📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বাড়ির দেওয়ালে ওমর রা.

📄 বাড়ির দেওয়ালে ওমর রা.


একদিন গভীর রাতে ওমর (রা) মদিনার অলি-গলিতে হাঁটছিলেন। অন্ধকার এত বেশি ছিল যে, পা দেখা যাচ্ছিল না। এমন সময় তিনি শুনতে পেলেন একলোক বিচ্ছি ভাষায় গান গাইছে ছিল। তখন ওমর (রা) ঘরের দেওয়ালে আঘাত করে বললেন, হে আল্লাহর শত্রু, তুমি কি ভেবেছো তুমি পাপ করবে আর আল্লাহ্ তা'আলা তা গোপন রাখবেন? লোকটি বলল, আমীরুল মু'মিনিন, আপনি আমার বিচারে তাড়াঘড়া করবেন না। আমি যদি একবার আল্লাহ্র অবাধ্য হয়ে থাকি তবে আপনি তিনবার অবাধ্য হয়েছেন। আপনি আড়াল থেকে আমার কথা শুনছেন অথচ আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন, يُؤْمِنُ بِهَا ۗ وَأَنَّهَا الْحَقُّ مِن رَّبِّكُمْ ۖ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ. 'তোমরা গোপণকারি করো না।' সুমার দেওয়ার ওপর দিয়ে এসেছেন অথচ আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন, وَإِذَا وَأَدَ وَبَعْضَ الْآيَاتِ لِيُبَيِّنَ لَكُم مِّنَ الْآيَاتِ. 'তোমরা ঘরের দরজা দিয়ে এসো।' আপনি অনুমতি ব্যতীতও এসেছেন অথচ আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ۚ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ. ওরে যারা ঈমান এনেছো, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত না আলাপ-পরিচয় কর এবং গৃহবাসীকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ। (সূরা নূর : ২৭) তখন ওমর (রা) বললেন, আমি যদি তোমাকে ক্ষমা করে দেই তবে তুমি কী ভালো হবে? লোকটি বলল, হ্যাঁ। তখন ওমর (রা) লোকটিকে ক্ষমা করে দিলেন এবং তাকে ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে চলে গেলেন。

টিকাঃ
২০০ তাসল তাকারতাতু হিজায়া ওয়া ওমর (রা), ২১৭। আল কানয, ৩য় খণ্ড, ৮০৮ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তুমি তোমার প্রতিপালককে কি বলবে?

📄 তুমি তোমার প্রতিপালককে কি বলবে?


এক ব্যক্তি জোরগলায় চিৎকার করে বলল, আমীরুল মু'মিনিন, আমার সাথে চলুন, অমুক ব্যক্তি আমার ওপর জুলুম করেছে। তখন ওমর (রা) চাবুক নিয়ে লোকটির মাথায় আঘাত করত বললেন, ওমায়র যখন তোমাদেরকে অধিকার থেকে তখন তোমরা তার থেকে দূরে থাক। আর যখন সে মুসলমানদের কোনো কাজে ব্যস্ত হয় তখন তোমরা বল, আমার দিকে আসুন ........ আমার দিকে আসুন। লোকটি ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর এমন ব্যবহারে রাগে বিচলিত করতে করতে চলে গেল। ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে আস। লোকটিকে নিয়ে আসলে ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু তার হাতে চাবুক দিয়ে বললেন, খবর....আমার থেকে প্রতিশোধ নাও। লোকটি বলল, না; বরং আমি আপনার ও আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকলাম। ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, বিষয়টি এমন নয়, হয় তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাক আর তাঁর থেকে প্রতিদানের আশা করো। অথবা আমার সন্তুষ্টির জন্য প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকো.........। লোকটি বলল, তাহলে আল্লাহর জন্য। তখন ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, তুমি ফিরে যাও। এরপর ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু নিজের বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলেন। তিনি ঘরে ঢোকার কিছুক্ষণ পর নামাযের সময় হলো। আমরা তখন তাঁর সাথেই ছিলাম। নামায শেষ হওয়ার পর তিনি বললেন, হে খাত্তাবের ছেলে, তুমি নীচু ছিলে, আল্লাহ তোমাকে উঁচু করেছেন, তুমি পথভ্রষ্ট ছিলে তিনি তোমাকে পথপ্রদর্শন করেছেন। তুমি অপমানিত ছিলে, তিনি তোমাকে সম্মানিত করেছেন। অতঃপর তিনি তোমার ও ওর مسلمانوں দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। আর যখন এক লোক তোমার কাছে সাহায্যের জন্য আসল তখন তুমি তাকে প্রহার করেছ। যদি সে আল্লাহর দরবারে বিচার নিয়ে আসে তুমি তোমার প্রতিপালককে কী উত্তর দিবে। আহনাফ বলল, ওমর নিজেকে নিজে তিরস্কার করছিল তখন আমার কাছে মনে হলো পৃথিবীর ওপর সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি ওমর。

টিকাঃ
¹৩৮ মানাকিব লি ইবনিল জাওযী, ১১২,১১২ ও আল কানয, ১২তম খণ্ড, ২৭১,২৭১।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 নীলনদের কাছে ওমর রা.-এর চিঠি

📄 নীলনদের কাছে ওমর রা.-এর চিঠি


কিবতীয় মাসগুলিতে একটি হলো বু'উনা। সে মাসে মিশরের লোকজন আমর বিন আস রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে বলল, হে আমির, নীলনদের ব্যাপারে আমাদের একটি রীতি আছে, তা না করলে নদী প্রবাহিত হয় না। আমর বিন আস রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সেটি কী? তারা বলল, এ মাসের ১২তম রাতে নদীর পানি শুকিয়ে যায়। তখন আমরা একটি কুমারী মেয়ের বাবা-মাকে রাজি করে তাকে সুন্দর কাপড় ও স্বর্ণালংকার দিয়ে সাজিয়ে নদীতে নিক্ষেপ করি।
কথা শুনে আমর বিন আ’স রদিয়াল্লাহু আনহু খুবই রেগে গেলেন এবং বিষয়টি নিয়ে চিন্তিতও হলেন। তিনি বললেন, ইসলামের যুগে এটি হতে হবে না, কেননা ইসলাম তার পূর্ববর্তী সবকিছুকে মিটিয়ে দিয়েছে। মিশরের অধিবাসীরা বু'উনা, আবীব ও মাসারী এ তিন মাস অপেক্ষা করল, কিন্তু এ তিন মাসে নদী সামান্য পানিও প্রবাহিত করেনি। এক পর্যায়ে তারা পূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়ে যেতে চাইল। তখন আমর বিন আ’স রদিয়াল্লাহু আনহু ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে চিঠি লিখে বিষয়টি জানালেন। তখন ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি ঠিক বলেছ, ইসলাম তার পূর্ববর্তী সবকিছুকে মিটিয়ে দিয়েছে। আমি তোমার কাছে একটি চিঠি পাঠাচ্ছি। চিঠিটি তোমার কাছে পৌঁছলে তুমি তা নীলনদে নিক্ষেপ করবে। আমর বিন আ’স রদিয়াল্লাহু আনহু চিঠিটি পাওয়ার পর খুলে দেখলেন, তাতে লিখা.... مِنْ عَبْدِ اللَّهِ، عُمَرَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ إِلَى نِيلِ أَهْلِ مِصْرَ أَمَّا بَعْدُ: فَإِنْ كُنْتَ تَجْرِي مِنْ قِبَلِكَ فَلَا تَجْرِ، وَإِنْ كُنْتَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ يُجْرِيكَ فَنَسْأَلُ اللَّهَ الْوَاحِدَ الْقَهَّارَ أَنْ يُجْرِيَكَ. অর্থ, আল্লাহর বান্দা আমীরুল মুমিনীন ওমরের পক্ষ থেকে মিশরীয় নীলনদের প্রতি। পরকথা, যদি তুমি নিজের পক্ষ থেকে প্রবাহিত হয়ে থাক তবে তুমি প্রবাহিত হবে। আর যদি মহাপরাক্রমশালী এক আল্লাহ তা'আলা তোমাকে প্রবাহিত করে থাকেন তবে আমরা সেই মহাপরাক্রমশালী এক আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন তোমাকে প্রবাহিত করেন। হযরত আমর রদিয়াল্লাহু আনহু কুদের্ব দিন পূর্বে চিঠিটি নীলনদে নিক্ষেপ করলেন। ওদিকে মিশরবাসীরা তাদের পূর্বের রীতি পালন করত চাইল। কুদশ দিবসের সকালে তারা দেখতে পেল আল্লাহ তা’আলা ষোলো গজ উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত করেছেন। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত নীল প্রবাহিত হচ্ছে। আল্লাহ তা’আলা হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর চিঠির মাধ্যমে মিশরবাসীকে এ কুপ্রথা থেকে হেফাযত করেছেন。

টিকাঃ
¹৩৯ মুসতাদরাক তারিখি দামেস্ক, ১৭তম খণ্ড, ৩৪৮, ৩৪৮।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 মিশরের গভর্নরের কাছে ওমর রা.-এর সাহায্য চাওয়া

📄 মিশরের গভর্নরের কাছে ওমর রা.-এর সাহায্য চাওয়া


আকাশ থেকে মেঘ হারিয়ে গেছে, জমিন শুকিয়ে গেছে। দুর্ভিক্ষে পুরো আরব উপদ্বীপ ঘিরে ফেলেছে। দারিদ্রতা হস্তপ্রদ প্রসারিত করে মদিনার ওপর চেপে বসল। ক্ষুধার দুশ্চিন্তা মিশরের অন্তরগুলোয় চুরমার করে দিচ্ছে এবং বৃদ্ধদের কলিজা ফাটিয়ে দিচ্ছে। তখন ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু মিশর গভর্নরের আমর বিন আ’স রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে চিঠি লিখলেন: .... সালাম পরকথা, আল্লাহর বান্দা আমীরুল মুমিনীন ওমরের পক্ষ থেকে আমর বিন আ’সের প্রতি। পরকথা, আমার জীবনের শপথ! আমর, তুমি ও তোমার সাথে যারা তারা খেয়ে পরিপূরণ থাকলে আমি ও আমার সাথে যারা আছি তারা ধ্বংস হয়ে গেলে তোমার কি আসে যায়। সুতরাং সাহায্য...... সাহায্য......। চিঠি পড়ে আমর বিন আ’স রদিয়াল্লাহু আনহু খুবই অস্থির হলেন। তিনি খুবই দুঃখিতও হলেন। এমনকি আরব উপদ্বীপের দিকে খাবার প্রেরণ করার পূর্বে তিনি কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করেননি। এরপর তিনি আমীরুল মুমিনীন ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে লিখে পাঠালেন...... আল্লাহর বান্দা আমীরুল মুমিনীন ওমরের প্রতি আমর বিন আ’সের পক্ষ থেকে। পরকথা, হাজির......হাজির......। আমি আপনার কাছে এত পরিমাণ খাদ্য প্রেরণ করেছি যে, এর প্রথম উটটি আপনার কাছে আর শেষটি আমার কাছে। আপনার ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি, রহমতও বরকতও বর্ষিত হোক。

টিকাঃ
¹৪০ হাযায়ুস সাহাবা, ২য় খণ্ড, ৬৫২ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00