📄 অন্ধ বৃদ্ধা মহিলা
মদিনা নগরীর উপকণ্ঠে এক বৃদ্ধা মহিলা বসবাস করতেন। সম্পদ বলতে তাঁর ছিল একটি ছাগল, একটি বালতি ও পুরনো ছেঁড়া একটি মাদুর। ওমর ﷺ প্রতিরাতেও সেখানে গমন করে মহিলাটির পরিচর্যা করতেন। তিনি মহিলার পানি এনে দেওয়াসহ অন্য সব কাজ করে দিয়ে যেতেন।
একদিন ওমর ﷺ মহিলাটি সেবা করে গিয়ে দেখলেন- ঘরের সবকিছু সাজানো-গোছানো। তখন তিনি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন একজন একজন লোক তাঁর পূর্বে এসে সবকাজ করে দিয়েছে।
এরপর ওমর ﷺ প্রতিদিনই এসে দেখতেন তাঁর পূর্বে কেউ একজন এসে মহিলাটির সব কাজ করে দিত।
একদিন ওমর ﷺ লোককে দেখাবার জন্য তিনি ঘরের কাছে এক জায়গায় লুকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন। তাঁকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। এরই মধ্যে তিনি লোককে মহিলাটির ঘরে দিকে আসতে দেখলেন। লোকটি ঘরে এসে দরজার টুকা দিতে ভেতরে প্রবেশ করল, ............। লোকটি অন্য কেউ নন, তিনি বরং আবু বকর ﷺ , যিনি তখন মুসলিম জাহানের খলিফা ছিলেন। ওমর ﷺ -এর কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর তিনি আড়াল থেকে বের হয়ে এসে অবাক হয়ে বললেন, আপনি! আমার জীবনের শপথ, ........আপনি! আমার জীবনের শপথ。
টিকাঃ
২২৮ তাবাকাত ইবনে সা'দ, ৩য় খণ্ড, ৩৩১ পৃ.
📄 ওমর রা.-কে শহীদ ঘোষণা
রাসূলুল্লাহ ﷺ একদিন আবু বকর, ওমর, উসমান ﷺ -কে নিয়ে উহুদ পাহাড়ে উঠেছিলেন। তখন উহুদ পাহাড় থর থর করে কাঁপতে শুরু করল। রাসূল ﷺ পাহাড়কে লক্ষ্য করে বললেন, স্থির হও, তোমার ওপর একজন নবী, একজন সিদ্দিক ও দুইজন শহীদ ব্যতীত আর কেউ নেই। এখানে রাসূল ﷺ ছিলেন নবী, আবু বকর ﷺ হচ্ছেন সিদ্দিক আর ওমর ও উসমান ﷺ হচ্ছেন শহীদ。
টিকাঃ
৩০৩ মুসনাদে কানযুল উম্মাল, ৪র্থ খণ্ড, ৩৬৭ পৃ.
📄 এক বেদুইন যে তার মাকে নিয়ে তাওয়াফ করছিল
তাওআফকারীদের ভীড়ভাট্টার তাসবীহের উচ্চ আওয়াজে মুখরিত করার পরিবেশ। দীর্ঘদেহী প্রশস্ত বক্ষের অধিকারী শক্তিশালী এক যুবক তার মাকে কাঁধে দিয়ে প্রচুর ভালোবাসায় আসক্ত তাওআফকারীদের পেছনে পেছনে ছুটছিল আর ঘুরছিল,
وَمَا حَمَلَتْنِي وَأَرْضَعَتْنِي أُمُّ إِذَا أَلَرُكْبُ دَعَرَتْ لَا أَذَمَّرُ لِبَيَكَ اللّٰهُمَّ لِبَيَكَ...
আমি এমন এক বাহন যা কখনো করবে না পলায়ন বাহনগুলো পিছনে ছুটে যাবে যখন কিন্তু তখনও আমি ফিরব না পিছন আমাকে গর্ভে ধারণ ও দুগ্ধ পোষণ যে আল্লাহ! হাজির আমি হে আল্লাহ! হাজির আমি তোমার দরবারে এখন
আলী ইবনুল খাত্তাব ﷺ তখন ওমর ইবনুল খাত্তাব ﷺ -এর সাথে বায়তুল্লাহর পাশে বাহনে আরোহী অবস্থায় ছিলেন। তিনি ওমর ﷺ -কে বললেন, হে আবু হাফস! আমাদের সাথে তাওআফে চলুন, হতে পারে রহমত নাযিল হবে ফলে আমরাও তাতে অংশীদার থাকবো।
তখন তারা ওই যুবকের পিছনে পিছনে চলতে লাগলেন, আর আলী ﷺ যুবকটির কবিতা শুনে প্রত্যুত্তরে বললেন,
كَيْفَهَا لِلَّهِ أَكْثَرُ يَجْزِيكَ بِالْفَيْلِ الْأَكْثَرِ সদুপহার করেছো তুমি তার সাথে সুতরাং আল্লাহর শুকরিয়া কর তুমি। তোমার সামান্য কর্ম অধিক পুরস্কার দিবেন তোমাকে তিনি。
টিকাঃ
⁹³) আল বায়হাকী ফি শু'আবিল ঈমান, হাদিস নং ৭৮৬৮।
📄 কবর থেকে যুবকের কথা
মদিনায় নয় ভদ্র স্বভাবের দুনিয়াবী এক যুবক বাস করত। রাসুল ﷺ-এর সাহাবীদের মূল্যবান কথাগুলো শুনার জন্যে সে অধিকাংশ সময় মসজিদে অবস্থান করত। তাঁর স্বভাব-চরিত্র দেখে ওমর ﷺ মুগ্ধ হতেন। যুবকটির পিতা ছিল অত্যন্ত বৃদ্ধ। এ কারণে এশার নামায পড়েই যুবকটি বাড়িতে চলে যেত। তাঁর চলাচলের পথে জনৈক এক মহিলার বাড়ি ছিল। যুবকটি সে মহিলার রূপমুগ্ধায় পড়ে গেল।
একদিন যুবকটি মহিলার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মহিলাটি তাকে প্ররোচনা দিতে লাগল। এতে সে ধোঁকায় পড়ে গিয়ে মহিলাটির পিছু পিছু চলতে লাগল। যখনই সে ঘরে ঢুকবে তখনি কোরআনের একটি আয়াত তার স্মরণে এসে গেল فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيَبْدِ يّ لَهُمَا مَا وَرَى غِشَهُمَا مِنْ سَوْءَا تَهُما وَقَالَ مَا نَهَا لَهُمَا وَكَذَبَ عَنْ هُمَا وَالْمَغْفِرَةُ إِلَّا أَنَّى مَا تُمْكِنْ أَنَّهَا قَابِلِيِّينَ অতঃপর শয়তান তাদের গোপনে থাকা অঙ্গ তাদের সামনে প্রকাশ করার জন্য তাদের উভয়কে প্ররোচিত করল। সে বলল, তোমরা ফেরেশতা হয়ে যাবে অথবা চিরস্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যাবে এ কারণেই তোমাদের পালনকর্তা তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করেছেন। (সূরা আরাফ : ২০) আল্লাহর এ বাণী মনে পড়ার সাথে সাথে যুবকটি বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেল। তখন তাকে লোকজন তার বাবার কাছে নিয়ে এল। রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সে এভাবে অজ্ঞান হয়েছিল। তার জ্ঞান ফিরে আসার পর তার বাবা তাকে কি হয়েছে তা জানতে চাইলেন। তখন সে ঘটনাটি তার বাবার কাছে বলল।
তখন তার বাবা বলল, বাবা! তুমি কোন আয়াতখানা পাঠ করেছিলে? যুবকটি আয়াতখানা তেলাওয়াত করতে না করতেই আবারও অজ্ঞান হয়ে গেল। তখন উপস্থিত লোকজন তাকে নাড়া দিলে দেখল সে মারা গেছে। তারা তাকে গোসল দিয়ে রাতেরে দাফন করে ফেলল।
সকালবেলা ওমর ﷺ ঘটনাটি জানতে পেরে যুবকটির কবরের পাশে আসলেন। তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক!
وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ
'যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দাঁড়ানোর ভয় রাখে, তার জন্যে রয়েছে দুইটি জান্নাত।' (সূরা আর রাহমান : ৪৬)
তখন যুবকটি কবর থেকে আওয়াজ দিয়ে বলল, ওমর! আমার প্রতিপালক আমাকে দুইটি জান্নাতই দান করেছেন। সে এ কথাটি দু'বার বলল。
টিকাঃ
⁹⁴) তাফসীরে ইবনে কাসীর, ২য় খণ্ড, ২১৭ পৃঃ।