষা করেছিলাম, কিন্তু আপনার প্রতি অধিক শ্রদ্ধা ও ভয়ের কারণে জিজ্ঞেস করতে পারিনি。
টিকাঃ
১৫৩ বুখারী শরীফ, ৪থ খন্ড, হাদিস নং ১৮৩৮।
📄 ওমর রা.-এর বেতনভাতা
একবার মুসলমানগণ ওমর رضي الله عنه-এর জন্য মাসিক বেতন নির্ধারণ করতে চাইলেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর সম্পদ থেকে ওমরের জন্য দুইটি কাপড় ব্যতীত অন্যকিছু বৈধ নয়। শীতকালে একটি কাপড় আর গ্রীষ্মকালে একটি কাপড়। .......আমার ভরণপোষণ আমার খাদ্য ও আমার পরিবারের ভরণপোষণ অন্য কোরাইশী লোকদের মতোই। আমি তাদের থেকে গরিবও নই আবার ধনীও নই। আর আমি তো মুসলমানদেরই একজন।
📄 রক্তপণ আদায় করলেন ওমর রা.
এক মহিলার স্বামী সফরে যাওয়ার বেপ কিছুক্ষণ পর সে গর্ভবতী হয়েছে। এ সংবাদটি ওমর আল্লাহ-এর কানে এসে পৌঁছল এবং তা লোকদের মুখে রটতে লাগল। ব্যাপারটি ওমর আল্লাহ খুবই অপছন্দ করলেন। তাই তিনি মহিলাকে ডেকে পাঠালেন। তখন মহিলা বলল, ওমরের কাছে আমার কী? এরপর সে ওমর আল্লাহ-এর কাছে রওনা হলো, কিন্তু পথে সে ব্যাপারটি নিয়ে ভীতু হয়ে গেল। প্রচণ্ড ভয় পাওয়ার কারণে তার প্রবল বেদনা শুরু হয়ে গেল। তখন সে পাশের একটি ঘরে প্রবেশ করল এবং একটি বাচ্চা প্রসব করল। বাচ্চাটি দুইবার চিৎকার দেওয়ার পর মারা গেল। তখন ব্যাপারটি নিয়ে ওমর আল্লাহ সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন। তখন তারা তাঁকে বলল, এতে আপনার কোনো দোষ নেই। আপনি তো দায়িত্বশীল এবং নিষ্ঠাবান শিক্ষক, কিন্তু হযরত আলী আল্লাহ কোনো মন্তব্য না করে চুপ রইলেন। তাকে চুপ থাকতে দেখে ওমর আল্লাহ তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, তুমি কী বল? আলী আল্লাহ বললেন, যদি তারা তাদের ধারণা মতো বলে থাকে তবে তারা ভুল বলেছে। আর যদি তারা আপনার অবস্থানের কারণে এমন বলে থাকে তবে তারা আপনার ভালো চায়নি। আমি দেখছি আপনার ওপর রুদগণ আবশ্যক। কেননা আপনিই মহিলাটিকে ভয় দেখিয়েছেন। আর মহিলাটি আপনার কাছে আসার সময় বাচ্চা প্রসব করেছে। তখন ওমর আল্লাহ বাচ্চার রুদগণ আদায় করে দিলেন এবং সে অর্থ কোরাইশদের মাঝে ভাগ করে দেওয়ার জন্যে আলী আল্লাহ-কে নির্দেশ দিলেন。
টিকাঃ
১১০ মাসায়িব আলীর রাদিয়াল্লাহু, ১৯৩ ও আল ফালু, ১৫৯ খণ্ড, ৪৪ পৃ।