📄 ওমর রা.-এর রাগ
একদিন উয়াইনাহ্ বিন হাসান মদিনা এসে তাঁর ভাতিজা হুর বিন কায়েসের কাছে অবস্থান নিল। হুর বিন কায়েস তাদের মধ্যে একজন যাদেরকে ওমর رضي الله عنه তাঁর কাছে রাখতেন। উয়াইনাহ্ তাঁর ভাতিজাকে বলল, এ আমীরের সাথে কি তোমার ভালো সম্পর্ক আছে? তাহলে তাঁর কাছে যেতে আমার জন্য অনুমতি নাও। ওমর رضي الله عنه তাকে অনুমতি দিলেন। উয়াইনাহ্ তাঁর কাছে এসে বলল, হে খাত্তাবের ছেলে! আপনি আমাদেরকে পরিপূরণ অংশ দেননি এবং আমাদের বিচারে ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করেননি।
এ কথা শুনা সাথে সাথে ওমর رضي الله عنه-এর পুরো শরীরে রাগে টশটশ করতে শুরু করল। তিনি উয়াইনাহকে শাস্তি দিতে উদ্যত হলেন। তখন হুর বিন কায়েস বলল, হে আমীরুল মুমিনীন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নবীকে বলেছেন, خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ ‘আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খ জাহেল থেকে দূরে সরে থাক।’ আর এ তো মূর্খের একজন। হুর বিন কায়েস ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে বলল, আল্লাহর শপথ! আয়াতটি তেলাওয়াতও সম্পূর্ণ না করতেই তাঁর রাগ একেবারে চলে গেল。
টিকাঃ
১৫২ তারিখু তাবারি, ২য় খন্ড, ইবনুল জাওযী ফিল মালাকিক, ১৪৫ পৃ.
📄 মধু ও আমীরুল মুমিনীবের স্ত্রী
আতিকা বিনতে যায়েদ নামে ওমর رضي الله عنه-এর একজন স্ত্রী ছিলেন। ওমর رضي الله عنه তখন মুসলিম জাহানের খলিফা। মুসলমানদের মাঝে বন্টন করার জন্য তিনি ইয়ামান থেকে মধু নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বললেন, মুসলমানদের মাঝে সমান করে বন্টন করে দিতে কে আমাকে এ মধুগুলো মেখে দিবে? তখন তাঁর স্ত্রী আতিকা বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আমি দিব। আমি মাপতে পারি। ওমর رضي الله عنه বললেন, তুমি, না। এতে আতিকা তাঁর ওপর রাগান্বিত হলেন। ওমর رضي الله عنه মধুগুলো নিয়ে বন্টন করতে চলে গেলেন। কেউ একজন তাঁকে তা মেপে দিচ্ছিলেন আর তিনি তা মুসলমানদের মাঝে বন্টন করছিলেন। তিনি তাঁর নিজের অংশ নিয়ে বাড়িতে ফিরে এলেন। এসে দেখলেন তাঁর স্ত্রী তাঁর ওপর রেগে আছেন। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাকে সন্দেহ করিনি; বরং আমার ভয় হয়েছিল, তুমি মধুগুলো মাপার পর তোমার হাতে মধু লেগে যাবে। সে মধুগুলো তুমি তোমার কাপড় দ্বারা পরিহার করবে এতেকরে অন্যান্য মুসলমানদেব থেকে ওমরের অংশ বেশি হয়ে যাবে।
📄 ওমর রা. ও অনাবৃষ্টির বছর
ওমর رضي الله عنه-এর খেলাফতকালে মুসলমানদেরকে অনাবৃষ্টি আক্রান্ত করেছে। দিনের পর দিন চলে যাচ্ছে, কিন্তু আকাশ থেকে এক ফোঁটা বৃষ্টিও নামছে না আর জমিনও কিছু উৎপাদন করছে না। এমনকি জমিন ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। মনে হচ্ছিল জমিনকে আগুনে পুড়ানো হয়েছে। জমিনের রং ছাইয়ের মতো হয়ে গেছে। আর এ কারণে মানুষ ওই বছরের নাম দিল আমুল রমাদা অর্থাৎ ছাইয়ের বছর। বাইতুল মালে ও ওমর رضي الله عنه-এর তত্ত্বাবধানে খাদ্য ছিল। তিনি তা মানুষের মাঝে বন্টন করেছেন। কিন্তু তিনি শুধু শিরকা দিয়ে রুটি খেতেন, তিনি গোশত খেতেন না। এমনকি শেষ পর্যন্ত তাঁর শরীর দুর্বল হয়ে গেছে। তিনি মায়া ও খাওয়ার উপক্রম হলেন। যদি আল্লাহ্ বুদ্ধির ব্যবস্থা না করতেন তাহলে ওমর رضي الله عنه মুসলমানদের চিন্তায়ই মরে যেতেন।
📄 ওমর রা.-এর প্রভাব
ইবনে আব্বাস رضي الله عنه বলেন, আমি ওমর رضي الله عنه-এর একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করব ভেবে এক বছর কাটিয়ে দিলাম, কিন্তু তাঁর প্রতি অধিক শ্রদ্ধা ও ভয়ের কারণে আমি তা জিজ্ঞেস করতে পারিনি। এরই মাঝে একদিন তিনি হজ্জ্বের হেরে গেলেন। আমিও তাঁর সাথে হজ্জ্ব বের হলাম। যখন আমরা ফিরে আসছিলাম তখন একদিন তিনি তাঁর প্রয়োজন পুরা করার জন্য বাহন থেকে নামলেন। আর আমি বসে বসে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তিনি প্রয়োজন পুরা করে ফিরে আসার পর আমরা আবার চলা শুরু করলাম। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আমীরুল মুমিনীন, রাসূল ﷺ-এর স্ত্রীদের মধ্যে কোন দুইজন প্রধানা পেয়েছেন। তিনি বললেন, হাফসা ও আয়েশা। ইবনে আব্বাস বলেন, আমি তাঁকে বললাম, আল্লাহ্র শপথ! আমি আপনাকে এক বছর ধরে এ প্রশ্নটি করতে অপেক্ষা করেছিলাম, কিন্তু আপনার প্রতি অধিক শ্রদ্ধা ও ভয়ের কারণে জিজ্ঞেস করতে পারিনি。
টিকাঃ
১৫৩ বুখারী শরীফ, ৪থ খন্ড, হাদিস নং ১৮৩৮।