📄 দুইটি দোষ আছে তোমার মাঝে
একদিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মিম্বরে বসে মানুষের কাছ থেকে উপদেশ চেয়ে বললেন, যে আমার দোষ ধরিয়ে দিবে সে নিজেকে অপরাধী করল।
তখন তনতন শব্দ শুরু হয়ে গেল। এরই মধ্যে এক লোক দাঁড়িয়ে বলল, আপনার মাঝে দুইটি দোষ রয়েছে।
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রফুল্ল হয়ে মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ তোমার প্রতি করুণা করুন, বল দোষ দুইটি কী কী?
লোকটি বলল, আপনার দুইটি জামা আছে, আপনি এর একটি খুলে অন্যটি গায়ে দেন। আপনি প্রতিদিন দুই রকমের খাবার খেয়ে থাকেন, কিন্তু সাধারণ লোকদের দুই রকমের খাওয়ায় সামর্থ্য নেই।
তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি কখনো দুইটি জামা একত্রে ব্যবহার করব না, আর দুই রকমের খাবারও একত্রে খাব না।
তিনি সারা জীবন তাঁর এ কথার ওপরই ছিলেন। অবশেষে তিনি আল্লাহর দরবারে চলে গেলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন。
টিকাঃ
১৫২ ইয়াজাকাদ্দু ইবনি সা'দ, ৩য় খণ্ড, ১১২-৫। ইবনুল জাওযী ফিল মানাক্বিব, ১৭৩।
📄 জারীর রা.-এর বুদ্ধি
একদিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কয়েকজন সাহাবীর সাথে একটি ছোট দেয়ালের নিচে বসলেন। তারা উপদেশ সংক্রান্ত কথোপকথন করছিলেন। এমন সময় তারা দুর্গন্ধ অনুভব করলেন।
তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, যার থেকে দুর্গন্ধ এসেছে তাকে আমি অযু করার নির্দেশ দিচ্ছি। লোকজন এদিক সেদিক তাকাচ্ছিল, দুর্গন্ধের কারণে তারা কিছুটা অস্বস্তিবোধ করছিল। তখন জারীর বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমীরুল মুমিনীন চলুন আমরা সবাই অযু করে আসি।
জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর এ কথা দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন, যার থেকে দুর্গন্ধ বের হয়েছে তাকে যেন অস্বস্তিকর কাজে পরিচিতি হতে লজ্জা পেতে না হয়।
তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মুচকি হেসে বললেন, জাহেলী যুগে তুমি আমাদের একজন ভালো নেতা ছিলে এবং এখন ইসলামের যুগেও তুমি ভালো নেতা。
টিকাঃ
১৫৩ কানজুল উম্মাল, ৩য় খণ্ড, ৭৪৬ পৃ.
📄 তুমি যদি বিপথে যেতে তবে আমরা ঠিক করে দিতাম
একদিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মুসয়াব বিন মুসালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে বসলেন কুপের কাছে সাক্ষাৎ হলো। তিনি ছিলেন এমন ব্যক্তি যিনি আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকেও ভয় করেন না। তিনি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের কথা বলতেন। এমনকি এতেও যদি তাঁর মৃত্যুও নিশ্চিত থাকত।
ওমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, মুসয়াব, তুমি আমাকে কেমন দেখছ?
মুসয়াব বিন মুসালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, যেমনটি আমার পছন্দ আর আমি তোমাকে তেমনিই দেখেছি এবং ভালো লোকেরা যেমন দেখতে পছন্দ করে তেমনই দেখেছি। আমি তোমাকে দেখতে পাচ্ছি সম্পদ সংগ্রহে শক্তিশালী, কিন্তু তা থেকে সৎপথে সৎপরায়ণ। তবে তুমি যদি বিপথে ঝুঁকে পড়তে তবে আমরা তোমাকে ঠিক করে দিতাম, যেমনভাবে তীরাক হলে সোজা করে দেওয়া হয়।
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু খুশি হয়ে বললেন, সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমার সম্প্রদায়ের মাঝে এমন লোক তৈরি করেছেন, যারা আমি ন্যায় থেকে বিচ্যুত হলে সোজা করে দিবে。
টিকাঃ
১৫৫ মুনতাখাবু কানজুল উম্মাল, ৪থ খণ্ড, ৪৬৮ পৃ.
📄 জান্নাতে ওমর রা.-এর ঘর
একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَإِذَا أَنَا بِقَصْرٍ مِنْ ذَهَبٍ فَقُلْتُ : لِمَنْ هَذَا؟ فَقَالُوا: لِفَتًى مِنْ قُرَيْشٍ، فَظَنَنْتُ إِنِّي أَنَا هُوَ فَقُلْتُ: وَمَنْ هُوَ؟ فَقَالُوا: عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ.
আমি জান্নাতে প্রবেশ করে দেখি আমি একটি স্বর্ণ দ্বারা তৈরি প্রাসাদের ভেতরে। আমি বললাম, এটি কার? তারা বলল, কুরাইশীয় এক যুবকের। তখন আমি ধারণা করলাম, আমিই সেই যুবক। আমি বললাম, সে কে? তারা বলল, ওমর বিন খাত্তাব।
অন্য বর্ণনায় এসেছে......
بَيْنَمَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي فِي الْجَنَّةِ، فَإِذَا أَنَا بِامْرَأَةٍ تَتَوَضَّأُ إِلَى جَانِبِ قَصْرٍ، فَقُلْتُ: لِمَنْ هَذَا الْقَصْرُ؟ فَقَالُوا: لِعُمَرَ فَقَدْتُ غَيْرَتَكَ فَلَوْ عَلِمْتُ أَنَّكَ غَيُورٌ مَا دَخَلْتُ أَنْتَ بِقَوْلِي أَعْيَاكَ أَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ-
আমি স্বপ্নে নিজেকে জান্নাতে দেখলাম। দেখি এক মহিলা একটি প্রাসাদের পাশে অযু করছে। আমি বললাম, এ প্রাসাদ কার? তারা বলল, ওমরের। তখন ওমরের ব্যক্তিগতো কথা শুনে পড়ে আমি ফিরে আসলাম।
এ কথা শুনে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কান্না শুরু করলেন। তিনি বললেন, আপনার সাথে আমি ব্যক্তিগত প্রকাশ করতে যাব!