📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসামা বিন যায়েদের মর্যাদা

📄 উসামা বিন যায়েদের মর্যাদা


দিনের পর দিন চলে যায়। ইতিহাসের পাতায় এর কিছু অংশ থাকলেও বেশিরভাগ মানুষেরও অজানায় থেকে যায়, কিন্তু এর কিছু পর অনেক ঘটনা এমন যা যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকে। তেমনি একটি ঘটনা....... তিনি হচ্ছেন উসামা বিন যায়েদ (রা.)। ওমর (রা.) তাঁর জন্য নিজের পুত্রের থেকে বেশি ভাতা নির্ধারণ করেছেন।
তখন তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা.) বললেন, বাবা, আপনি তাঁর জন্য নির্ধারণ করলেন চার হাজার আর আমার জন্য করলেন তিন হাজার। অথচ তাঁর পিতা আপনার থেকে অধিক মর্যাদার অধিকারী নয়, আর সে নিজেও আমার থেকে অধিক মর্যাদার অধিকারী নয়।
তখন ওমর (রা.) বললেন, আহ! আফসোস!.... রাসূল (সা.)-এর কাছে তাঁর পিতা তোমার পিতা থেকেও অধিক প্রিয় ছিল। আর সে নিজেও রাসূল (সা.)-এর কাছে তোমার থেকে অধিক প্রিয় ছিল।
তখন তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ (রা.) নির্ধারিত ভাতার ওপর সন্তুষ্ট হলেন。

টিকাঃ
১০৮ কানযুল উম্মাল, ১৩তম খণ্ড, ৪৫০-৪৫১ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আপনি পবিত্রতা অবলম্বন করছেন আর তাই তারাও

📄 আপনি পবিত্রতা অবলম্বন করছেন আর তাই তারাও


সমস্ত বিজয়ের পর যখন ওমর (রা.)-এর সামনে কিসরার তরবারি, বেল্ট এবং অহংকারী রাণী রাখা হলো তখন তিনি বললেন, নিশ্চয় সৈন্যরা এসব সম্পদ আমানতের সাথে নিয়ে এসেছে।
তখন আলী (রা.) বললেন, নিশ্চয় আপনি পবিত্রতা অবলম্বন করেছেন আর তাই আপনার প্রজারাও পবিত্রতা অবলম্বন করেছে。

টিকাঃ
১০৯ তারিখুত তাবরী

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ইবনে হুজাফার কপালে চুমু দিলেন ওমর রা.

📄 ইবনে হুজাফার কপালে চুমু দিলেন ওমর রা.


ঊনবিংশ হিজরিতে রোমের সাথে যুদ্ধ করার জন্য হযরত ওমর (রা.) একদল সেনা পাঠালেন। তাঁদের মধ্যে হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুজাফাও ছিলেন। ইতোমধ্যে মুসলিম সৈন্যদের ঈমানী শক্তি ও সাহসিকতার কথা রোমান সম্রাটের কানে গিয়ে পৌঁছে। আল্লাহর জন্য বুকের ময়দানে নির্ভীকভাবে মুসলিম সেনদের শহীদ হওয়ার কথাও সে জানতে পারে।
আর তাই সে তার সেনাবাহিনীকে আদেশ করে- যখন তারা বিজয় লাভ করবে তখন তারা যেন মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাহাবীদের থেকে কাউকে বন্দি করে জীবিত নিয়ে আসে। আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুজাফা তাদের হাতে বন্দি হয়ে গেলেন। তারা তাঁকে বন্দি করে তাদের সম্রাটের নিকটে নিয়ে গিয়ে বলল, এ লোকটি মুহাম্মাদ (সা.)র আগামী সাহাবীদের একজন। আমাদের হাতে বন্দি হয়েছে। আমরা তাকে আপনার নিকটে নিয়ে এসেছি।
রোমের সম্রাট আব্দুল্লাহ বিন হুজাফার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলো। তারপর বলল, আমি তোমার কাছে একটি প্রস্তাব পেশ করছি।
হযরত হুজাফা (রা.) বললেন, কী প্রস্তাব?
সম্রাট বলল, তুমি খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ কর। যদি তুমি তা কর আমি তোমাকে ছেড়ে দিব এবং তোমাকে যথেষ্ট সম্মানজনক পুরস্কার প্রদান করব।
তখন হযরত হুজাফা (রা.) ঘৃণা ও দৃঢ়তার সাথে বললেন, হায় আফসোস! তুমি আমাকে যেদিকে ডাকছ তা করা থেকে হাজার বার মৃত্যুবরণ করা আমার কাছে অধিক উত্তম।
সম্রাট বলল, আমি তোমাকে কিছুক্ষণ সময় দিচ্ছি।.... সুতরাং তুমি যদি আমার কথায় সাড়া দাও তাহলে তোমাকে আমার রাজ্যের অংশীদার করব এবং আমার রাজত্বের ভাগ দিব।
এ কথা শুনে লোহার শিকল বন্দি হযরত আব্দুল্লাহ বিন হুজাফা মৃদু হেসে বললেন, আল্লাহর শপথ! তুমি যদি আমাকে তোমার সমস্ত রাজত্ব দিয়ে দাও এবং আরব তুমি যা কিছুর মালিক সব দিয়ে দাও তাহলেও আমি মুহাম্মাদ (সা.)র ধর্ম থেকে এক চুল পরিমাণও নড়ব না।
সম্রাট বলল, তাহলে আমি তোমাকে হত্যা করব। তিনি বললেন, তোমার ইচ্ছে।
তারপর সম্রাট তাঁকে শূলিতে চড়ানোর নির্দেশ দিল। সম্রাটের অনুসারে তাঁকে শূলিতে চড়ানো হলো। সম্রাট আব্দুল্লাহকে বলল: তোমরা তার হাতের আশপাশে তীর নিক্ষেপ কর। এরপর সম্রাট তাঁকে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করতে আহ্বান করল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন।
সম্রাট আব্দুল্লাহকে বলল, তোমরা তার পায়ের আশপাশে তীর নিক্ষেপ কর। অন্যদিকে সে তাঁকে তার নিজ ধর্ম ত্যাগ করতে আহ্বান করে, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
সম্রাট নিরাশ হয়ে তাঁকে শূলি থেকে নামানোর আদেশ দিল। সে তার লোকবলকে বড় একটি পাত্র নিয়ে আসার নির্দেশ দিল। সেই পাত্রটি তেল তেলে ভর্তি করা হলো। এরপর তা আগুনের উপরে রেখে উত্তপ্ত করা হলো। তেলগুলো আগুনের তেজে টগবগ করতে লাগল। এরপর সম্রাট মুসলিম বন্দিদের থেকে দুই জন বন্দিকে নিয়ে আসার নির্দেশ দিল। তাদের একজনকে গরম তেলে নিক্ষেপ করল। নিক্ষেপ করার সাথে সাথে তার গোশতগুলো গলে হাড়ও থেকে আলাদা হয়ে গেল এবং খালি হাড়গুলো ভেসে উঠল। এরপর সম্রাট আব্দুল্লাহ বিন হুজাফাকে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করার আহ্বান করে। এবার তিনি আগের থেকেও জোর গলায় তা প্রত্যাখ্যান করেন।
সম্রাট যখন হতাশ হয়ে গেল তখন তাকেও তার সঙ্গীদের মতো গরম তেলে নিক্ষেপ করার আদেশ দিয়ে চলে গেল। সম্রাট চলে যাওয়ার পর হযরত হুজাফা কাঁদতে শুরু করলেন। তাঁর কান্না দেখে তারা সম্রাটকে গিয়ে বলল, সে তো কাঁদছে.....
সম্রাট ধারণা করল তিনি জয় পেয়েছেন। আর তাই সে তাদেরেক বলল, তাকে আমার কাছে নিয়ে আস। তারা তাকে নিয়ে আসলে সম্রাট আবারও খ্রিস্টান হওয়ার প্রস্তাব দিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন।
সম্রাট বলল, তোমার ধ্বংস হওয়া কে দেখবে? তিনি বললেন, আমি এই ভেবে কেঁদেছিলাম যে, আমাকে এখন ভেসে নিক্ষেপ করা হলে তো আমি মাত্র একবার মারা যাব, কিন্তু আমার তো ইচ্ছা আমার শরীরে যত পশম আছে তত সমপরিমাণ যদি আমার আত্মা থাকত তাহলে আমাকে ততবার এ পাত্রে নিক্ষেপ করা হতো। আর আমি ততবার আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হতাম।
সম্রাট বলল, তুমি কি আমার কপালে চুমু খাবে? তাহলে আমি তোমাকে ছেড়ে দিব। তিনি তাকে বললেন, সকল মুসলমান বন্দিকে ছেড়ে দিবে? সম্রাট বলল, হ্যাঁ, সকল মুসলমান বন্দিকে ছেড়ে দিব। তিনি বললেন,
আমি মনে মনে লাগলাম- সে আল্লাহর শকে, আমি তার মাথায় চুমু খাব আর এতে সে আমাকে ও মুসলিম বন্দিদের ছেড়ে দিবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই।
এ কথা উবে তিনি তার কপালে চুমু দিলেন এবং তার কপালে চুমু খেলেন। তারপর রোমের সম্রাট তাঁকে সকল মুসলিম বন্দিকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিল।
তিনি খলিফা ওমর (রা.)-এর কাছে ফিরে এসে তার সাথে ঘটে যাওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিলেন। ঘটনাটি শুনে হযরত ওমর (রা.) অনেক বেশি খুশি হলেন।
আর বললেন, "প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আব্দুল্লাহ বিন হুজাফার কপালে চুমু খাওয়া, আর আমি নিজেই সর্বপ্রথম তা শুরু করেছি।"

টিকাঃ
১১০ কানযুল উম্মাল, ১৩তম খণ্ড, ৪৫০-৪৫১ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ইবনে ওমর রা. ও গোস্ত

📄 ইবনে ওমর রা. ও গোস্ত


একদিন ওমর (রা.) তার ছেলে আব্দুল্লাহর কাছে আসলেন। তিনি এসে তাঁর কাছে গোস্ত দেখতে পেলেন।
তিনি তখন বললেন, এ গোস্ত কেন আনা হয়েছে? তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ বললেন, এটা আমার খেতে মন চেয়েছে। তিনি বললেন, তুমি যা খেতে চাইবে তাই খাবে। কোনো ব্যক্তির অপচয়কারী হওয়ার জন্য এটি যথেষ্ট যে, তার যা মন চাইবে তাই খাবে。

টিকাঃ
১১২ আসসুনানুল কুবরা ইবনুল আয়েম, ১৫৬ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00