📄 হাফসা রা.-এর জন্যে রাসূল সা.-এর প্রস্তাব
ইসলামের প্রথম যুগে ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম বুনাইসা رضي الله عنه বদরের যুদ্ধে শহীদ হন। তিনি ছিলেন ওমর رضي الله عنه-এর মেয়ে হাফসার স্বামী। হাফসা رضي الله عنه-এর ইদ্দত শেষ হওয়ার পর ওমর ও উসমান رضي الله عنه-এর সাথে দেখা করেন। তিনি উসমান رضي الله عنه-কে হাফসার ব্যাপারে প্রস্তাব দিয়ে বললেন, তুমি চাইলে আমি হাফসাকে তোমার কাছে বিয়ে দিই। উসমান رضي الله عنه বললেন, আমি বিষয়টি চিন্তা করে দেখব। কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর উসমান رضي الله عنه ওমর رضي الله عنه-এর কাছে গিয়ে বললেন, এ সময়ে আমি বিয়ে না করাই ভালো মনে করছি। এরপর ওমর رضي الله عنه আবূ বকর رضي الله عنه-এর কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলেন। তিনি তাঁকে বললেন, তুমি চাইলে আমি হাফসাকে তোমার সাথে বিয়ে দিব। তখন হযরত আবূ বকর চুপ করে ছিলেন। তিনি এ কথার কোনো উত্তরই দেননি। এতে ওমর رضي الله عنه উসমানের প্রতি যতটুকু অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন এর থেকে বেশি তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এর কয়েক দিন পর রাসুল ﷺ হাফসার জন্য প্রস্তাব দিলেন। রাসুল ﷺ প্রস্তাব দেওয়ার পর আবূ বকর رضي الله عنه ও ওমর رضي الله عنه-এর সাথে দেখা করলেন। তিনি তাঁকে বললেন, যখন তুমি আমাকে হাফসার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলে তখন আমি কোনো উত্তর দেইনি। ওমর رضي الله عنه বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমাকে অন্য কোনো কারণে তোমার দেওয়া প্রস্তাব থেকে বিমুখ করেনি; বরং আমি শুনে পেয়েছি রাসুল ﷺ হাফসার কথা উল্লেখ করেছেন আর তাই আমি চাইনি রাসুল ﷺ-এর গোপনীয়তা প্রকাশ করে দিতে। যদি তিনি তাকে না চাইতেন তবে অবশ্যই আমি গ্রহণ করতাম。
টিকাঃ
১৪৯ বুখারী শরীফ, হাদিস নং ৫১০৬।
📄 কঠোরতা ও কোমলতার মাঝে ওমর রা.
একদা মুসলমানগণ আব্দুর রহমান رضي الله عنه-এর কাছে বলা ছিল। তারা বলল, আপনি ও ওমর رضي الله عنه-এর সাথে বলুন, কেননা আমরা তাকে ভয় পাই। আল্লাহর শপথ! আমরা তার দিকে চোখ তুলতেও সক্ষম নই। আব্দুর রহমান বিন আওফ মজলিসে থেকে আমীরুল মুমিনীনদের কাছে চলে গেলেন। তিনি তাঁর কাছে ব্যাপারটি খুলে বললেন। বিষয়টি জানতে পেয়ে ওমর رضي الله عنه রাগে ভুরু কুঞ্চিত করে বললেন, তারা এমন কথা বলেছে, আল্লাহর শপথ! আমি তাদের প্রতি কোমল হয়েছি আর এ ব্যাপারে আল্লাহকে ভয়ও করেছি। আবার আমি তাদের প্রতি কঠোর হয়েছি আর এ ব্যাপারে আল্লাহকে ভয়ও করেছি। আল্লাহর শপথ! আমার কঠোরতা নিয়ে তাদের থেকে আমি বেশি ভয় করি। .........তাহলে কোথায় যাব? এরপর তাঁর দুই চোখের পানি ঝরতে লাগল। তাঁর ঠোঁট কাঁপতে লাগল। তিনি বেশি কাঁদলেন যে, তাঁর বুকের ভেতরে গড় গড় শব্দ শুনা যাচ্ছিল। এরপর তিনি তাঁর চাদর টানতে টানতে উঠে গেলেন। আব্দুর রহমান বিন আওফ رضي الله عنه বললেন, তোমার পরে তাদের জন্য শুধু অফসোস。
টিকাঃ
১৫০ তাবাকাতু ইবনি সা'দ, ২য় খন্ড, ২১৮
📄 তাওরাতে ওমর রা.
এক দুপুরে ওমর رضي الله عنه জনৈক পাদ্রীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে একটি কিতাব দেখছিল। তখন তিনি তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা আমাদের সম্পর্কে তোমাদের কিছু পেয়েছ? পাদ্রী বলল, তোমাদের গুণাগুণ ও কর্মের বর্ণনা পেয়েছি তবে তোমাদের নাম পাইনি। তিনি বললেন, কেমন পেয়েছ? সে বলল, কুরবুন মিন হাদীদ। তিনি বললেন, কুরবুন মিন হাদীদ! এর মানে কী? সে বলল, কঠিন আমীর। এ কথা শুনে ওমর رضي الله عنه আনন্দে বললেন, আল্লাহু আকবার, আল হামদুলিল্লাহ্ (আল্লাহ্ বড়, সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য)
টিকাঃ
১৫১ সুনানু ইবনি দাউদ, হাদিস নং ৪৫০৬।
📄 ওমর রা.-এর রাগ
একদিন উয়াইনাহ্ বিন হাসান মদিনা এসে তাঁর ভাতিজা হুর বিন কায়েসের কাছে অবস্থান নিল। হুর বিন কায়েস তাদের মধ্যে একজন যাদেরকে ওমর رضي الله عنه তাঁর কাছে রাখতেন। উয়াইনাহ্ তাঁর ভাতিজাকে বলল, এ আমীরের সাথে কি তোমার ভালো সম্পর্ক আছে? তাহলে তাঁর কাছে যেতে আমার জন্য অনুমতি নাও। ওমর رضي الله عنه তাকে অনুমতি দিলেন। উয়াইনাহ্ তাঁর কাছে এসে বলল, হে খাত্তাবের ছেলে! আপনি আমাদেরকে পরিপূরণ অংশ দেননি এবং আমাদের বিচারে ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করেননি।
এ কথা শুনা সাথে সাথে ওমর رضي الله عنه-এর পুরো শরীরে রাগে টশটশ করতে শুরু করল। তিনি উয়াইনাহকে শাস্তি দিতে উদ্যত হলেন। তখন হুর বিন কায়েস বলল, হে আমীরুল মুমিনীন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নবীকে বলেছেন, خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ ‘আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খ জাহেল থেকে দূরে সরে থাক।’ আর এ তো মূর্খের একজন। হুর বিন কায়েস ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে বলল, আল্লাহর শপথ! আয়াতটি তেলাওয়াতও সম্পূর্ণ না করতেই তাঁর রাগ একেবারে চলে গেল。
টিকাঃ
১৫২ তারিখু তাবারি, ২য় খন্ড, ইবনুল জাওযী ফিল মালাকিক, ১৪৫ পৃ.