📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওমর রা.-এর কারামত

📄 ওমর রা.-এর কারামত


আকাশ থেকে মেঘ হারিয়ে গেছে। দুর্ভিক্ষ কঠিন থেকে কঠিন আকারে ধারণ করেছে। ক্ষেত-খোয়ার শুকিয়ে মরে গেছে। পশুদের ওলানগুলো শুকিয়ে গেছে। এ কঠিন অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ওমর رضي الله عنه লোকজনদের নিয়ে দুই রাকাত নামায আদায় করার পর চাঁদের উল্টা করে আল্লাহ্র দরবারে হাত তুললেন। তিনি চাঁদহাটের ডানের অংশ বামে রাখলেন আর বামের অংশ ডানে রাখলেন। অতঃপর তিনি দুই হাত প্রসারিত করে দুই চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আল্লাহ্র দরবারে কাতর কণ্ঠে বললেন, হে আল্লাহ, আমরা তোমার কাছে ক্ষমা চাই, আমরা তোমার কাছে বৃষ্টি চাই। তখন তারা সে স্থান ত্যাগ করার আগেই অধারায় বৃষ্টি নেমে আসে।
এর কিছুদিন পর মরুভূমি থেকে এক বেদুইন মদিনায় আসল। তখন সে ওমর رضي الله عنه-এর কাছে গিয়ে বলল, অমুক দিন অমুক সময়ে আমরা এক উপত্যকায় ছিলাম তখন আমরা দেখতে পেলাম চাবুক মেরে মেঘে ফেলছে। আমরা মেঘ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম: আবু হাফস! (ওমর) সাহায্য আনসতে, আবু হাফস! সাহায্য আনসতে。

টিকাঃ
১১৬ আল কানয, ৮ ম খণ্ড, ৪০১ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 খলিফার জামায় তালি

📄 খলিফার জামায় তালি


একদিন ওমর رضي الله عنه ঘর থেকে বের হয়ে আসলন তখন তাঁর পরিহিত জামায় বারোটা তালি ছিল।
এ দিকে মুসলমানগণ অনেকক্ষণ পর্যন্ত নামাযের জন্য অপেক্ষা করছিল। তিনি তাদের কাছে আসার পর বললেন, আমার কারণেই আমার আসতে দেরি হয়েছে। এ জামা ব্যাতীত আমার আর কোনো জামা নেই। তাই জামাটি সেলাই শেষ হওয়া পর্যন্ত আমাকে দেরি করতে হয়েছে। সেলাই শেষ হওয়ার পর আমি তোমাদের কাছে আসল।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওমর রা.-এর দোয়ার বরকত

📄 ওমর রা.-এর দোয়ার বরকত


লোকটি সিরিয়ার অধিবাসী। যুদ্ধের ময়দানে তাঁর গর্জন ছিল দহরের। তাঁর জালাময়ী সেন্যরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে আমীরুল মুমিনীন ওমর رضي الله عنه-এর জন্য কাজ করত, কিন্তু ওমর رضي الله عنه তাঁকে কিছুদিন দেখতে পেলেন না। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, অমুকের ছেলে অমুক কোথায়?
তখন তাঁরা বলল, আমীরুল মুমিনীন, সে মদ পানে ব্যস্ত আছে।
তাঁদের থেকে এ সংবাদ শুনে ওমর رضي الله عنه লেখককে ডাকলেন। তিনি তাকে বললেন, লিখ, ওমর বিন খাত্তাবর পক্ষ থেকে অমুকের ছেলে অমুকের প্রতি। তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি তোমার কাছে যে আল্লাহ্র প্রশংসা করছি যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, যিনি অপরাধ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠিন শাস্তিদাতা, বিশাল ক্ষমতার অধিকারী। যিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই, তার নিকটেই সকলের প্রত্যাবর্তনস্থল।
এরপর তিনি তাঁর সঙ্গীদেরকে বললেন, তোমরা আল্লাহকে কাছে দোয়া করো, তিনি যেন অন্তরকে কবুল করেন এবং তার তাওবা গ্রহণ করেন। যখন লোকটি কাফের ওমর (রাঃ)-এর চিঠি পৌঁছল তখন লোকটি চিঠিটি বার বার পাঠ করতে লাগল আর বলতে লাগল, তিনি অপরাধ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠিন শাস্তিদাতা, বিশাল ক্ষমতার অধিকারী। এরপর সে কান্না শুরু করল। সে এত বেশি কাঁদল যে, তাঁর দাড়ি ভিজে গেল। ...............এরপর আর কখনো তাকে মদ পান করতে দেখা যায়নি। এটি ছিল ওমর (রাঃ)-এর দোয়ার বরকত。

টিকাঃ
¹⁴⁷ তাফসীরুল ইবনিল কাসীর, ৪র্থ খণ্ড, ৭০ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তুমি তোমার পরিবারকে বাঁচাও কেননা তারা পুড়ে গেছে

📄 তুমি তোমার পরিবারকে বাঁচাও কেননা তারা পুড়ে গেছে


ওমর (রাঃ)-এর সাথে এক লোকের সাক্ষাৎ হলো তখন তিনি লোকটিকে বললেন, তোমার নাম কী? সে বলল, জামরা (জ্বলন্ত অঙ্গার)। তিনি বললেন, তুমি কার ছেলে? সে বলল, শিহাবের (অগ্নিশিখার) তিনি বললেন, তুমি কোথায় থেকে এসেছ? সে বলল, হাররা থেকে (জ্বলন, দহন থেকে)। তিনি বললেন, তোমার বাড়ি কোথায়? সে বলল, হারারায় (গরম, প্রচণ্ডময় ভূমিতে)। তিনি বললেন, সেখানে কোন এলাকায়? সে বলল, জাতে লাজায় (অগ্নিশিখার অধিকারিণীভূতে)। তখন ওমর (রাঃ) বললেন, তুমি তোমার পরিবারকে বাঁচাও তারা পুড়ে গেছে। লোকটি তখন দ্রুত বাড়িতে ফিরে এসে দেখল তার পরিবারের সদস্যরা পুড়ে গেছে। এ ছিল হযরত ওমর (রাঃ)-এর নির্ভীকন বিদ্যায়。

টিকাঃ
¹⁴৮ মানাকিবু আমিরিল মুমিনীন, ৭৮ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00