📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 এক বেদুইন যে তার মাকে নিয়ে তাওয়াফ করছিল

📄 এক বেদুইন যে তার মাকে নিয়ে তাওয়াফ করছিল


তাওআফকারীদের ভীড়ভাট্টার তাসবীহের উচ্চ আওয়াজে মুখরিত করার পরিবেশ। দীর্ঘদেহী প্রশস্ত বক্ষের অধিকারী শক্তিশালী এক যুবক তার মাকে কাঁধে দিয়ে প্রচুর ভালোবাসায় আসক্ত তাওআফকারীদের পেছনে পেছনে ছুটছিল আর ঘুরছিল,
وَمَا حَمَلَتْنِي وَأَرْضَعَتْنِي أُمُّ إِذَا أَلَرُكْبُ دَعَرَتْ لَا أَذَمَّرُ لِبَيَكَ اللّٰهُمَّ لِبَيَكَ...
আমি এমন এক বাহন যা কখনো করবে না পলায়ন বাহনগুলো পিছনে ছুটে যাবে যখন কিন্তু তখনও আমি ফিরব না পিছন আমাকে গর্ভে ধারণ ও দুগ্ধ পোষণ যে আল্লাহ! হাজির আমি হে আল্লাহ! হাজির আমি তোমার দরবারে এখন
আলী ইবনুল খাত্তাব ﷺ তখন ওমর ইবনুল খাত্তাব ﷺ -এর সাথে বায়তুল্লাহর পাশে বাহনে আরোহী অবস্থায় ছিলেন। তিনি ওমর ﷺ -কে বললেন, হে আবু হাফস! আমাদের সাথে তাওআফে চলুন, হতে পারে রহমত নাযিল হবে ফলে আমরাও তাতে অংশীদার থাকবো।
তখন তারা ওই যুবকের পিছনে পিছনে চলতে লাগলেন, আর আলী ﷺ যুবকটির কবিতা শুনে প্রত্যুত্তরে বললেন,
كَيْفَهَا لِلَّهِ أَكْثَرُ يَجْزِيكَ بِالْفَيْلِ الْأَكْثَرِ সদুপহার করেছো তুমি তার সাথে সুতরাং আল্লাহর শুকরিয়া কর তুমি। তোমার সামান্য কর্ম অধিক পুরস্কার দিবেন তোমাকে তিনি。

টিকাঃ
⁹³) আল বায়হাকী ফি শু'আবিল ঈমান, হাদিস নং ৭৮৬৮।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 কবর থেকে যুবকের কথা

📄 কবর থেকে যুবকের কথা


মদিনায় নয় ভদ্র স্বভাবের দুনিয়াবী এক যুবক বাস করত। রাসুল ﷺ-এর সাহাবীদের মূল্যবান কথাগুলো শুনার জন্যে সে অধিকাংশ সময় মসজিদে অবস্থান করত। তাঁর স্বভাব-চরিত্র দেখে ওমর ﷺ মুগ্ধ হতেন। যুবকটির পিতা ছিল অত্যন্ত বৃদ্ধ। এ কারণে এশার নামায পড়েই যুবকটি বাড়িতে চলে যেত। তাঁর চলাচলের পথে জনৈক এক মহিলার বাড়ি ছিল। যুবকটি সে মহিলার রূপমুগ্ধায় পড়ে গেল।
একদিন যুবকটি মহিলার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মহিলাটি তাকে প্ররোচনা দিতে লাগল। এতে সে ধোঁকায় পড়ে গিয়ে মহিলাটির পিছু পিছু চলতে লাগল। যখনই সে ঘরে ঢুকবে তখনি কোরআনের একটি আয়াত তার স্মরণে এসে গেল فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيَبْدِ يّ لَهُمَا مَا وَرَى غِشَهُمَا مِنْ سَوْءَا تَهُما وَقَالَ مَا نَهَا لَهُمَا وَكَذَبَ عَنْ هُمَا وَالْمَغْفِرَةُ إِلَّا أَنَّى مَا تُمْكِنْ أَنَّهَا قَابِلِيِّينَ অতঃপর শয়তান তাদের গোপনে থাকা অঙ্গ তাদের সামনে প্রকাশ করার জন্য তাদের উভয়কে প্ররোচিত করল। সে বলল, তোমরা ফেরেশতা হয়ে যাবে অথবা চিরস্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যাবে এ কারণেই তোমাদের পালনকর্তা তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করেছেন। (সূরা আরাফ : ২০) আল্লাহর এ বাণী মনে পড়ার সাথে সাথে যুবকটি বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেল। তখন তাকে লোকজন তার বাবার কাছে নিয়ে এল। রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সে এভাবে অজ্ঞান হয়েছিল। তার জ্ঞান ফিরে আসার পর তার বাবা তাকে কি হয়েছে তা জানতে চাইলেন। তখন সে ঘটনাটি তার বাবার কাছে বলল।
তখন তার বাবা বলল, বাবা! তুমি কোন আয়াতখানা পাঠ করেছিলে? যুবকটি আয়াতখানা তেলাওয়াত করতে না করতেই আবারও অজ্ঞান হয়ে গেল। তখন উপস্থিত লোকজন তাকে নাড়া দিলে দেখল সে মারা গেছে। তারা তাকে গোসল দিয়ে রাতেরে দাফন করে ফেলল।
সকালবেলা ওমর ﷺ ঘটনাটি জানতে পেরে যুবকটির কবরের পাশে আসলেন। তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক!
وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ
'যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দাঁড়ানোর ভয় রাখে, তার জন্যে রয়েছে দুইটি জান্নাত।' (সূরা আর রাহমান : ৪৬)
তখন যুবকটি কবর থেকে আওয়াজ দিয়ে বলল, ওমর! আমার প্রতিপালক আমাকে দুইটি জান্নাতই দান করেছেন। সে এ কথাটি দু'বার বলল。

টিকাঃ
⁹⁴) তাফসীরে ইবনে কাসীর, ২য় খণ্ড, ২১৭ পৃঃ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আপনার পরে আমি আর কাউকে স্বীকৃতি দিব না

📄 আপনার পরে আমি আর কাউকে স্বীকৃতি দিব না


হযরত আব্দুর রহমান ইবনু উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা رضي الله عنها-এর ঘরে আসলেন। তিনি তখন অনেক সম্পদের মালিক ছিলেন। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতে উম্মে সালামা তাঁকে দানের প্রতি উৎসাহিত করতে লাগলেন। তিনি বললেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমার কিছু সাহাবী যারা আমার ইন্তিকালের পর আর আমাকে দেখবে না। তাঁর এ কথাটি আব্দুর রহমান বিন আউফ رضي الله عنه-এর অন্তরে গিয়ে লেগে যায়। কথাবলা তাঁর কল্পনায় বারবার আসতে লাগল। তিনি দ্রুত উঠে ওমর বিন খাত্তাব رضي الله عنه-এর কাছে গেলেন। তিনি ওমর رضي الله عنه-কে বললেন, আপনার মা কি বলেছে শুনুন.........এবং কেন উম্মে সালামা এ কথাটি বলেছেন তাও তিনি তাঁকে বললেন। এ কথা শুনে ওমর رضي الله عنه-এরও কাঁপুনি লাগলো। তিনি উম্মুল মু'মিনীন হযরত উম্মে সালামা রضي الله عنها-এর ঘরে দৌড়ে এলেন। তিনি তাঁকে ভয়ে ভয়ে বলতে লাগলেন, আল্লাহর দোহাই, তাদের মধ্যে কি আমিও আছি? উম্মে সালামা رضي الله عنها বললেন, না, তবে আপনার পর আর কাউকে আমি স্বীকৃতি দিব না。

টিকাঃ
⁹⁵) ইয়া আয়হাদ, ২য় খণ্ড, ২৯৮ পৃঃ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আজ আমি আবু বকর থেকে এগিয়ে যাব

📄 আজ আমি আবু বকর থেকে এগিয়ে যাব


প্রথমত, তীব্র গরম ও ফল পাকাবার মৌসুমে তাবুকের যুদ্ধের ঘোষণা হয়। সাহাবায়ে কেরামের জন্য বিষয়টি ছিল খুবই কঠিন। সবাই চাচ্ছিলেন যুদ্ধটি আরো পরে হোক। একদিকে তীব্র গরম ও খেজুর পাকবার সময়। অন্যদিকে গরমের ভেতরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। তাছাড়া সম্পদ ও সৈন্যসংখ্যার দিক দিয়ে মুসলমানরা শত্রুদের তুলনায় অনেক দুর্বল।
রাসুল ﷺ তাঁর সাহাবায়ে কেরামকে এ যুদ্ধে দান করার ব্যাপারে উৎসাহ দিতে লাগলেন। হযরত ওমর ﷺ তখন অনেক সম্পদের মালিক ছিলেন। তিনি ভালো কাজে সবসময় হযরত আবু বকর ﷺ-এর সাথে প্রতিযোগিতা করতেন। হযরত আবু বকর ﷺ তখন ততো সম্পদের মালিক ছিলেন না। আর তাই হযরত ওমর ﷺ তাঁকে পেছনে ফেলার এটিকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করলেন। তিনি দ্রুত গিয়ে তাঁর সম্পদকে সমান দুইভাগ করে একভাগ পরিবারের জন্যে রেখে অন্যভাগ রাসুল ﷺ-এর কাছে নিয়ে আসলেন। রাসুল ﷺ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি পরিবারের জন্যে কি রেখে এসেছ? তিনি বললেন, আমি তাদের জন্যে আমার অর্ধেক সম্পদ রেখে এসেছি।
অন্যদিকে হযরত আবু বকর ﷺ তাঁর যা কিছু ছিল সব নিয়ে রাসুল ﷺ-এর কাছে হাজির হলেন। রাসুল ﷺ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তোমার পরিবারের জন্যে কি রেখে এসেছ? তিনি বললেন, আমি তাদের জন্যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি। হযরত ওমর ﷺ তখন বুঝতে পারলেন যে, তিনি কখনোই হযরত আবু বকর ﷺ-কে পেছনে ফেলতে পারেন না। তিনি এ কথার স্বীকৃতি দিয়ে বললেন, আমি কখনো আবু বকরকে পেছনে ফেলতে পারব না。

টিকাঃ
⁹⁶) বুখারীর তাগবীলীন লিল আহওয়ালা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00