📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তুমি ন্যায়বিচার করেছ

📄 তুমি ন্যায়বিচার করেছ


রোম সম্রাট ওমর (রাঃ)-এর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্যে একজন দূত পাঠালেন। মদিনা এসে দূত কোনো ধরনের প্রাসাদ দেখল না। যা দ্বারা বুঝা যায় যে, বাদশা এখানে থাকেন। সে মদিনার লোকেদেরকে জিজ্ঞেস করল, তোমাদের বাদশাহ কোথায়? তারা বলল, আমাদের কোনো বাদশাহ নেই। তবে আমাদের একজন আমীর আছেন। তিনি মদিনার পথে বের হয়েছেন। তখন দূত ওমর (রাঃ)-কে খোঁজার জন্যে রাস্তায় বের হলো। অবশেষে সে ওমর (রাঃ)-কে একটি খেজুর গাছের নিচে ঘুমন্ত পেল। তিনি তাঁর লাঠি ওপরে মাথা রেখে মাটিতে শুয়ে আছেন অথচ তাঁর পাশে কোনো দেহরক্ষী নেই। ওমর (রাঃ)-এর এ অবস্থা দেখে দূতের অন্তরে ভয় সৃষ্টি হলো। সে ভাবতে লাগল, যার ভয়ে রাজা-টিকমতোরা স্থির থাকতে পারছে না আর তাঁর অবস্থা এমন! সে মনে মনে বলতে লাগল, ওমর! তুমি ন্যায়নীতি অনুসরণ করেছ তাই তুমি এভাবে ঘুমাচ্ছ। আর আমার সম্রাট তো জুলুম করে যাচ্ছে এ কারণে সে ভয়ে নিদ্রাহীন রাত যাপন করে কাটাতেও মাঝে আমার কোনো দুঃখ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তোমাদের ধর্ম সত্য। আমি যদি দূত হিসেবে আগমন না করতাম তবে অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করতাম। তবে অবশ্যই আমি আবার ফিরে আসব। এসে ইসলাম গ্রহণ করব。

টিকাঃ
¹⁵² তারীখে ওমর, ৫২৩ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বিশ্বাসঘাতক ইহুদি

📄 বিশ্বাসঘাতক ইহুদি


ওমর (রাঃ) সিরিয়া আসার পর আয়াতাত্বাক্রান্ত এক ইহুদি এসে তাঁকে বলল, আমীরুল মুমিনীন, মুমিনদের এক লোক আমাকে এমন করেছে যেমনি আপনি দেখছেন। লোকটির গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখে ওমর (রাঃ) খুব রেগে গেলেন। তখন তিনি সুহায়াইবকে বললেন, যাও, গিয়ে শেখ কে তাকে মেরেছে। হযরত সুহায়াইব গিয়ে দেখলেন লোকটি আউফ বিন মালিক আশআরী। যখন আউফ বিন মালিককে হাজির করা হলো তখন তাকে ওমর (রাঃ) বললেন, তোমার আর এর মাঝে কী হয়েছে? তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আমি দেখেছি সে এক মুসলিম মহিলাকে গাথার পিঠে করে জোর করে নিয়ে যাচ্ছে। তখন আমি তাকে আঘাত করি যাতে করে মহিলাটিকে তার থেকে বাঁচাতে পারি.......। এ কথা শুনে ওমর (রাঃ) বললেন, তুমি যা বলছ তা প্রমাণ করতে সেই মহিলাকে নিয়ে আস। তখন মহিলার স্বামী ও পিতা এসে আউফ বিন মালিককে প্রমাণ করলেন। ওমর (রাঃ) ইহুদি এবং এমন কাজের শাস্তিস্বরূপ তাকে শুলিতে চড়ানোর নির্দেশ দিলেন। তারপর তিনি বললেন, তোমাদের এমন কাজে আমাদের সৎকর্মশীলরা নেই। এরপর তিনি বললেন, তোমরা মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর নিরাপত্তার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। তোমাদের মধ্যে যে রূপ করবে তার জন্যে কোনো নিরাপত্তা নেই。

টিকাঃ
¹⁵³ কানযুল উম্মাল, ৪র্থ খণ্ড, ৪১০ পৃ.। ফারী-১১

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 মাজলুমের প্রতিশোধে ওমর রা.

📄 মাজলুমের প্রতিশোধে ওমর রা.


অক্ষুণ্ণ নয়নে এক ব্যক্তি ওমর (রাঃ)-এর কাছে সাহায্য চেয়ে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আমি আপনার কাছে জুলুম থেকে আশ্রয় চাই। ওমর (রাঃ) রাগে কপাল সঙ্কুচিত করে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, আমি তোমাকে জুলুম থেকে আশ্রয় দিলাম। সে বলল, আমি ইবনে আমেরের আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা করে তাকে পেছনে ফেলে আমি সামনে চলে গেলাম। তখন সে আমাকে চাবুক দিয়ে মারতে লাগল আর বলতে লাগল, আমি সম্মানিত মানুষের সন্তান। তখন ওমর (রাঃ) আমের (রাঃ)-এর কাছে চিঠি লিখে তাঁকে ও তাঁর পুত্রকে আসার নির্দেশ দিলেন।
তারা মদিনায় আসার পর ওমর (রাঃ) জোলকে বললেন, মিশরের সে লোক কোথায়? তখন লোকটি এগিয়ে আসল। ওমর (রাঃ) তাঁর দূত্তার সাথে বললেন, চাবুক ধর, তাকে মার। এরপর লোকটি চাবুক দিয়ে ধনুষভঙ্গ হওয়ায় ডাকিয়ে আমের (রাঃ)-এর ছেলের পিঠে মারতে লাগলেন। সে খেজুর গাছের সাথে বাঁধা ছিল। হযরত ওমর (রাঃ) পাশে থেকে সে মিশরীয়কে বলতে লাগলেন, মার, সম্মানিত মানুষের পোলাকে মার। হযরত আনাস (রাঃ) বললেন, লোকটি তাকে মারছিল, আল্লাহ্র শপথ! আমরা সে মারা পছন্দ করেছি। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত আশা করেছি সে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে মেরেছে। তারপর সে বলল, আমীরুল মুমিনীন, সে আমাকে মেরেছে। আর আমিও তার থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। এরপর ওমর (রাঃ) আমের (রাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, কখন থেকে তোমরা মানুষকে গোলাম বানিয়েছ অথচ তাদের মা তাদেরকে স্বাধীন হিসেবে প্রসব করেছে। তখন ওমর (রাঃ) মাথা নিচু করে বললেন, আমি বিষয়টি জানতে পারিনি আর সেও আমার কাছে আসেনি。

টিকাঃ
¹⁵⁴ মুনতাবাবুল কানযিল উম্মাল, ৪থ খণ্ড, ৪২০ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 নিজ সন্তানকে চুমু দিচ্ছেন ওমর রা.

📄 নিজ সন্তানকে চুমু দিচ্ছেন ওমর রা.


আরবের বনু আসাদের এক লোক ওমর (রাঃ)-এর কাছে আসল। ওমর (রাঃ) তাকে এক রাজ্যের গভর্ণর নিযুক্ত করেছিলেন। সে এসে ওমর (রাঃ)-কে দেখল তিনি তাঁর ছেলেকে চুমু দিচ্ছিলেন। তখন সে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আমি কখনো আমার সন্তানকে চুমু দিইনি। এ কথা শুনে ওমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র শপথ! মানুষের সন্তানদের ব্যাপারে তোমার দয়া আরো কম। তুমি আমাদের চুক্তি ফিরিয়ে দাও আমাদের জন্যে আর তুমি কাজ করবে না। আল্লাহ তা'আলা তোমার অন্তর থেকে দয়া তুলে নিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁর দয়ালু বান্দাদের ওপর অধিক দয়া করেন। তারপর তিনি আরো বললেন, যে নিজের সন্তানদেরকে দয়া করে না। সুতরাং কীভাবে সে মুসলমানদের ওপর দয়া করবে。

টিকাঃ
¹⁵⁵ তারীখুল নিহলা জুযআ, ২য় খণ্ড, ২২২ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00