📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 জান্নাতে ওমর রা.-এর ঘর

📄 জান্নাতে ওমর রা.-এর ঘর


একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَإِذَا أَنَا بِقَصْرٍ مِنْ ذَهَبٍ فَقُلْتُ : لِمَنْ هَذَا؟ فَقَالُوا: لِفَتًى مِنْ قُرَيْشٍ، فَظَنَنْتُ إِنِّي أَنَا هُوَ فَقُلْتُ: وَمَنْ هُوَ؟ فَقَالُوا: عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ.
আমি জান্নাতে প্রবেশ করে দেখি আমি একটি স্বর্ণ দ্বারা তৈরি প্রাসাদের ভেতরে। আমি বললাম, এটি কার? তারা বলল, কুরাইশীয় এক যুবকের। তখন আমি ধারণা করলাম, আমিই সেই যুবক। আমি বললাম, সে কে? তারা বলল, ওমর বিন খাত্তাব।
অন্য বর্ণনায় এসেছে......
بَيْنَمَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي فِي الْجَنَّةِ، فَإِذَا أَنَا بِامْرَأَةٍ تَتَوَضَّأُ إِلَى جَانِبِ قَصْرٍ، فَقُلْتُ: لِمَنْ هَذَا الْقَصْرُ؟ فَقَالُوا: لِعُمَرَ فَقَدْتُ غَيْرَتَكَ فَلَوْ عَلِمْتُ أَنَّكَ غَيُورٌ مَا دَخَلْتُ أَنْتَ بِقَوْلِي أَعْيَاكَ أَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ-
আমি স্বপ্নে নিজেকে জান্নাতে দেখলাম। দেখি এক মহিলা একটি প্রাসাদের পাশে অযু করছে। আমি বললাম, এ প্রাসাদ কার? তারা বলল, ওমরের। তখন ওমরের ব্যক্তিগতো কথা শুনে পড়ে আমি ফিরে আসলাম।
এ কথা শুনে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কান্না শুরু করলেন। তিনি বললেন, আপনার সাথে আমি ব্যক্তিগত প্রকাশ করতে যাব!

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 এ ব্যতীত আমার আর কোনো কাপড় নেই

📄 এ ব্যতীত আমার আর কোনো কাপড় নেই


মসজিদের শেষ সীমা পর্যন্ত লোকজনে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। তারা সকলে একে অপরের দিকে তাকিয়ে জিগেস করছিল- আমীরুল মুমিনীন! কেন দেরি করছেন, তিনি এখন কোথায়?
অনেকক্ষণ পর ওমর (রা.) মসজিদে এসে মিম্বরে বসলেন। তারপর তিনি মানুষের কাছে ওজর পেশ করে বললেন, এ জামাটি ধুয়ে দেওয়ার কারণে আমি আসতে পারিনি। এ জামা ছাড়া আমার আর কোনো কাপড় নেই。

টিকাঃ
১০৪ আবু নুয়াইম, হিল ইয়ায় আয়েম, ১২৪ ও ইবনুল জাওযী ফিল মানাক্বিব ৮৬ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমার আর তোমার মাঝে একজন লোক ঠিক কর

📄 আমার আর তোমার মাঝে একজন লোক ঠিক কর


একদিন ওমর (রা.) ও উবাই বিন কা’ব (রা.)-এর মাঝে মতভেদ হলে ওমর (রা.) তাকে বললেন, তুমি আমার ও তোমার মাঝে একজন লোক (বিচারক) ঠিক কর। উবাই তাঁর মতটি গ্রহণ করলেন। তারা উভয়ে সমাধানের জন্য যায়েদ বিন সাবিতকে নির্ধারণ করলেন। তারা উভয়ে তার কাছে এলেন।
ওমর (রা.) বললেন, আমরা তোমার কাছে এসেছি তুমি আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিবে।
তারা উভয়ে ঘরে প্রবেশ করলে যায়েদ আমীরুল মুমিনীনদের জন্য বিছানাটা ঠিক করে সেদিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলল, এখানে বসুন আমীরুল মুমিনীন।
ওমর (রা.) রেগে বললেন, তোমার বিচারকার্যে এটাই প্রথম অন্যায়। আমি তো আমার বাড়ির সাথে বসব।
এরপর ওমর (রা.) ও উবাই বিন কা’ব (রা.) যায়েদ (রা.)-এর সামনে বসলেন। তখন উবাই ওমর (রা.)-এর ব্যাপারে অভিযোগ করলে তিনি তা অস্বীকার করলেন।
তখন যায়েদ (রা.) উবাইকে বললেন, তুমি আমীরুল মুমিনীনকে শপথ করা থেকে বিরত থাক। তিনি ব্যতীত ও বিষয়টি কারো ব্যাপারে আমি চাইব না।
তখন ওমর (রা.) যায়েদ (রা.) ও উবাইকে অবাক করে দিয়ে শপথ করলেন। তিনি পুনরায় শপথ করে বললেন, যতক্ষণ না ওমর ও একজন সাধারণ মুসলমান যায়েদের কাছে সমান না হবে ততক্ষণ সে বিচার করার উপযুক্ত নয়。

টিকাঃ
১০৫ আসসুনানুল কুবরা, ১০ম খণ্ড, ১৫৬ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 পায়ে হেঁটে নদী পার হলেন ওমর রা.

📄 পায়ে হেঁটে নদী পার হলেন ওমর রা.


একদিন আমীরুল মুমিনীন ওমর (রা.) সিরিয়ায় গেলেন। একদল প্রতিনিধি তাকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছিল। তাদের কাছে আসার জন্য ছোট নদীও একটি পুল দেওয়া হলো, কিন্তু তিনি পুলি না উঠে খচ্চরের পিঠ থেকে নেমে জুতা খুলে পানি দিয়ে হাঁটা শুরু করলেন। এমনকি তিনি হেঁটে হেঁটে অভ্যর্থনা জানাতে অপেক্ষারত লোকজনের কাছে গিয়ে পৌঁছুলেন।
আবু উবায়দা (রা.) বললেন, আপনি সিরিয়াবাসীর সামনে একটি মহান কাজ করেছেন।
ওমর (রা.) উবায়দার বুকে হাত দিয়ে আঘাত করে বললেন, আফসোস! আহ! উবায়দা তুমি ব্যতীত যদি অন্য কেউ কথাটি বলত তবে মানা যেত, তোমরা তো ইসলামের পূর্বে ছিলে তুচ্ছ নগণ্য লাঞ্ছিত। আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে ইসলাম দ্বারা সম্মানিত করেছেন, কিন্তু যখন তোমরা অন্য কিছুর দ্বারা সম্মান পেতে চাইবে তখন আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে অপমানিত করবেন。

টিকাঃ
১০৬ ইবনুল জাওযী কি মানাকিবে আমীরিল মুমিনীন, ১৪৭ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00