📄 মাজলুমের প্রতিশোধে ওমর রা.
অক্ষুণ্ণ নয়নে এক ব্যক্তি ওমর (রাঃ)-এর কাছে সাহায্য চেয়ে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আমি আপনার কাছে জুলুম থেকে আশ্রয় চাই। ওমর (রাঃ) রাগে কপাল সঙ্কুচিত করে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, আমি তোমাকে জুলুম থেকে আশ্রয় দিলাম। সে বলল, আমি ইবনে আমেরের আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা করে তাকে পেছনে ফেলে আমি সামনে চলে গেলাম। তখন সে আমাকে চাবুক দিয়ে মারতে লাগল আর বলতে লাগল, আমি সম্মানিত মানুষের সন্তান। তখন ওমর (রাঃ) আমের (রাঃ)-এর কাছে চিঠি লিখে তাঁকে ও তাঁর পুত্রকে আসার নির্দেশ দিলেন।
তারা মদিনায় আসার পর ওমর (রাঃ) জোলকে বললেন, মিশরের সে লোক কোথায়? তখন লোকটি এগিয়ে আসল। ওমর (রাঃ) তাঁর দূত্তার সাথে বললেন, চাবুক ধর, তাকে মার। এরপর লোকটি চাবুক দিয়ে ধনুষভঙ্গ হওয়ায় ডাকিয়ে আমের (রাঃ)-এর ছেলের পিঠে মারতে লাগলেন। সে খেজুর গাছের সাথে বাঁধা ছিল। হযরত ওমর (রাঃ) পাশে থেকে সে মিশরীয়কে বলতে লাগলেন, মার, সম্মানিত মানুষের পোলাকে মার। হযরত আনাস (রাঃ) বললেন, লোকটি তাকে মারছিল, আল্লাহ্র শপথ! আমরা সে মারা পছন্দ করেছি। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত আশা করেছি সে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে মেরেছে। তারপর সে বলল, আমীরুল মুমিনীন, সে আমাকে মেরেছে। আর আমিও তার থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। এরপর ওমর (রাঃ) আমের (রাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, কখন থেকে তোমরা মানুষকে গোলাম বানিয়েছ অথচ তাদের মা তাদেরকে স্বাধীন হিসেবে প্রসব করেছে। তখন ওমর (রাঃ) মাথা নিচু করে বললেন, আমি বিষয়টি জানতে পারিনি আর সেও আমার কাছে আসেনি。
টিকাঃ
¹⁵⁴ মুনতাবাবুল কানযিল উম্মাল, ৪থ খণ্ড, ৪২০ পৃ.
📄 নিজ সন্তানকে চুমু দিচ্ছেন ওমর রা.
আরবের বনু আসাদের এক লোক ওমর (রাঃ)-এর কাছে আসল। ওমর (রাঃ) তাকে এক রাজ্যের গভর্ণর নিযুক্ত করেছিলেন। সে এসে ওমর (রাঃ)-কে দেখল তিনি তাঁর ছেলেকে চুমু দিচ্ছিলেন। তখন সে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আমি কখনো আমার সন্তানকে চুমু দিইনি। এ কথা শুনে ওমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র শপথ! মানুষের সন্তানদের ব্যাপারে তোমার দয়া আরো কম। তুমি আমাদের চুক্তি ফিরিয়ে দাও আমাদের জন্যে আর তুমি কাজ করবে না। আল্লাহ তা'আলা তোমার অন্তর থেকে দয়া তুলে নিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁর দয়ালু বান্দাদের ওপর অধিক দয়া করেন। তারপর তিনি আরো বললেন, যে নিজের সন্তানদেরকে দয়া করে না। সুতরাং কীভাবে সে মুসলমানদের ওপর দয়া করবে。
টিকাঃ
¹⁵⁵ তারীখুল নিহলা জুযআ, ২য় খণ্ড, ২২২ পৃ.
📄 ইসলাম ত্যাগকারী এক ব্যক্তি
জান্নাত যুদ্ধের পর মুসলমানরা বিজয় লাভ করে পারস্যের তুসতর শহরে প্রবেশ করল। তুসতর শহর বিজয় করার পর বিজয়ী সৈন্যরা ওমর রضي الله عنه-এর কাছে আসল। তিনি তাদেরকে বললেন, কোনো ঘটনা ঘটেছে? তারা বলল, হ্যাঁ, মুসলমানদের এক লোক ইসলাম ত্যাগ করেছে। তিনি বললেন, তোমরা কি করেছ? তারা বলল, আমরা তাকে হত্যা করেছি। তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, তোমরা তাকে আল্লাহর ঘরে আটকে রেখে খানা-দানা দিয়ে কয়েক দিন আটকে ভাওয়ার সুযোগ দিতে পারনি? তারপর তিনি আল্লাহর কাছে কাতর স্বরে বললেন, হে আল্লাহ যা ঘটেছে তা আমি দেখিনি, হত্যার ব্যাপারেও আমি আদেশ দেইনি, আর বিষয়টি আমি জানার পরে খুশিরও হয়নি。
টিকাঃ
১৪৭ মারাজিদুল আমীরিল মু’মিনীন, ৬৮ পৃ.
📄 নিজের সন্তানকে বেত্রাঘাত করলেন ওমর রা.
একদিন রাতে তীব্র অন্ধকারে ওমর رضي الله عنه-এর ছেলে আব্দুর রহমান ও উবাই সারওয়ারিয়ার মাথায় শয়তান চেপে বসল। তারা রাতে মদ্যপান করল। এমনকি মদের নেশায় মাতাল হয়ে গেলেন, কিন্তু সকাল হওয়ার পর তারা অনুতপ্ত হয়ে দ্রুত মিশরের আমীর আমর বিন আস رضي الله عنه-এর কাছে ছুটে এলেন। তারা তাঁকে কেঁদে কেঁদে বললেন, আমাদেরকে পবিত্র করুন। আমরা মদ খেয়ে মাতাল হয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমর رضي الله عنه বললেন, তোমরা ঘরে প্রবেশ কর, আমি তোমাদেরকে পবিত্র করছি। তারা দুইজন ঘরে প্রবেশ করার পর আমর رضي الله عنه তাদের মাথা মুড়িয়ে বেত্রাঘাত করলেন। এদিকে ওমর رضي الله عنه এ ঘটনা শুনতে পেয়ে আমর رضي الله عنه-কে লিখে পাঠালেন, তিনি যেন তাঁর ছেলে আব্দুর রহমানকে নিয়মানুসারে একটি বাহনে করে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেন। আমর رضي الله عنه তেমনই করলেন।
আব্দুর রহমান رضي الله عنه যখন ওমর رضي الله عنه-এর কাছে আসলেন। তিনি তাঁকে বেত্রাঘাত করলেন ও এমন কাজ করার কারণে শাস্তি দিলেন। তবে তিনি পুনরায় মদ খাওয়ার মদ ওপর জারি করেননি। এরপর তিনি তাঁকে তাঁর জায়গায় পাঠিয়ে দিলেন। সেখানে যাওয়ার এক মাস পর আব্দুর রহমান رضي الله عنه ইন্তিকাল করলেন。
টিকাঃ
১৪৮ আসসুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, ৮খ, শত ৭২, ৩৯৬ পৃ.