📄 ওমর রা.-এর দোয়ার বরকত
লোকটি সিরিয়ার অধিবাসী। যুদ্ধের ময়দানে তাঁর গর্জন ছিল দহরের। তাঁর জালাময়ী সেন্যরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে আমীরুল মুমিনীন ওমর رضي الله عنه-এর জন্য কাজ করত, কিন্তু ওমর رضي الله عنه তাঁকে কিছুদিন দেখতে পেলেন না। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, অমুকের ছেলে অমুক কোথায়?
তখন তাঁরা বলল, আমীরুল মুমিনীন, সে মদ পানে ব্যস্ত আছে।
তাঁদের থেকে এ সংবাদ শুনে ওমর رضي الله عنه লেখককে ডাকলেন। তিনি তাকে বললেন, লিখ, ওমর বিন খাত্তাবর পক্ষ থেকে অমুকের ছেলে অমুকের প্রতি। তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি তোমার কাছে যে আল্লাহ্র প্রশংসা করছি যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, যিনি অপরাধ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠিন শাস্তিদাতা, বিশাল ক্ষমতার অধিকারী। যিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই, তার নিকটেই সকলের প্রত্যাবর্তনস্থল।
এরপর তিনি তাঁর সঙ্গীদেরকে বললেন, তোমরা আল্লাহকে কাছে দোয়া করো, তিনি যেন অন্তরকে কবুল করেন এবং তার তাওবা গ্রহণ করেন। যখন লোকটি কাফের ওমর (রাঃ)-এর চিঠি পৌঁছল তখন লোকটি চিঠিটি বার বার পাঠ করতে লাগল আর বলতে লাগল, তিনি অপরাধ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠিন শাস্তিদাতা, বিশাল ক্ষমতার অধিকারী। এরপর সে কান্না শুরু করল। সে এত বেশি কাঁদল যে, তাঁর দাড়ি ভিজে গেল। ...............এরপর আর কখনো তাকে মদ পান করতে দেখা যায়নি। এটি ছিল ওমর (রাঃ)-এর দোয়ার বরকত。
টিকাঃ
¹⁴⁷ তাফসীরুল ইবনিল কাসীর, ৪র্থ খণ্ড, ৭০ পৃ.
📄 তুমি তোমার পরিবারকে বাঁচাও কেননা তারা পুড়ে গেছে
ওমর (রাঃ)-এর সাথে এক লোকের সাক্ষাৎ হলো তখন তিনি লোকটিকে বললেন, তোমার নাম কী? সে বলল, জামরা (জ্বলন্ত অঙ্গার)। তিনি বললেন, তুমি কার ছেলে? সে বলল, শিহাবের (অগ্নিশিখার) তিনি বললেন, তুমি কোথায় থেকে এসেছ? সে বলল, হাররা থেকে (জ্বলন, দহন থেকে)। তিনি বললেন, তোমার বাড়ি কোথায়? সে বলল, হারারায় (গরম, প্রচণ্ডময় ভূমিতে)। তিনি বললেন, সেখানে কোন এলাকায়? সে বলল, জাতে লাজায় (অগ্নিশিখার অধিকারিণীভূতে)। তখন ওমর (রাঃ) বললেন, তুমি তোমার পরিবারকে বাঁচাও তারা পুড়ে গেছে। লোকটি তখন দ্রুত বাড়িতে ফিরে এসে দেখল তার পরিবারের সদস্যরা পুড়ে গেছে। এ ছিল হযরত ওমর (রাঃ)-এর নির্ভীকন বিদ্যায়。
টিকাঃ
¹⁴৮ মানাকিবু আমিরিল মুমিনীন, ৭৮ পৃ.
📄 ওমর রা. ও এক পাদ্রী
একদিন ওমর (রাঃ) এক পাদ্রীর গির্জার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়ালেন। তাঁকে সেখানে পাদ্রী ডেকে নিল। পাদ্রীকে বলা হলো, এ হচ্ছে আমীরুল মুমিনীন। এ কথা শুনে পাদ্রী দ্রুত দৌড়ে আসল। দুনিয়া ত্যাগ করে ধ্যানমগ্ন থাকার কারণে তার শরীর দুর্বল ও হালকা হয়ে গেল। তাঁর এ অবস্থা দেখে ওমর (রাঃ) খুবই কান্না করলেন। তখন তাকে বলা হলো, এ লোক তো খ্রিস্টান।
তিনি বললেন, আমি জানি, কিন্তু আল্লাহ তা'আলার বান্দার কথা আমার মনে পড়ে গেল। `تَنالُ حَامِيَةً - عَامِلَةٌ نَّاصِبَةٌ` "ক্লান্ত, ক্লান্ত। তারা জ্বলন্ত আগুনে পতিত হবে।" (সূরা গাশিয়া, ৩,৪) তার জন্যে আমার মায়া হলো, কেননা সে এত কষ্ট করার পরও জাহান্নামী হবে。
টিকাঃ
¹⁴৯ মুনতাবাবুল কানযিল উম্মাল, ২য় খণ্ড, ৬২ পৃ.
📄 ওমর রা. এক মাস অসুস্থ
এক রাতে ওমর (রাঃ) গাথায় চড়ে বের হলেন। তিনি মদিনার অলি-গলিতে ঘুরছিলেন। ঘুরে ঘুরে মানুষের অবস্থা দেখছিলেন। চলতে চলতে তিনি এক আনসারের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এমন সময় তিনি দেখলেন ওই আনসারী সাহাবী নামাযে দাঁড়িয়েছেন। তিনি তাঁর কেরাআত শুনার জন্যে সেখানে দাঁড়ালেন। আনসারী সাহাবী নামাযে কেরাআত পড়া শুরু করলেন, `وَالطُّورِ. وَكِتَابٍ مَّسْطُورٍ.فِي رَقٍّ مَّنشُورٍ.وَالْبَيْتِ الْمَعْمُورِ. وَالسَّقْفِ الْمَرْفُوعِ.وَالْبَحْرِ الْمَسْجُورِ. إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعٌ.` "কসম তুর পর্বতের এবং লিখিত কিতাবের, প্রশস্ত পত্রের। কসম বায়তুল মামুরের, কসম সুউচ্চ ছাদের এবং উত্তাল সমুদ্রের। আপনার প্রভুর শাস্তি অবধারিত।" (সূরা তুর: ১-৭) তখন ওমর (রাঃ) বললেন, বায়তুল্লাহর প্রভুর শপথ! সত্য। তারপর তিনি তাঁর গাথা থেকে নেমে প্রাচীরের সাথে হেলান দিয়ে আনসারী সাহাবীর তেলাওয়াত শুনতে লাগলেন। এরপর তিনি তাঁর বাড়িতে ফিরে আসলেন এবং তখন থেকে দীর্ঘ এক মাস পর্যন্ত তিনি অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু মানুষ জান্তেও পারেনি তাঁর কী অসুখ ছিল。
টিকাঃ
¹⁵⁰ মানাকিবু আমিরিল মুমিনীন, ৭৬ পৃ.