📄 আপনার পরে আমি আর কাউকে স্বীকৃতি দিব না
হযরত আব্দুর রহমান ইবনু উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা رضي الله عنها-এর ঘরে আসলেন। তিনি তখন অনেক সম্পদের মালিক ছিলেন। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতে উম্মে সালামা তাঁকে দানের প্রতি উৎসাহিত করতে লাগলেন। তিনি বললেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমার কিছু সাহাবী যারা আমার ইন্তিকালের পর আর আমাকে দেখবে না। তাঁর এ কথাটি আব্দুর রহমান বিন আউফ رضي الله عنه-এর অন্তরে গিয়ে লেগে যায়। কথাবলা তাঁর কল্পনায় বারবার আসতে লাগল। তিনি দ্রুত উঠে ওমর বিন খাত্তাব رضي الله عنه-এর কাছে গেলেন। তিনি ওমর رضي الله عنه-কে বললেন, আপনার মা কি বলেছে শুনুন.........এবং কেন উম্মে সালামা এ কথাটি বলেছেন তাও তিনি তাঁকে বললেন। এ কথা শুনে ওমর رضي الله عنه-এরও কাঁপুনি লাগলো। তিনি উম্মুল মু'মিনীন হযরত উম্মে সালামা রضي الله عنها-এর ঘরে দৌড়ে এলেন। তিনি তাঁকে ভয়ে ভয়ে বলতে লাগলেন, আল্লাহর দোহাই, তাদের মধ্যে কি আমিও আছি? উম্মে সালামা رضي الله عنها বললেন, না, তবে আপনার পর আর কাউকে আমি স্বীকৃতি দিব না。
টিকাঃ
⁹⁵) ইয়া আয়হাদ, ২য় খণ্ড, ২৯৮ পৃঃ।
📄 আজ আমি আবু বকর থেকে এগিয়ে যাব
প্রথমত, তীব্র গরম ও ফল পাকাবার মৌসুমে তাবুকের যুদ্ধের ঘোষণা হয়। সাহাবায়ে কেরামের জন্য বিষয়টি ছিল খুবই কঠিন। সবাই চাচ্ছিলেন যুদ্ধটি আরো পরে হোক। একদিকে তীব্র গরম ও খেজুর পাকবার সময়। অন্যদিকে গরমের ভেতরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। তাছাড়া সম্পদ ও সৈন্যসংখ্যার দিক দিয়ে মুসলমানরা শত্রুদের তুলনায় অনেক দুর্বল।
রাসুল ﷺ তাঁর সাহাবায়ে কেরামকে এ যুদ্ধে দান করার ব্যাপারে উৎসাহ দিতে লাগলেন। হযরত ওমর ﷺ তখন অনেক সম্পদের মালিক ছিলেন। তিনি ভালো কাজে সবসময় হযরত আবু বকর ﷺ-এর সাথে প্রতিযোগিতা করতেন। হযরত আবু বকর ﷺ তখন ততো সম্পদের মালিক ছিলেন না। আর তাই হযরত ওমর ﷺ তাঁকে পেছনে ফেলার এটিকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করলেন। তিনি দ্রুত গিয়ে তাঁর সম্পদকে সমান দুইভাগ করে একভাগ পরিবারের জন্যে রেখে অন্যভাগ রাসুল ﷺ-এর কাছে নিয়ে আসলেন। রাসুল ﷺ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি পরিবারের জন্যে কি রেখে এসেছ? তিনি বললেন, আমি তাদের জন্যে আমার অর্ধেক সম্পদ রেখে এসেছি।
অন্যদিকে হযরত আবু বকর ﷺ তাঁর যা কিছু ছিল সব নিয়ে রাসুল ﷺ-এর কাছে হাজির হলেন। রাসুল ﷺ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তোমার পরিবারের জন্যে কি রেখে এসেছ? তিনি বললেন, আমি তাদের জন্যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি। হযরত ওমর ﷺ তখন বুঝতে পারলেন যে, তিনি কখনোই হযরত আবু বকর ﷺ-কে পেছনে ফেলতে পারেন না। তিনি এ কথার স্বীকৃতি দিয়ে বললেন, আমি কখনো আবু বকরকে পেছনে ফেলতে পারব না。
টিকাঃ
⁹⁶) বুখারীর তাগবীলীন লিল আহওয়ালা।
📄 কুষ্ঠরোগী মহিলা
দলে দলে লোকজন কা'বাঘর তাওয়াফ করছিল। তাকবীরের তাহলিলের ধ্বনির সাথে সাথে খরছ হচ্ছে চোখের অশ্রু। ওমর ﷺ লক্ষ্য করে দেখলেন, ভীড়ের মাঝে এক কুষ্ঠরোগী মহিলা তাওয়াফ করছে। তিনি তাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আল্লাহ্ বান্দী! তুমি লোকেদেরকে কষ্ট দিও না। যদি তুমি তোমার ঘরে থাকতে (তবে তা ভালো হতো)। মহিলা ওমর ﷺ-এর কথায় সাড়া দিয়ে বাড়িতে অবস্থান করতে লাগল। এরপর একদিন ওমর ﷺ-ও ইন্তিকাল করেন। তাঁর ইন্তিকালের পর এক ব্যক্তি মহিলার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বলল, যিনি তোমাকে বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করেছেন তিনি মারা গেছেন; সুতরাং তুমি এখন বের হতে পার। মহিলা বলল, আমি এমন নই যে, জীবিত অবস্থায় তাঁর আনুগত্য করব আর মৃত অবস্থায় অবাধ্য হব。
টিকাঃ
⁹⁷) কানযুল উম্মাল, ১খ খন্ড, ২৮৮ পৃঃ।
📄 ওমর রা.-এর আত্মমর্যাদা
স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের রীতিতে রাসুল ﷺ মজলিসে বসেছিলেন। তাঁর পবিত্র জবান থেকে দাসবীয় তাহলীল উচ্চারিত হচ্ছিল এবং তিনি মাঝে মাঝে তাঁর সাহাবায়ে কেরামদেরকে হাদিস শুনাচ্ছিলেন। সাহাবায়ে কেরামের একটি দল তাঁকে ঘিরে বসে আছেন। তিনি তাঁদেরকে বললেন, আমি ঘুম থাকা অবস্থায় একদিন নিজেকে জান্নাতে দেখতে পেলাম। তখন দেখতে পেলাম এক মহিলা একটি প্রাসাদের পাশে অযু করছিল। আমি বললাম, এ প্রাসাদ কার জন্যে? কেউ একজন বলল, ওমরের জন্যে। তারপর তিনি বললেন, তখন ওমরের আত্মমর্যাদা কথা মনে পড়ে আমি প্রাসাদে প্রবেশ না করে ফিরে আসি। তখন ওমর ﷺ কান্না শুরু করলেন আর বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর আমার আত্মমর্যাদা?
টিকাঃ
⁹⁸) বুখারী শরীফ, হাদিস নং ৩৬৭৭।