📄 ওমর রা. ও এক পাদ্রী
একদিন ওমর (রাঃ) এক পাদ্রীর গির্জার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়ালেন। তাঁকে সেখানে পাদ্রী ডেকে নিল। পাদ্রীকে বলা হলো, এ হচ্ছে আমীরুল মুমিনীন। এ কথা শুনে পাদ্রী দ্রুত দৌড়ে আসল। দুনিয়া ত্যাগ করে ধ্যানমগ্ন থাকার কারণে তার শরীর দুর্বল ও হালকা হয়ে গেল। তাঁর এ অবস্থা দেখে ওমর (রাঃ) খুবই কান্না করলেন। তখন তাকে বলা হলো, এ লোক তো খ্রিস্টান।
তিনি বললেন, আমি জানি, কিন্তু আল্লাহ তা'আলার বান্দার কথা আমার মনে পড়ে গেল। `تَنالُ حَامِيَةً - عَامِلَةٌ نَّاصِبَةٌ` "ক্লান্ত, ক্লান্ত। তারা জ্বলন্ত আগুনে পতিত হবে।" (সূরা গাশিয়া, ৩,৪) তার জন্যে আমার মায়া হলো, কেননা সে এত কষ্ট করার পরও জাহান্নামী হবে。
টিকাঃ
¹⁴৯ মুনতাবাবুল কানযিল উম্মাল, ২য় খণ্ড, ৬২ পৃ.
📄 ওমর রা. এক মাস অসুস্থ
এক রাতে ওমর (রাঃ) গাথায় চড়ে বের হলেন। তিনি মদিনার অলি-গলিতে ঘুরছিলেন। ঘুরে ঘুরে মানুষের অবস্থা দেখছিলেন। চলতে চলতে তিনি এক আনসারের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এমন সময় তিনি দেখলেন ওই আনসারী সাহাবী নামাযে দাঁড়িয়েছেন। তিনি তাঁর কেরাআত শুনার জন্যে সেখানে দাঁড়ালেন। আনসারী সাহাবী নামাযে কেরাআত পড়া শুরু করলেন, `وَالطُّورِ. وَكِتَابٍ مَّسْطُورٍ.فِي رَقٍّ مَّنشُورٍ.وَالْبَيْتِ الْمَعْمُورِ. وَالسَّقْفِ الْمَرْفُوعِ.وَالْبَحْرِ الْمَسْجُورِ. إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعٌ.` "কসম তুর পর্বতের এবং লিখিত কিতাবের, প্রশস্ত পত্রের। কসম বায়তুল মামুরের, কসম সুউচ্চ ছাদের এবং উত্তাল সমুদ্রের। আপনার প্রভুর শাস্তি অবধারিত।" (সূরা তুর: ১-৭) তখন ওমর (রাঃ) বললেন, বায়তুল্লাহর প্রভুর শপথ! সত্য। তারপর তিনি তাঁর গাথা থেকে নেমে প্রাচীরের সাথে হেলান দিয়ে আনসারী সাহাবীর তেলাওয়াত শুনতে লাগলেন। এরপর তিনি তাঁর বাড়িতে ফিরে আসলেন এবং তখন থেকে দীর্ঘ এক মাস পর্যন্ত তিনি অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু মানুষ জান্তেও পারেনি তাঁর কী অসুখ ছিল。
টিকাঃ
¹⁵⁰ মানাকিবু আমিরিল মুমিনীন, ৭৬ পৃ.
📄 ওমর রা. ও পারস্যের সম্রাট হুরমুজ
পরাজিত ও অপমানিত হুরমুজ বন্দি অবস্থায় ওমর (রাঃ)-এর সামনে বসল। ওমর (রাঃ) তাকে বললেন, কথা বল। সে বলল, আমি কী জীবিতদের ন্যায় কথা বলব নাকি মৃতদের ন্যায় কথা বলব। তিনি বললেন, জীবিতদের ন্যায় কথা বল। সে বলল, জাহেলী যুগে আমাদের তোমাদের কোনো ধর্ম ছিল না। আমরা তোমাদেরকে কুকুরের ন্যায় হেয় করে দিয়েছি। এরপর যখন আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে তাঁর ধর্ম দ্বারা সম্মানিত করেছেন এবং তোমাদের মাঝে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন তখন আমরা তোমাদের আনুগত্য করিনি। তখন ওমর (রাঃ) বললেন, তুমি আমাদের হাতে বন্দি থেকে এমন কথা বলছ, তোমাকে হত্যা করব। তখন সে বলল, তোমার নবী কী কী শিক্ষা দিয়েছেন যে, তোমরা কোনো বন্দিকে নিরাপত্তা দেওয়ার পর তাকে হত্যা করবে? তিনি বললেন, আমি কখন তোমাকে নিরাপত্তা দিয়েছি। সে বলল, তুমি আমাকে বলেছ আমি যেন জীবিতদের ন্যায় কথা বলি, আর ভীতিরা তো বেঁচে না থাকারই ভয় করে। তখন ওমর (রাঃ) আফসোসের সাথে বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁকে হত্যা করত.........সে নিরাপত্তা দিয়েছে অথচ আমি বুঝতেই পারিনি。
টিকাঃ
¹⁵¹ তাফসীরুল ইবনিল কায়্যিম, ১ম খণ্ড, ৮৬ পৃ. ও আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭ম খণ্ড, ৮৭ পৃ.
📄 তুমি ন্যায়বিচার করেছ
রোম সম্রাট ওমর (রাঃ)-এর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্যে একজন দূত পাঠালেন। মদিনা এসে দূত কোনো ধরনের প্রাসাদ দেখল না। যা দ্বারা বুঝা যায় যে, বাদশা এখানে থাকেন। সে মদিনার লোকেদেরকে জিজ্ঞেস করল, তোমাদের বাদশাহ কোথায়? তারা বলল, আমাদের কোনো বাদশাহ নেই। তবে আমাদের একজন আমীর আছেন। তিনি মদিনার পথে বের হয়েছেন। তখন দূত ওমর (রাঃ)-কে খোঁজার জন্যে রাস্তায় বের হলো। অবশেষে সে ওমর (রাঃ)-কে একটি খেজুর গাছের নিচে ঘুমন্ত পেল। তিনি তাঁর লাঠি ওপরে মাথা রেখে মাটিতে শুয়ে আছেন অথচ তাঁর পাশে কোনো দেহরক্ষী নেই। ওমর (রাঃ)-এর এ অবস্থা দেখে দূতের অন্তরে ভয় সৃষ্টি হলো। সে ভাবতে লাগল, যার ভয়ে রাজা-টিকমতোরা স্থির থাকতে পারছে না আর তাঁর অবস্থা এমন! সে মনে মনে বলতে লাগল, ওমর! তুমি ন্যায়নীতি অনুসরণ করেছ তাই তুমি এভাবে ঘুমাচ্ছ। আর আমার সম্রাট তো জুলুম করে যাচ্ছে এ কারণে সে ভয়ে নিদ্রাহীন রাত যাপন করে কাটাতেও মাঝে আমার কোনো দুঃখ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তোমাদের ধর্ম সত্য। আমি যদি দূত হিসেবে আগমন না করতাম তবে অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করতাম। তবে অবশ্যই আমি আবার ফিরে আসব। এসে ইসলাম গ্রহণ করব。
টিকাঃ
¹⁵² তারীখে ওমর, ৫২৩ পৃ.