📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 কঠোরতা ও কোমলতার মাঝে ওমর রা.

📄 কঠোরতা ও কোমলতার মাঝে ওমর রা.


একদা মুসলমানগণ আব্দুর রহমান رضي الله عنه-এর কাছে বলা ছিল। তারা বলল, আপনি ও ওমর رضي الله عنه-এর সাথে বলুন, কেননা আমরা তাকে ভয় পাই। আল্লাহর শপথ! আমরা তার দিকে চোখ তুলতেও সক্ষম নই। আব্দুর রহমান বিন আওফ মজলিসে থেকে আমীরুল মুমিনীনদের কাছে চলে গেলেন। তিনি তাঁর কাছে ব্যাপারটি খুলে বললেন। বিষয়টি জানতে পেয়ে ওমর رضي الله عنه রাগে ভুরু কুঞ্চিত করে বললেন, তারা এমন কথা বলেছে, আল্লাহর শপথ! আমি তাদের প্রতি কোমল হয়েছি আর এ ব্যাপারে আল্লাহকে ভয়ও করেছি। আবার আমি তাদের প্রতি কঠোর হয়েছি আর এ ব্যাপারে আল্লাহকে ভয়ও করেছি। আল্লাহর শপথ! আমার কঠোরতা নিয়ে তাদের থেকে আমি বেশি ভয় করি। .........তাহলে কোথায় যাব? এরপর তাঁর দুই চোখের পানি ঝরতে লাগল। তাঁর ঠোঁট কাঁপতে লাগল। তিনি বেশি কাঁদলেন যে, তাঁর বুকের ভেতরে গড় গড় শব্দ শুনা যাচ্ছিল। এরপর তিনি তাঁর চাদর টানতে টানতে উঠে গেলেন। আব্দুর রহমান বিন আওফ رضي الله عنه বললেন, তোমার পরে তাদের জন্য শুধু অফসোস。

টিকাঃ
১৫০ তাবাকাতু ইবনি সা'দ, ২য় খন্ড, ২১৮

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তাওরাতে ওমর রা.

📄 তাওরাতে ওমর রা.


এক দুপুরে ওমর رضي الله عنه জনৈক পাদ্রীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে একটি কিতাব দেখছিল। তখন তিনি তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা আমাদের সম্পর্কে তোমাদের কিছু পেয়েছ? পাদ্রী বলল, তোমাদের গুণাগুণ ও কর্মের বর্ণনা পেয়েছি তবে তোমাদের নাম পাইনি। তিনি বললেন, কেমন পেয়েছ? সে বলল, কুরবুন মিন হাদীদ। তিনি বললেন, কুরবুন মিন হাদীদ! এর মানে কী? সে বলল, কঠিন আমীর। এ কথা শুনে ওমর رضي الله عنه আনন্দে বললেন, আল্লাহু আকবার, আল হামদুলিল্লাহ্ (আল্লাহ্ বড়, সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য)

টিকাঃ
১৫১ সুনানু ইবনি দাউদ, হাদিস নং ৪৫০৬।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওমর রা.-এর রাগ

📄 ওমর রা.-এর রাগ


একদিন উয়াইনাহ্ বিন হাসান মদিনা এসে তাঁর ভাতিজা হুর বিন কায়েসের কাছে অবস্থান নিল। হুর বিন কায়েস তাদের মধ্যে একজন যাদেরকে ওমর رضي الله عنه তাঁর কাছে রাখতেন। উয়াইনাহ্ তাঁর ভাতিজাকে বলল, এ আমীরের সাথে কি তোমার ভালো সম্পর্ক আছে? তাহলে তাঁর কাছে যেতে আমার জন্য অনুমতি নাও। ওমর رضي الله عنه তাকে অনুমতি দিলেন। উয়াইনাহ্ তাঁর কাছে এসে বলল, হে খাত্তাবের ছেলে! আপনি আমাদেরকে পরিপূরণ অংশ দেননি এবং আমাদের বিচারে ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করেননি।
এ কথা শুনা সাথে সাথে ওমর رضي الله عنه-এর পুরো শরীরে রাগে টশটশ করতে শুরু করল। তিনি উয়াইনাহকে শাস্তি দিতে উদ্যত হলেন। তখন হুর বিন কায়েস বলল, হে আমীরুল মুমিনীন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নবীকে বলেছেন, خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ ‘আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খ জাহেল থেকে দূরে সরে থাক।’ আর এ তো মূর্খের একজন। হুর বিন কায়েস ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে বলল, আল্লাহর শপথ! আয়াতটি তেলাওয়াতও সম্পূর্ণ না করতেই তাঁর রাগ একেবারে চলে গেল。

টিকাঃ
১৫২ তারিখু তাবারি, ২য় খন্ড, ইবনুল জাওযী ফিল মালাকিক, ১৪৫ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 মধু ও আমীরুল মুমিনীবের স্ত্রী

📄 মধু ও আমীরুল মুমিনীবের স্ত্রী


আতিকা বিনতে যায়েদ নামে ওমর رضي الله عنه-এর একজন স্ত্রী ছিলেন। ওমর رضي الله عنه তখন মুসলিম জাহানের খলিফা। মুসলমানদের মাঝে বন্টন করার জন্য তিনি ইয়ামান থেকে মধু নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বললেন, মুসলমানদের মাঝে সমান করে বন্টন করে দিতে কে আমাকে এ মধুগুলো মেখে দিবে? তখন তাঁর স্ত্রী আতিকা বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আমি দিব। আমি মাপতে পারি। ওমর رضي الله عنه বললেন, তুমি, না। এতে আতিকা তাঁর ওপর রাগান্বিত হলেন। ওমর رضي الله عنه মধুগুলো নিয়ে বন্টন করতে চলে গেলেন। কেউ একজন তাঁকে তা মেপে দিচ্ছিলেন আর তিনি তা মুসলমানদের মাঝে বন্টন করছিলেন। তিনি তাঁর নিজের অংশ নিয়ে বাড়িতে ফিরে এলেন। এসে দেখলেন তাঁর স্ত্রী তাঁর ওপর রেগে আছেন। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাকে সন্দেহ করিনি; বরং আমার ভয় হয়েছিল, তুমি মধুগুলো মাপার পর তোমার হাতে মধু লেগে যাবে। সে মধুগুলো তুমি তোমার কাপড় দ্বারা পরিহার করবে এতেকরে অন্যান্য মুসলমানদেব থেকে ওমরের অংশ বেশি হয়ে যাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00