📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওমর রা.-এর সাথে মিলে যাওয়া কোরআনের আয়াত

📄 ওমর রা.-এর সাথে মিলে যাওয়া কোরআনের আয়াত


ওমর ﷺ-এর সাথে কোরআনের সম্পর্ক ছিল অন্য রকম। তিনি কোরআন তেলাওয়াত করতে ও শুনতে খুবই পছন্দ করতেন এবং কোরআনের দাবি অনুসারে তিনি নিজের জীবনকে পরিচালনা করতেন। তাঁর সাথে কোরআনের সম্পর্ক ছিল অতি আশ্চর্যজনক। রাসুল ﷺ তাঁকে তেইশ লেখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। রাসুল ﷺ-এর কাছে কোনো ওহী নাযিল হলে তিনি তা তেলাওয়াত করতেন আর হযরত ওমর ﷺ তা লিখে ফেলতেন। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে হযরত ওমর ﷺ-এর কথার সাথে কোরআনের অনেকগুলো আয়াত মিলে গেছে। যেগুলোকে মুওয়াফাকাতে ওমর বলে। আমরা সেগুলো নিচে উল্লেখ করলাম..........
প্রথমতঃ হযরত ওমর ﷺ মুসলমানদেরকে রাসুল ﷺ-এর সাথে হজ করতে দেখে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! যদি আমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাযের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতাম। পরে আল্লাহ্ তা'আলা আয়াত নাযিল করলেন। وَإِذَا تَقُوْمُواْ مِنْ مَّقَامِ إِبْرَاهِيْمَ مُصَلًّى 'তোমরা ইবরাহিমের দাঁড়ানো জায়গাকে নামাযের জায়গা হিসেবে গ্রহণ কর।' (সূরা বাকারা : ১২৫)
মাকামে ইবরাহিম হচ্ছে এমন স্থান যেখানে হযরত ইবরাহিম দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানে তাঁর পদচিহ্ন আজ পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে। হযরত ওমর ﷺ মাকামে ইবরাহিমকে নামাযের স্থান হিসেবেই পছন্দ করেছিলেন। দ্বিতীয়ত: মুসলমান, মুনাফিক ও কাফের সকলে আসা যাওয়ার পথে রাসুল ﷺ-এর স্ত্রীদেরকে দেখতে পেত। এ বিষয়টি নিয়ে ওমর ﷺ খুবই চিন্তিত ছিলেন। তিনি রাসুল ﷺ-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি যদি আপনার স্ত্রীদেরকে পর্দা করার নির্দেশ দিতেন। কেননা তাদের সাথে ভালো লোকেরাও কথা বলে আবার অনেক সময় খারাপ লোকেরাও কথা বলে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা পর্দার আয়াত নাযিল করলেন এবং রাসুল ﷺ-এর স্ত্রীদেরকে পর্দা করার নির্দেশ দিলেন।
তৃতীয়ত: একদিন রাসুল ﷺ তাঁর স্ত্রীদের ওপর রাগ করে তাঁদের সাথে থাকা ত্যাগ করলেন। ওমর ﷺ এ কথা জানার পর বললেন, عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبْدِلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِّنْكُنَّ مُسْلِمَاتٍ مُّؤْمِنَاتٍ قَانِتَاتٍ تَائِبَاتٍ عَابِدَاتٍ سَائِحَاتٍ ثَيِّبَاتٍ وَأَبْكَارًا 'যদি তিনি তোমাদের তালাক প্রদান করেন, তবে তার প্রতি প্রভু তাকে কুমারী ও অকুমারীসহ এমন উত্তম এমন স্ত্রী দান করবেন যারা মুসলিম, মু'মিনা, অনুগত, তাওবাকারী, সংযমী।'
তিনি যেভাবে বলেছেন আল্লাহ তা'আলা হুবহু সেভাবে আয়াত নাযিল করলেন। এটা এ কারণে যে হযরত ওমর ﷺ-এর সম্পর্ক আল্লাহ তা'আলা'র সাথে ছিল। তাঁর অন্তর পবিত্র ছিল। এ কারণেই তো রাসুল ﷺ তাঁকে 'ফারুক' উপাধি দিয়েছিলেন।
চতুর্থত: বদরের যুদ্ধে মুসলমানগণ সত্তরজন মুশরিককে বন্দি করেছিলেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে চল্লিশজন। রাসুল ﷺ এদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করলেন। আবু বকর ﷺ তাঁদেরকে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দিতে বললেন। কিন্তু ওমর ﷺ তাঁদেরকে হত্যা করার কথা বললেন। কেননা তারা কাফের। রাসুল ﷺ আবু বকর ﷺ-এর পরামর্শ গ্রহণ করলেন। হযরত ওমর ﷺ-এর পরামর্শ অনুসারে তাঁদেরকে হত্যা করলে খুশি হতেন এ কথা জানিয়ে ওহী নাযিল করলেন। ওহী নাযিল হওয়ার পর রাসুল ﷺ ও আবু বকর ﷺ কেঁদে ফেললেন।
পঞ্চমত: মুনাফিকদের সর্দার আব্দুল্লাহ বিন উবাই বিন সালুল মারা যাওয়ার পর রাসুল ﷺ তাঁর জানাযায় উপস্থিত হতে চাইলেন, কিন্তু ওমর ﷺ তাঁকে জানাযায় না যেতে অনুরোধ করলেন। রাসুল ﷺ হচ্ছে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমতস্বরূপ, তাই কেউ জানাযায়াম যাচেছ তিনি তা চাইলেন না। এ কারণে তিনি তার জানাযায় উপস্থিত হলেন। জানাযায় শেষ হওয়ার সাথে সাথে কোরআন নাযিল হয়ে গেল। আল্লাহ তা'আলা রাসূল ﷺ-কে সতর্ক করে দিলেন এই বলে...
وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَىٰ قَبْرِهِ ۖ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ
“আর তাদের মধ্য থেকে কারো মৃত্যু হলে তার জানাযা আপনি পড়বেন না এবং তার কবরেও দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে। বস্তুত তারা পাপিষ্ঠ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।” (সুরা আত্ তাওবা: ৮৪)

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সদকার উটের সেবায় ওমর রা.

📄 সদকার উটের সেবায় ওমর রা.


গ্রীষ্মের একদিনে, চারিদিকে যখন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। সূর্যের কিরণে মক্কর বলি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ পরিশ্রুত হয়েছে। এমনি এক সময় আহনাফ বিন কায়সের নেতৃত্বে ইয়েমেনের এক প্রতিনিধি দল এসে মদিনায় উপস্থিত হলো। তারা এসে আমীরুল মুমিনীনকে খুঁজতে লাগল।
যখন ওমর (রাঃ) আহনাফকে দেখলেন তিনি তাকে বললেন, আহনাফ জামা খুলে এসো, উটের সেবায় আমীরুল মুমিনীনকে সহযোগিতা কর। এতে তো ইয়াতিম, মিসকীন ও বিধবাদের অধিকার রয়েছে।
উপস্থিত একজন বলল, আমীরুল মুমিনীন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনি কোনো গোলামকে আদেশ দিলেই তো সে কাজটি করে দিত।
তখন ওমর (রাঃ) খুব সাধারণভাবে বললেন, আমার ও আহনাফের চেয়ে অধম গোলাম আর কে আছে, যে ব্যক্তিকে মুসলমানদের দায়িত্ব নিয়োগিত করা হলো সে তো মুসলমানদের দাস হয়ে গেল। গোলামের ওপর যেমন মালিকের কাজ করে দেওয়া আবশ্যক তেমনি গভর্নরদের ওপরও আবশ্যক মুসলমানদের কাজ করে দেওয়া。

টিকাঃ
১০৭ আল কানজ, হাদিস নং ১৪৩০৭ ও মাযাকিবে আমীরুল মুমিনীন ৬২।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 গোলামের পেছনে ওমর রা.

📄 গোলামের পেছনে ওমর রা.


সূর্যের প্রচণ্ড তাপের মধ্যাহ্নে মাথায় একটি চাদর পেঁচিয়ে ওমর (রাঃ) মদিনার বাইরে হেঁটে চলছিলেন।
পান দিয়ে গাধায় চড়ে এক গোলামকে যেতে দেখে ওমর (রাঃ) বললেন, গোলাম! আমাকে গাধার ওপর আরোহণ করাও।
গোলামটা পাখা থামিয়ে নেমে গিয়ে কাঁপতে দেখে বলল, আমীরুল মুমিনীন আপনি উঠে বসুন।
ওমর (রাঃ) বললেন, না, আগে তুমি উঠে বস, পরে আমি উঠব। তুমি চাও আমাকে গদিতে বসিয়ে তুমি শক্ত জায়গায় বসো।
গোলাম বার বার আমীরুল মুমিনীনকে সামনে বসতে অনুরোধ করলেন, কিন্তু ওমর (রাঃ) তাঁর কথার ওপর অটল ছিলেন। বাধ্য হয়ে গোলাম সামনে বসল। আর ওমর (রাঃ) গোলামের পেছনে বসেই মদিনায় প্রবেশ করলেন। মানুষ তাঁর এমন উদারতার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে রইল。

টিকাঃ
১০৮ আল কানজ, হাদিস নং ৩০৬৬১।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ছেলেকে শিষ্টাচার শিখাচ্ছেন ওমর রা.

📄 ছেলেকে শিষ্টাচার শিখাচ্ছেন ওমর রা.


একদিন ওমর (রাঃ)-এর ছেলে সুন্দর জামা পরে চুলগুলো সাজিয়ে তাঁর কাছে আসল। ওমর (রাঃ) একটি ছড়ি দিয়ে তাকে প্রহার করতে লাগলেন, এমনকি সে কাঁদতে শুরু করল।
তখন হাফসা (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি তাকে মারছেন কেন?
ওমর (রাঃ) বললেন, আমি তাকে দেখলাম সে নিজেকে নিয়ে অহংকার করছে আর তাই তাকে তার নিজের কাছে ছোট করে দেওয়া আমি পছন্দ করলাম。

টিকাঃ
১০৯ তারানাক্কা লিস্সালিহা ৩য় খণ্ড, ২১০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00