📄 সদকার উটের সেবায় ওমর রা.
গ্রীষ্মের একদিনে, চারিদিকে যখন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। সূর্যের কিরণে মক্কর বলি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ পরিশ্রুত হয়েছে। এমনি এক সময় আহনাফ বিন কায়সের নেতৃত্বে ইয়েমেনের এক প্রতিনিধি দল এসে মদিনায় উপস্থিত হলো। তারা এসে আমীরুল মুমিনীনকে খুঁজতে লাগল।
যখন ওমর (রাঃ) আহনাফকে দেখলেন তিনি তাকে বললেন, আহনাফ জামা খুলে এসো, উটের সেবায় আমীরুল মুমিনীনকে সহযোগিতা কর। এতে তো ইয়াতিম, মিসকীন ও বিধবাদের অধিকার রয়েছে।
উপস্থিত একজন বলল, আমীরুল মুমিনীন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনি কোনো গোলামকে আদেশ দিলেই তো সে কাজটি করে দিত।
তখন ওমর (রাঃ) খুব সাধারণভাবে বললেন, আমার ও আহনাফের চেয়ে অধম গোলাম আর কে আছে, যে ব্যক্তিকে মুসলমানদের দায়িত্ব নিয়োগিত করা হলো সে তো মুসলমানদের দাস হয়ে গেল। গোলামের ওপর যেমন মালিকের কাজ করে দেওয়া আবশ্যক তেমনি গভর্নরদের ওপরও আবশ্যক মুসলমানদের কাজ করে দেওয়া。
টিকাঃ
১০৭ আল কানজ, হাদিস নং ১৪৩০৭ ও মাযাকিবে আমীরুল মুমিনীন ৬২।
📄 গোলামের পেছনে ওমর রা.
সূর্যের প্রচণ্ড তাপের মধ্যাহ্নে মাথায় একটি চাদর পেঁচিয়ে ওমর (রাঃ) মদিনার বাইরে হেঁটে চলছিলেন।
পান দিয়ে গাধায় চড়ে এক গোলামকে যেতে দেখে ওমর (রাঃ) বললেন, গোলাম! আমাকে গাধার ওপর আরোহণ করাও।
গোলামটা পাখা থামিয়ে নেমে গিয়ে কাঁপতে দেখে বলল, আমীরুল মুমিনীন আপনি উঠে বসুন।
ওমর (রাঃ) বললেন, না, আগে তুমি উঠে বস, পরে আমি উঠব। তুমি চাও আমাকে গদিতে বসিয়ে তুমি শক্ত জায়গায় বসো।
গোলাম বার বার আমীরুল মুমিনীনকে সামনে বসতে অনুরোধ করলেন, কিন্তু ওমর (রাঃ) তাঁর কথার ওপর অটল ছিলেন। বাধ্য হয়ে গোলাম সামনে বসল। আর ওমর (রাঃ) গোলামের পেছনে বসেই মদিনায় প্রবেশ করলেন। মানুষ তাঁর এমন উদারতার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে রইল。
টিকাঃ
১০৮ আল কানজ, হাদিস নং ৩০৬৬১।
📄 ছেলেকে শিষ্টাচার শিখাচ্ছেন ওমর রা.
একদিন ওমর (রাঃ)-এর ছেলে সুন্দর জামা পরে চুলগুলো সাজিয়ে তাঁর কাছে আসল। ওমর (রাঃ) একটি ছড়ি দিয়ে তাকে প্রহার করতে লাগলেন, এমনকি সে কাঁদতে শুরু করল।
তখন হাফসা (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি তাকে মারছেন কেন?
ওমর (রাঃ) বললেন, আমি তাকে দেখলাম সে নিজেকে নিয়ে অহংকার করছে আর তাই তাকে তার নিজের কাছে ছোট করে দেওয়া আমি পছন্দ করলাম。
টিকাঃ
১০৯ তারানাক্কা লিস্সালিহা ৩য় খণ্ড, ২১০।
📄 পানির পাত্র বহন করছেন ওমর রা.
ঘুম ঘুম ভাবকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে ওমর (রাঃ) উঠে পড়লেন। উদ্দেশ্য প্রজাদের খোঁজ-খবর নেবেন। এমন সময় তিনি দেখতে পেলেন অন্ধকারের মধ্যে এক মহিলা পানি ভর্তি মশ্ক পিঠে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে।
ওমর (রাঃ) সে মহিলাকে তাঁর অবস্থা জিজ্ঞেস করেন। তখন মহিলাটি জানাল, সে একটি পরিবারের দেখা-শোনা করে, তার কোনো খাদিম নেই তাই সে রাতের বেলায় পানি আনতে হয়, কেননা দিনেরবেলা ছোট ছোট বাচ্চাদের রেখে বের হতে সে ভয় পায়।
তাঁর কথা শুনে ওমর (রাঃ)-এর অন্তরে সহানুভূতি হলো। তিনি মহিলার পানির পাত্র নিজের কাঁধে বহন করে তার বাড়িতে পৌঁছে দিলেন।
এরপর তিনি মহিলাকে বললেন, আগামীকাল তুমি ওমরের কাছে যেয়ো।
মহিলা বলল, আমি তো তাঁর কাছে যেতে পারব না।
ওমর (রাঃ) বললেন, তুমি যেয়ো, ইন-শা-আল্লাহ তুমি আমাকে সেখানে পাবে।
পরের দিন মহিলা ওমর (রাঃ)-এর দরবারে এসে দেখল, গত রাতের সেই লোকটিই আমীরুল মুমিনীন। তাই সে ভয়ে ফিরে যেতে লাগল। তখন ওমর (রাঃ) তার জন্যে একজন খাদেম ও কিছু খাদ্যদ্রব্য পাঠিয়ে দিলেন。
টিকাঃ
১১০ আল কানজ, ২য় খণ্ড, ২৯। ফাতহা-৯