📄 গোলামের পেছনে ওমর রা.
সূর্যের প্রচণ্ড তাপের মধ্যাহ্নে মাথায় একটি চাদর পেঁচিয়ে ওমর (রাঃ) মদিনার বাইরে হেঁটে চলছিলেন।
পান দিয়ে গাধায় চড়ে এক গোলামকে যেতে দেখে ওমর (রাঃ) বললেন, গোলাম! আমাকে গাধার ওপর আরোহণ করাও।
গোলামটা পাখা থামিয়ে নেমে গিয়ে কাঁপতে দেখে বলল, আমীরুল মুমিনীন আপনি উঠে বসুন।
ওমর (রাঃ) বললেন, না, আগে তুমি উঠে বস, পরে আমি উঠব। তুমি চাও আমাকে গদিতে বসিয়ে তুমি শক্ত জায়গায় বসো।
গোলাম বার বার আমীরুল মুমিনীনকে সামনে বসতে অনুরোধ করলেন, কিন্তু ওমর (রাঃ) তাঁর কথার ওপর অটল ছিলেন। বাধ্য হয়ে গোলাম সামনে বসল। আর ওমর (রাঃ) গোলামের পেছনে বসেই মদিনায় প্রবেশ করলেন। মানুষ তাঁর এমন উদারতার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে রইল。
টিকাঃ
১০৮ আল কানজ, হাদিস নং ৩০৬৬১।
📄 ছেলেকে শিষ্টাচার শিখাচ্ছেন ওমর রা.
একদিন ওমর (রাঃ)-এর ছেলে সুন্দর জামা পরে চুলগুলো সাজিয়ে তাঁর কাছে আসল। ওমর (রাঃ) একটি ছড়ি দিয়ে তাকে প্রহার করতে লাগলেন, এমনকি সে কাঁদতে শুরু করল।
তখন হাফসা (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি তাকে মারছেন কেন?
ওমর (রাঃ) বললেন, আমি তাকে দেখলাম সে নিজেকে নিয়ে অহংকার করছে আর তাই তাকে তার নিজের কাছে ছোট করে দেওয়া আমি পছন্দ করলাম。
টিকাঃ
১০৯ তারানাক্কা লিস্সালিহা ৩য় খণ্ড, ২১০।
📄 পানির পাত্র বহন করছেন ওমর রা.
ঘুম ঘুম ভাবকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে ওমর (রাঃ) উঠে পড়লেন। উদ্দেশ্য প্রজাদের খোঁজ-খবর নেবেন। এমন সময় তিনি দেখতে পেলেন অন্ধকারের মধ্যে এক মহিলা পানি ভর্তি মশ্ক পিঠে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে।
ওমর (রাঃ) সে মহিলাকে তাঁর অবস্থা জিজ্ঞেস করেন। তখন মহিলাটি জানাল, সে একটি পরিবারের দেখা-শোনা করে, তার কোনো খাদিম নেই তাই সে রাতের বেলায় পানি আনতে হয়, কেননা দিনেরবেলা ছোট ছোট বাচ্চাদের রেখে বের হতে সে ভয় পায়।
তাঁর কথা শুনে ওমর (রাঃ)-এর অন্তরে সহানুভূতি হলো। তিনি মহিলার পানির পাত্র নিজের কাঁধে বহন করে তার বাড়িতে পৌঁছে দিলেন।
এরপর তিনি মহিলাকে বললেন, আগামীকাল তুমি ওমরের কাছে যেয়ো।
মহিলা বলল, আমি তো তাঁর কাছে যেতে পারব না।
ওমর (রাঃ) বললেন, তুমি যেয়ো, ইন-শা-আল্লাহ তুমি আমাকে সেখানে পাবে।
পরের দিন মহিলা ওমর (রাঃ)-এর দরবারে এসে দেখল, গত রাতের সেই লোকটিই আমীরুল মুমিনীন। তাই সে ভয়ে ফিরে যেতে লাগল। তখন ওমর (রাঃ) তার জন্যে একজন খাদেম ও কিছু খাদ্যদ্রব্য পাঠিয়ে দিলেন。
টিকাঃ
১১০ আল কানজ, ২য় খণ্ড, ২৯। ফাতহা-৯
📄 তোমার কথা শুনবও না, তোমার আনুগত্যও করব না
একদিন আমীরুল মুমিনীন ওমর (রাঃ)-এর কাছে অনেকগুলো নতুন কাপড় আসল। ওমর (রাঃ) জনগণের মাঝে তা সমানভাগে ভাগ করে দিলেন। এতে প্রত্যেককে একটি করে কাপড় পেল।
পরবর্তী দেখা গেল ওমর (রাঃ) দুটি কাপড়ের তৈরি একটি জুব্বা গায়ে দিয়ে মিেম্বরে উঠেছেন।
তিনি ভাষণ দিতে শুরু করলেন, হে লোক সকল! তোমরা মনোযোগ দিয়ে শুন।
তখন সালমান (রাঃ) বললেন, তোমার কথা শুনবও না, তোমার আনুগত্যও করব না।
ওমর (রাঃ) অবাক হয়ে বললেন, আব্দুল্লাহ্র বাবা, কেন?
সালমান (রাঃ) বললেন, আপনি আমাদেরকে একটি করে কাপড় দিয়েছেন, কিন্তু নিজে দুটি নিয়েছেন।
ওমর (রাঃ) বললেন, আব্দুল্লাহ্র বাবা, একটু অপেক্ষা কর।
এরপর ওমর (রাঃ) ডাক দিয়ে বললেন, আব্দুল্লাহ বিন ওমর।
তাঁর ছেলে বললেন, জী, হে আমীরুল মুমিনীন।
ওমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমি তোমাকে আল্লাহ্র দোহাই দিচ্ছি, আমি অতিরিক্ত যে কাপড়টি পরেছি তা কি তোমার কাপড় নয়?
তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ সাক্ষী।
তখন সালমান (রাঃ) বললেন, এখন, আমরা তোমার কথা শুনব ও তোমার আনুগত্য করব。
টিকাঃ
১১১ তারিখুল আদওয়ারী, ৮ম খণ্ড, ২৪, প:।