📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সত্য বলেছে আউফ

📄 সত্য বলেছে আউফ


একদিন আমীরুল মুমিনীন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে অবস্থানরত সাহাবীদের এক দলের মাঝে উপস্থিত ছিলেন। সাহাবায়ে কেরামও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে ঘিরে বসেছিল। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরছিল।
এক পর্যায়ে তারা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর প্রশংসায় বলে উঠল, আল্লাহর শপথ! আমীরুল মুমিনীন ওমরের মতো ন্যায়বিচারক, সত্যের ব্যাপারে স্পষ্টভাষী, মুনাফিকদের প্রতি কঠোর আর কাউকেই আমরা দেখিনি। মূলত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে আপনিই সর্বোত্তম ব্যক্তি।
কথাটি শুনে উপস্থিতদের মধ্যে আউফ বিন মালেক খুবাই রাদিয়াল্লাহু আনহু রেগে গেলেন। তিনি চিৎকার দিয়ে বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে ওমর থেকে শ্রেষ্ঠ মানুষ দেখেছি।
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তিনি কে?
আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু।
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আউফ সত্য বলেছ আর তুমি মিথ্যা বলেছ। আবু বকর তো ছিলেন মিশকের ঘ্রাণের চেয়েও পবিত্র আর আমি তো একটি খচ্চরের চেয়েও অধম。

টিকাঃ
১৪৬ কানজুল উম্মাল, হাদিস নং ৩২০৬১।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 শয়তানকে আছাড় দিলেন ওমর রা.

📄 শয়তানকে আছাড় দিলেন ওমর রা.


একদিন ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও তাবেয়ীদের সম্মিলিত এক মজলিসে এসে প্রশ্নাতীতভাবে বসলেন। তিনি উপস্থিত লোকজনেরা মাঝে সময়ে ঘটে যাওয়া সাহাবায়ে কেরামের মহাযুদ্ধাবসান ঘটনাগুলো বর্ণনা করে শুনাতে গিয়ে বললেন, একদিন মদিনার কোনো এক গলিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং এক সাহাবীর সাথে শয়তানের সাক্ষাত হলো। শয়তান তাকে কুস্তিতে লড়ে শক্তি পরীক্ষা করার আহ্বান জানাল। সাহাবী তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে কুস্তিতে লড়লেন। তখন সাহাবী সে শয়তানকে এক আছাড়ে মাটিতে ফেলে দিলেন।
শয়তান পরাজিত হয়ে সাহাবীকে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও। সাহাবী তার কক্ষ অনুসরণ থেকে তাকে ছেড়ে দিলেন।
ঐইইন শয়তানটি পুনরায় কুস্তির আহ্বান করে বলল, তুমি কি আবার লড়তে রাজি আছ?
সাহাবী রাজি হয়ে পুনরায় কুস্তি শুরু করলেন, এবারও সাহাবী শয়তানকে ধরাশায়ী করে তার বুকের উপর চেপে বসলেন।
এরপর সাহাবী শয়তানকে বললেন, আমি তো দেখছি তুমি একটি দুর্বল লোক। আর তোমার বাহুতলো মনে হচ্ছে কুকুর অথবা জিনের হবে।
সে বলল, আল্লাহর শপথ! আমি তো জিনদেরই একজন।
সাহাবী বললেন, আল্লাহর শপথ! আমাদের কোন বিষয়টি তোমাদের বেশি কষ্ট দেয় তা না বলা পর্যন্ত তোমাকে আমি ছাড়ব না।
শয়তান বলল, তা হলো আয়াতুল কুরসী।
উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে একজন ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেন, তিনি কোন সাহাবী ছিলেন?
তিনি বললেন, ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যতীত আর কে বা হবে。

টিকাঃ
১৪৭ আবু তিরমিযী

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 যতক্ষণ না মানুষ পরিতৃপ্ত হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি ঘি খাব না

📄 যতক্ষণ না মানুষ পরিতৃপ্ত হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি ঘি খাব না


একদিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর স্ত্রী ফাতেহা দিরহাম দিয়ে কিছু থি কিনে আনলেন।
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তা দেখে জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো কী?
তাঁর স্ত্রী জবাব দিল, মাখন, এগুলো আপনার দেওয়া ভরণ-পোষণের অর্থ দিয়ে নয়; বরং আমার নিজস্ব অর্থ দিয়ে কিনেছি।
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তা খেয়ে লোকজন তৃপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি এর স্বাদ গ্রহণ করব না。

টিকাঃ
১৪৮

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 নিজের পরিচয় নিজেই বর্ণনা করছেন ওমর রা.

📄 নিজের পরিচয় নিজেই বর্ণনা করছেন ওমর রা.


ধীরগতিতে দুর্বল মনোভাব নিয়ে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মিম্বরে উঠলেন। এরপর তিনি মসজিদে উপস্থিত লোকজনেরা বললেন, হে মানুষ সকল! নিশ্চয়ই তোমরা আমাকে দেখেছ, এক মুষ্টি খেজুরের জন্য আমি চারণভূমি মাখযুম গোত্রের ছাগল চরাতাম।
এ কথা বলে তিনি মিষ্বর থেকে নেমে গেলেন। লোকজন আশ্চর্য হন। জন জন করে বলাবলি করছিল, ওমর আমাদিগকে কেন একত্রিত করলেন? আর এ কথাও বা কেন বললেন? আল্লাহর শপথ! আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি।
লোকজনের তনতন শব্দকে স্তব্ধ করে দিয়ে আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সামনে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমীরুল মুমিনীন! আপনি এ কথা দ্বারা কি বুঝাতে চেয়েছেন?
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ঠোঁট কঁপালেন, ইবনে আউফ তোমার জন্য আফসোস! তুমি আমাকে একা ফেলে গেলে।
ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আপনি হচ্ছেন আমীরুল মুমিনীন, আল্লাহ তা'আলা এবং আপনার মাঝে কেউ নেই, সুতরাং আপনার থেকে উত্তম আর কে হতে পারে।
তাই আমি চেয়েছি, তাকে তার মর্যাদা সম্পর্কে জানিয়ে দিতে。

টিকাঃ
১৪৯ মানাকিবু আমীরুল মুমিনীন, লি ইবনিল জাওযী, ৮১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00