📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ছেলেকে শিষ্টাচার শিখাচ্ছেন ওমর রা.

📄 ছেলেকে শিষ্টাচার শিখাচ্ছেন ওমর রা.


একদিন ওমর (রাঃ)-এর ছেলে সুন্দর জামা পরে চুলগুলো সাজিয়ে তাঁর কাছে আসল। ওমর (রাঃ) একটি ছড়ি দিয়ে তাকে প্রহার করতে লাগলেন, এমনকি সে কাঁদতে শুরু করল।
তখন হাফসা (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি তাকে মারছেন কেন?
ওমর (রাঃ) বললেন, আমি তাকে দেখলাম সে নিজেকে নিয়ে অহংকার করছে আর তাই তাকে তার নিজের কাছে ছোট করে দেওয়া আমি পছন্দ করলাম。

টিকাঃ
১০৯ তারানাক্কা লিস্সালিহা ৩য় খণ্ড, ২১০।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 পানির পাত্র বহন করছেন ওমর রা.

📄 পানির পাত্র বহন করছেন ওমর রা.


ঘুম ঘুম ভাবকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে ওমর (রাঃ) উঠে পড়লেন। উদ্দেশ্য প্রজাদের খোঁজ-খবর নেবেন। এমন সময় তিনি দেখতে পেলেন অন্ধকারের মধ্যে এক মহিলা পানি ভর্তি মশ্ক পিঠে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে।
ওমর (রাঃ) সে মহিলাকে তাঁর অবস্থা জিজ্ঞেস করেন। তখন মহিলাটি জানাল, সে একটি পরিবারের দেখা-শোনা করে, তার কোনো খাদিম নেই তাই সে রাতের বেলায় পানি আনতে হয়, কেননা দিনেরবেলা ছোট ছোট বাচ্চাদের রেখে বের হতে সে ভয় পায়।
তাঁর কথা শুনে ওমর (রাঃ)-এর অন্তরে সহানুভূতি হলো। তিনি মহিলার পানির পাত্র নিজের কাঁধে বহন করে তার বাড়িতে পৌঁছে দিলেন।
এরপর তিনি মহিলাকে বললেন, আগামীকাল তুমি ওমরের কাছে যেয়ো।
মহিলা বলল, আমি তো তাঁর কাছে যেতে পারব না।
ওমর (রাঃ) বললেন, তুমি যেয়ো, ইন-শা-আল্লাহ তুমি আমাকে সেখানে পাবে।
পরের দিন মহিলা ওমর (রাঃ)-এর দরবারে এসে দেখল, গত রাতের সেই লোকটিই আমীরুল মুমিনীন। তাই সে ভয়ে ফিরে যেতে লাগল। তখন ওমর (রাঃ) তার জন্যে একজন খাদেম ও কিছু খাদ্যদ্রব্য পাঠিয়ে দিলেন。

টিকাঃ
১১০ আল কানজ, ২য় খণ্ড, ২৯। ফাতহা-৯

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তোমার কথা শুনবও না, তোমার আনুগত্যও করব না

📄 তোমার কথা শুনবও না, তোমার আনুগত্যও করব না


একদিন আমীরুল মুমিনীন ওমর (রাঃ)-এর কাছে অনেকগুলো নতুন কাপড় আসল। ওমর (রাঃ) জনগণের মাঝে তা সমানভাগে ভাগ করে দিলেন। এতে প্রত্যেককে একটি করে কাপড় পেল।
পরবর্তী দেখা গেল ওমর (রাঃ) দুটি কাপড়ের তৈরি একটি জুব্বা গায়ে দিয়ে মিেম্বরে উঠেছেন।
তিনি ভাষণ দিতে শুরু করলেন, হে লোক সকল! তোমরা মনোযোগ দিয়ে শুন।
তখন সালমান (রাঃ) বললেন, তোমার কথা শুনবও না, তোমার আনুগত্যও করব না।
ওমর (রাঃ) অবাক হয়ে বললেন, আব্দুল্লাহ্র বাবা, কেন?
সালমান (রাঃ) বললেন, আপনি আমাদেরকে একটি করে কাপড় দিয়েছেন, কিন্তু নিজে দুটি নিয়েছেন।
ওমর (রাঃ) বললেন, আব্দুল্লাহ্র বাবা, একটু অপেক্ষা কর।
এরপর ওমর (রাঃ) ডাক দিয়ে বললেন, আব্দুল্লাহ বিন ওমর।
তাঁর ছেলে বললেন, জী, হে আমীরুল মুমিনীন।
ওমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমি তোমাকে আল্লাহ্র দোহাই দিচ্ছি, আমি অতিরিক্ত যে কাপড়টি পরেছি তা কি তোমার কাপড় নয়?
তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ সাক্ষী।
তখন সালমান (রাঃ) বললেন, এখন, আমরা তোমার কথা শুনব ও তোমার আনুগত্য করব。

টিকাঃ
১১১ তারিখুল আদওয়ারী, ৮ম খণ্ড, ২৪, প:।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 স্বামীর অনুপস্থিতিতে এক মহিলা

📄 স্বামীর অনুপস্থিতিতে এক মহিলা


একদিন ভোরে শান্তিনিষ্ফ্রি পরিবেশে মধ্য দিয়ে মদিনার কোনো এক গলি দিয়ে ওমর (রাঃ) হেঁটে যাচ্ছিলেন। হাঁটা হেঁটে তিনি গোয়েন্দার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তখনো ভালোভাবে অন্ধকার দূর হয়নি। হালকা অন্ধকারে ঢাকা এক ঘর থেকে একজন মহিলার আওয়াজ ওমর (রাঃ)-এর কানে ভেসে আসল।
মহিলা কবিতা বলছিল,
تَطَاوَلَ هٰذَا اللَّيْلُ وَأَسْوَدَّ جَانِبُهٗ وَأَرْقَنِيْ أَن لَّا حَبِيْبَ أُلَاعِبُهٗ فَلَوْ لَا خِدَاعُ اللَّهِ لَا عَرَجَ مِنْ هٰذَا السَّرِيْرِ جَوَانِبُهٗ
রাত অনেক দীর্ঘ হয়েছে
অথচ আমার পাশে আমার বন্ধু নেই। যদি না আল্লাহ্র ভয় না থাকত তবে আমার খাটের পাশগুলো এখন নড়ত।
উপরের ছন্দগুলো ওমর (রাঃ)-এর অনুভূতিতে চরম আঘাত হানল। ওমর (রাঃ) মহিলার ঘরের দরজায় গিয়ে প্রবেশ করার অনুমতি চাইলেন। মহিলাটি তাঁকে ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি দিল।
তিনি তাকে বললেন, তোমার কি হয়েছে?
সে খুব আফসোসের সাথে বলল, আমার স্বামী আজ কয়েক মাস বাড়িতে নেই, অথচ তাঁকে আমার খুবই প্রয়োজন।
তিনি তাঁকে ধিক্কার দিয়ে বললেন, তুমি তো খারাপ কিছু করতে চেয়েছ।
সে বলল, আমি আল্লাহ্র কাছে এর থেকে আশ্রয় চাই।
তিনি বললেন, তুমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ কর, আমি তাঁকে চিঠি লিখতে জানাছি।
তিনি মহিলা স্বামীর কাছে চিঠি লিখতে আসলে বললেন। এরপর তিনি তাঁর মেয়ে হাফসার কাছে গিয়ে বললেন, একটি বিষয় আমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে, সুতরাং তুমি আমাকে তা সহজ করে দাও। এরপর তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললেন, কত সময়ের ব্যবধানে মহিলারা স্বামীর প্রতি তীব্র আকর্ষিত হয়।
ওমর (রাঃ)-এর এমন প্রশ্নে তাঁর মেয়ে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল। বিষয়টি সহজ করতে তিনি তাঁর মেয়েকে বললেন, দেখ, আল্লাহ তা'আলা সত্য বলতে লজ্জাবোধ করেন না।
তবু তিনি লজ্জার কারণে মুখে বলতে না পেরে হাতের তিন আঙ্গুল দিয়ে তিন মাস ইশারা করলেন, এরপর চার আঙ্গুল দিয়ে চার মাস ইশারা করলেন। অর্থাৎ তিন থেকে চার মাস।
এরপর ওমর (রাঃ) নির্দেশ জারি করলেন, কোনো সৈন্য যুদ্ধে তিন মাসের বেশি অবস্থান করতে পারবে না。

টিকাঃ
১১২ কানযুল উম্মাল, ১৬তম খণ্ড, ৫৭৯, হাদিস নং ৪২৪৯৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00