📄 ক্ষুধার্ত শিশু
মদিনার চারদিকে কোলাহল, নানান দেশের পসরাখাময় মুখরিত প্রুড়াগামি মদিনা নগরী। ওমর ﷺ তাঁর সঙ্গী আব্দুর রহমান বিন আওফ ﷺ -কে বললেন, আজ রাতে আমরা ব্যবসায়ীদের মালামাল পাহারা দিব এতে তোমার কোনো আপত্তি আছে?
এরপর তারা দুইজনে মিলে পাহারা দিতে লাগলেন এবং সাথে সাথে নামাযও পড়ছিলেন। এভাবেই তাঁদের দুইজনের রাত কাটছিল। এমন সময় ওমর ﷺ একটি শিশুর কান্না শুনতে পেলেন। কান্নায় আওয়াজটি যেদিক থেকে আসছিল ওমনি সেদিকে গেলেন। তিনি গিয়ে দেখলেন, একটি শিশু কাঁদছে। তখন তিনি শিশুর কান্না বন্ধ করার চেষ্টা করছিল, তাঁকে বললেন, আল্লাহকে ভয় কর, শিশুটির প্রতি সদয়?
কথাগুলো বলে তিনি তাঁর দাওয়াতের জায়গায় চলে এসেছেন। হঠাৎ করে কথাগুলো আবারো শিশুর আওয়াজ শুনা গেল। ওমর ﷺ পুনরায় গিয়ে শিশুটির মাকে কথাগুলো আবার বললেন, কিন্তু শেষ রাতেও তিনি শিশুটির কান্না শুনতে পেলেন। তখন তিনি আবারো মহিলাটির কাছে গিয়ে রেগে বললেন, তোমার জননী ধ্বংস! আমি দেখছি তুমি একজন নিষ্ঠুর মা। কি হয়েছে, শিশুটি কেন সারারাত রাত কাঁদছে।
মহিলা দুঃখভরা কন্ঠে বলল, হে আল্লাহ! বান্দা, এ রাতে তুমি আমাকে খুবই বিরক্ত করেছ, আমি তো তাকে দুধ ছাডাতে চাচ্ছি।
ওমর ﷺ বললেন, কিন্তু কেমন?
মহিলা ওমর ﷺ কে বলল, ওঁর তো দুগ্ধপোষাদের জন্য ভাত দেয় না।
কথাটি ওমর ﷺ -এর আত্মা কেঁপে উঠল। তিনি কেঁপা কেঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলেন, শিশুটির বয়স কত? মহিলা বলল, এ মাস।
তিনি বললেন, আফসোস! তুমি তাঁর দুগ্ধ ছাড়াতে তাড়াতাড়ি করো না। পাহারা দেওয়া শেষ করে তিনি ফজরের নামাযে দাঁড়ালেন। নামাযে কিরাত পড়তে গিয়ে তিনি এমনভাবে কাঁদছিলেন যে, লোকজন তাঁর কিরাত স্পষ্টভাবে শুনতে পাচ্ছিল। নামায শেষ করে তিনি বললেন, আহা! ওমরের খারাপি! সে মুসলমানদের কত সন্তানদেরকে হত্যা করেছে!
এরপর ওমর ﷺ দুগ্ধপোষ্য শিশুদের জন্য ভাতা নির্ধারণ করে দিলেন。
টিকাঃ
২২৭ তাবাকাত ইবনে সা'দ, ৩য় খণ্ড, ৩৩১ পৃ.
📄 অন্ধ বৃদ্ধা মহিলা
মদিনা নগরীর উপকণ্ঠে এক বৃদ্ধা মহিলা বসবাস করতেন। সম্পদ বলতে তাঁর ছিল একটি ছাগল, একটি বালতি ও পুরনো ছেঁড়া একটি মাদুর। ওমর ﷺ প্রতিরাতেও সেখানে গমন করে মহিলাটির পরিচর্যা করতেন। তিনি মহিলার পানি এনে দেওয়াসহ অন্য সব কাজ করে দিয়ে যেতেন।
একদিন ওমর ﷺ মহিলাটি সেবা করে গিয়ে দেখলেন- ঘরের সবকিছু সাজানো-গোছানো। তখন তিনি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন একজন একজন লোক তাঁর পূর্বে এসে সবকাজ করে দিয়েছে।
এরপর ওমর ﷺ প্রতিদিনই এসে দেখতেন তাঁর পূর্বে কেউ একজন এসে মহিলাটির সব কাজ করে দিত।
একদিন ওমর ﷺ লোককে দেখাবার জন্য তিনি ঘরের কাছে এক জায়গায় লুকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন। তাঁকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। এরই মধ্যে তিনি লোককে মহিলাটির ঘরে দিকে আসতে দেখলেন। লোকটি ঘরে এসে দরজার টুকা দিতে ভেতরে প্রবেশ করল, ............। লোকটি অন্য কেউ নন, তিনি বরং আবু বকর ﷺ , যিনি তখন মুসলিম জাহানের খলিফা ছিলেন। ওমর ﷺ -এর কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর তিনি আড়াল থেকে বের হয়ে এসে অবাক হয়ে বললেন, আপনি! আমার জীবনের শপথ, ........আপনি! আমার জীবনের শপথ。
টিকাঃ
২২৮ তাবাকাত ইবনে সা'দ, ৩য় খণ্ড, ৩৩১ পৃ.
📄 ওমর রা.-কে শহীদ ঘোষণা
রাসূলুল্লাহ ﷺ একদিন আবু বকর, ওমর, উসমান ﷺ -কে নিয়ে উহুদ পাহাড়ে উঠেছিলেন। তখন উহুদ পাহাড় থর থর করে কাঁপতে শুরু করল। রাসূল ﷺ পাহাড়কে লক্ষ্য করে বললেন, স্থির হও, তোমার ওপর একজন নবী, একজন সিদ্দিক ও দুইজন শহীদ ব্যতীত আর কেউ নেই। এখানে রাসূল ﷺ ছিলেন নবী, আবু বকর ﷺ হচ্ছেন সিদ্দিক আর ওমর ও উসমান ﷺ হচ্ছেন শহীদ。
টিকাঃ
৩০৩ মুসনাদে কানযুল উম্মাল, ৪র্থ খণ্ড, ৩৬৭ পৃ.
📄 এক বেদুইন যে তার মাকে নিয়ে তাওয়াফ করছিল
তাওআফকারীদের ভীড়ভাট্টার তাসবীহের উচ্চ আওয়াজে মুখরিত করার পরিবেশ। দীর্ঘদেহী প্রশস্ত বক্ষের অধিকারী শক্তিশালী এক যুবক তার মাকে কাঁধে দিয়ে প্রচুর ভালোবাসায় আসক্ত তাওআফকারীদের পেছনে পেছনে ছুটছিল আর ঘুরছিল,
وَمَا حَمَلَتْنِي وَأَرْضَعَتْنِي أُمُّ إِذَا أَلَرُكْبُ دَعَرَتْ لَا أَذَمَّرُ لِبَيَكَ اللّٰهُمَّ لِبَيَكَ...
আমি এমন এক বাহন যা কখনো করবে না পলায়ন বাহনগুলো পিছনে ছুটে যাবে যখন কিন্তু তখনও আমি ফিরব না পিছন আমাকে গর্ভে ধারণ ও দুগ্ধ পোষণ যে আল্লাহ! হাজির আমি হে আল্লাহ! হাজির আমি তোমার দরবারে এখন
আলী ইবনুল খাত্তাব ﷺ তখন ওমর ইবনুল খাত্তাব ﷺ -এর সাথে বায়তুল্লাহর পাশে বাহনে আরোহী অবস্থায় ছিলেন। তিনি ওমর ﷺ -কে বললেন, হে আবু হাফস! আমাদের সাথে তাওআফে চলুন, হতে পারে রহমত নাযিল হবে ফলে আমরাও তাতে অংশীদার থাকবো।
তখন তারা ওই যুবকের পিছনে পিছনে চলতে লাগলেন, আর আলী ﷺ যুবকটির কবিতা শুনে প্রত্যুত্তরে বললেন,
كَيْفَهَا لِلَّهِ أَكْثَرُ يَجْزِيكَ بِالْفَيْلِ الْأَكْثَرِ সদুপহার করেছো তুমি তার সাথে সুতরাং আল্লাহর শুকরিয়া কর তুমি। তোমার সামান্য কর্ম অধিক পুরস্কার দিবেন তোমাকে তিনি。
টিকাঃ
⁹³) আল বায়হাকী ফি শু'আবিল ঈমান, হাদিস নং ৭৮৬৮।