📄 ওমর রা. ও ইসলাম
রাসূল ﷺ ও হযরত ওমর ﷺ-এর বয়সের ব্যবধান ছিল মাত্র তের বছর। রাসূল ﷺ মক্কায় হাতি আক্রমণের বছর জন্মগ্রহণ করেছেন আর হযরত ওমর ﷺ এ ঘটনার তেরো বছর পর জন্মগ্রহণ করেছেন। রাসূল ﷺ ও ওমর ﷺ দুজনইহেঁ মক্কার পরিচিত মুখ ছিলেন। কিন্তু হযরত আবু বকর ﷺ-এর সাথে রাসূল ﷺ-এর যেমন বন্ধুত্ব ছিল তেমন বন্ধুত্ব তাঁর সাথে ছিল না। তবে রাসূল ﷺ তাঁর ইসলাম গ্রহণের জন্যে দোয়া করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, اَللّٰهُمَّ اَعِزَّ الْاِسْلَامَ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ اَللّٰهُمَّ “হে আল্লাহ! ওমর বিন খাত্তাবের দ্বারা আপনি ইসলামকে শক্তিশালী করুন।”
টিকাঃ
১৪১ বুলাগাতুল রাশিদীন লিল আলফাল।
📄 ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ওমর রা.-এর অবস্থান
ওমর ﷺ ইসলাম গ্রহণ করার পূর্বে ইসলামের বিরুদ্ধে কঠিনভাবে অবস্থান নিলেন। ইসলাম বিরোধীদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন। বনু আদীম্বর সে সকল লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে তিনি তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিতেন। বনু মুয়াফিমের এক দাসী ইসলাম গ্রহণের কারণে তিনি তাকে প্রতিদিন কঠিন শাস্তি দিতেন। তিনি ক্লান্ত হওয়া পর্যন্ত সে দাসীকে মারতেন। কেউ এ দাসীকে তার হাত থেকে রক্ষা করতে পারত না। পরে হযরত আবু বকর ﷺ দাসীকে ক্রয় করে আজাদ করে দিলেন। হযরত ওমর ﷺ এভাবে ইসলামের বিরোধিতা করে দিন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু কেন ওমর ﷺ ইসলামের বিরোধিতা করছিলেন। আর কেনই বা তিনি ইসলাম গ্রহণ করতে এত দেরি করেছিলেন। এটা আমরা আপনাদেরকে কিছুক্ষণ আগে বর্ণনা করেছি। কেননা মুর্ততার ওপর কট্টর এমন এক পরিবারে তিনি বেড়ে উঠেছেন। তার পরিবার মূর্তিপূজা করত, মূর্তিকে সম্মান করত, এর পেছনে অর্থ ব্যয় করত এবং এর উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি করত। তারা এ মূর্তিপূজাকেই জীবনের সব মনে করত। এ কারণে তিনিও জাহিলী সমাজের সেই বর্বরতার ওপর দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। হযরত ওমর ﷺ শুধু শুনে শুনে ইসলামের বিরোধিতা করেছেন তখনো তিনি ইসলাম ও ইসলামের নবী সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। কিন্তু যখন তিনি ইসলাম সম্পর্কে পরিচিত হলেন তখন তাঁর মাঝে বর্বরতা দূর হয়ে ইসলামের আলো জ্বলে উঠল। তিনি আল্লাহর সামনে নিজেকে সমর্পণ করলেন। আর তখন তিনি ইসলামের পক্ষে নিজের সবকিছু নিয়ে দৃঢ়ভাবে এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে কঠিন অবস্থান নিলেন। হযরত ওমর ﷺ-এর ইসলাম গ্রহণের ছোট ঘটনা…………….।
📄 ইসলাম গ্রহণের পথে হযরত ওমর রা.
একদিন হযরত ওমর ﷺ মদ পান করার জন্যে মদ বিক্রেতার কাছে গেলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে মদ বিক্রেতাকে না পেয়ে মদ পান করা আর হলো না। তিনি মনে মনে বললেন, আমি কা’বঘরের গিয়ে তাওয়াফ করব। ইতমোতো তিনি কা’বঘরের দিকে রওনা দিলেন। সেখানে গিয়ে দেখলেন তাঁর আগেই রাসূল ﷺ কা’বা ঘরে প্রবেশ করেছেন। তখন হযরত ওমর ﷺ ভাবলেন যে, আমি লুকিয়ে লুকিয়ে যা পাঠ করছে তা শুনব। ওইদিকে রাসূল ﷺ হালকা কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত করছিলেন। কুরআন তেলাওয়াতও আওয়াজ দিয়ে হযরত ওমর ﷺ-এর অন্তরে গেঁথে গেল। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগলেন। কোরাইশের মিথ্যা তার মনকে ভরে দিল। তিনি বলতে লাগলেন, আল্লাহ শপথ! কোরাইশদের কথা ঠিক, মুখযবান অবশ্যই একজন কবি। রাসূল ﷺ তাঁকে দেখতে পাননি, তিনি ধারাবাহিকভাবে একের পর এক আয়াত তেলাওয়াত করছিলেন। তিনি বলছিলেন.......... إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُوْلٍ كَرِيْمٍ – وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيْلًا مَا تُؤْمِنُوْنَ “নিশ্চয়ই এই কোরআন একজন সম্মানিত রাসূলের আনীত। এবং এটা কোনো কবির বাণী নয়, তোমরা কমই বিশ্বাস কর।” (সুরা হাক্কাহ্ : ৪০,৪১)
এ আয়াত শুনে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বললেন, তাহলে অবশ্যই মুহাম্মাদ একজন গণক হবে। ঐ দিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেলাওয়াত করে যাচ্ছিলেন.......
وَلَا يَقُولُوا كَانَ قَلِيلًا مَا كَرَّهْتُ
কমই অনুমান কর। (সূরা যাকাহ্ব : ৪২) এ আয়াত হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু -এর হৃদয়কে নাড়া দিল। এরপরই ঘটে গেল অন্য স্মরণীয় এক ঘটনা.........। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তরবারি নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে হত্যা করতে বের হলেন। তিনি এক দল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা একটি বাছুর জবাই করছিল। তখন ওই বাছুর থেকে আওয়াজ আসছিল, হে কঠিন শত্রুতা পোষণকারী! এক স্পষ্টবাদী মুক্তির কথা বলছে, আল্লাহু ইল্লা ইল্লা মুহাম্মাদ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই। ওই আওয়াজটি একজন জিনের ছিল। তখন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বললেন, আল্লাহর শপথ! সে আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করেনি। এ আওয়াজ শোনার পর তাঁর অন্তরে ইসলাম গেঁথে গেল, কিন্তু তিনি তখনো ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করেননি। তখনো তাঁর অন্তর থেকে কুফরি ও জাহিলী যুগের প্রভাব দূর হয়নি। কীভাবে দূর হবে তিনি তো এ সকল কাজে তাঁর গোত্রের প্রধান ছিলেন。
টিকাঃ
২২৪ বুখারীর রাশিদীর দিন আজকাল। ഫർമാ – ৮
📄 হযরত ওমর রা.-এর ইসলাম গ্রহণ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পবিত্র জবানে কোরআন তেলাওয়াত শোনার পর থেকে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু -এর অন্তরে ইসলাম জায়গা করে নিয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও তাঁর হেদায়েতের জন্য দোয়া করেছেন। তাছাড়া তিনি জিনের মুখে যে কথা শুনেছেন তা তাঁর মন থেকে যাচ্ছিল না। ওদিকে তিনি ইসলামের ঘোর বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর অজ্ঞাতেই তাঁর ঘরেই ইসলাম চলে এসেছে যা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তাঁর ভাই যায়েদ বিন খাত্তাব, তাঁর বোন ফাতিমা বিনতে খাত্তাব, ও তাঁর ভগ্নিপতি সাইদ বিন যায়েদ যিনি রক্তের সম্পর্কে তাঁর চাচাতো ভাই, এ তিনজন গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁরা তাঁর ভয়ে ইসলামকে প্রকাশ করেননি। তাঁর গোত্র বনু আদীর আরো কিছু মানুষ গোপনে গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। সবাই তাঁর ভয়ে তাঁদের ইসলামের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেননি।
একদিন ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু জানতে পারলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চল্লিশজন সাহাবীসহ সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী এক বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তখন তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে হত্যা করতে কাঁধে তরবারি ঝুলিয়ে সেদিকে ছুটে গেলেন। তাঁর চেহারায় রাগ ও ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। যাওয়ার পথে তাঁর সাথে বনু জহুরা গোত্রের এক লোকের দেখা হয়। যিনি সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মামা হবেন। তিনি ও অবস্থা দেখে লোকটি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ওমর! কোথায় যাচ্ছ? ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বললেন, আমি মুহাম্মাদের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি, যে ধর্মত্যাগ করেছে, কোরাইশদের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করেছে, কোরাইশদের ধর্মের দোষ বর্ণনা করে, তাদের দেবতাদের গালি দেয়। আমি তাকে হত্যা করব। তখন লোকটি বললেন, ওমর! তোমার ব্যক্তিগত তোমাকে ধোঁকা দিয়েছে। তুমি মুহাম্মাদকে হত্যা করবে? তুমি কি বনু হাশিম ও বনু জহুরাকে দেখ না। অর্থাৎ বনু হাশিম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোত্র আর বনু জহুরা তাঁর মায়ের গোত্র, সুতরাং তিনি যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে হত্যা করেন তাহলে বনু হাশিম ও বনু জহুরা উভয়ে তাঁর থেকে প্রতিশোধ নিবে। তাঁর কথা শুনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি দেখছি তুমিও ধর্ম ত্যাগ করেছ! লোকটি বললেন, ওমর! আমি কি তোমাকে এর থেকে আশ্চর্যজনক সংবাদ জানাব না? তোমার বোন, তোমার ভগ্নিপতি, তারাও তোমার ধর্ম ত্যাগ করেছে। খবরটি শোনার পর ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু -এর মাথায় যেন পাহাড় ভেঙে পড়ল, মনে হচ্ছিল আকাশ থেকে বজ্র এসে তাঁর মাথায় আঘাত করেছে। তিনি তাৎক্ষণিক তাঁর বোনের বাড়ির দিকে রওনা দিলেন। উদ্দেশ্য তাকে ও তাঁর স্বামীকে হত্যা করবেন। তাঁর বোন ফাতেমা ও ভগ্নিপতি সাইদ তখন ঘরেই ছিলেন। হযরত খাব্বাব বিন আরাতও তাদেরকে কোরআন তেলাওয়াত করাচ্ছিলেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বোনের ঘরের দরজায় এসে ভেতরে কোরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ শুনতে পেলেন, কিন্তু আওয়াজ ক্ষীণ হওয়ার কারণে স্পষ্ট বুঝলেন না। তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ডাক দিলেন। তাঁর আওয়াজ শোনার সাথে সাথে তাঁর বোন ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু কোরআন লিখিত মাসহাফটি লুকিয়ে ফেলেন এবং খাব্বাব বিন আরাতও ঘরের ভেতরে এক জায়গায় আড়াল করে রাখলেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ঘরে প্রবেশ করে জিজ্ঞেস করলেন- আমি যা শুনেছি তা কিসের আওয়াজ। তাঁরা বললেন, আমরা কথাবার্তা বলছিলাম। তিনি বললেন, বরং তোমরা মুহাম্মাদের ধর্ম অনুসরণ করেছ। এরপর তিনি সাইদের দিকে ছুটে গিয়ে তাকে বেদম প্রহার করেন।
হযরত সাঈদ তখন বলছিলেন, ওমর! তোমার অভিমত কি? যদি সত্য তোমার ধর্ম না থেকে অন্য ধর্মে থাকে? হযরত ফাতেমা তাঁর স্বামী সাইদকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে গেলেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তাঁকেও আঘাত করলেন। এতে তাঁর চেহারায় রক্ত লেগে গেল। তাঁর চেহারায় রক্ত দেখে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেমে গেলেন। তাঁর বোন বললেন, ওমর! সত্য যদি তোমার ধর্মে না থেকে অন্য ধর্মে থাকে? ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বললেন, তোমরা যে সহিফা পাঠ করছিলে তা আমার কাছে দাও। তাঁরা বললেন, তুমি অপবিত্র, তুমি শিরকের ওপর আছ, এ সহিফা অপবিত্র ব্যক্তিরা স্পর্শ করতে পারে না। তুমি গিয়ে গোসল করে আসো না হয় অযু করে আসো। তাঁর কথামত তিনি গিয়ে অযু করে আসলেন। এরপর সহিফা হাতে নিলেন। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু পড়ামাত্র জানলেন। তিনি তা হাতে নিয়ে তেলাওয়াত করতে লাগলেন। আয়াতগুলো তেলাওয়াত করার পর তাঁর মাঝে ঈমানের নূর জ্বলে উঠল। কোরআনের মর্মার্থ তিনি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। কেননা তিনি তৎকালীন শিক্ষিত ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। কোরআনের ভাবগত অলংকার ও মাধুর্যতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। তিনি বুঝতে পেরেছেন এ বাণী কোনো মানুষের রচিত নয়। তিনি বলতে লাগলেন, আমাকে মুহাম্মাদের কাছে নিয়ে যাও। তাঁরা মুখে এ কথা শোনার সাথে সাথে খাব্বাব বিন আরাতও আড়াল থেকে বের হয়ে বললেন, ওমর! সুসংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহর শপথ! আমি আশা করেছি আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর দোয়া কবুল করবেন। আমি শুনেছি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করেছিলেন, হে আল্লাহ ওমর বিন খাত্তাব অথবা আমর বিন হিশামের দ্বারা তুমি ইসলামকে শক্তিশালী কর। তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বললেন, খাব্বাব! তাঁর কাছে নিয়ে যাও যাতেও আমি ইসলাম গ্রহণ করতে পারি। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু-এর সাথে চলতে লাগলেন। তাঁর কাছে মনে হচ্ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে তাঁর এক বিশাল পাহাড় ছিল তিনি তা অতি দ্রুত তার হাত দিয়ে তাঁর কাছে পৌঁছতে চাচ্ছিলেন। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গিয়ে পৌঁছলেন তখনো তাঁর তরবারি কাঁধে ঝুলানো ছিল। তাঁকে এ অবস্থায় দেখে মুসলমানগণ ভয় পেয়ে গেছেন। তাঁরা বলতে লাগলেন, কাঁধে তরবারি ঝুলিয়ে ওমর এসেছেন।
তখন হযরত হামযা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলছিলেন, হে আল্লাহ রাসূল অনুমতি দিন, যদি সে ভালোর জন্যে আসে তবে তো ভালো আর যদি খারাপ কোনো উদ্দেশ্যে আসে তবে তার তরবারি দিয়ে তাকে হত্যা করব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে প্রবেশ করার অনুমতি দিলেন। অনুমতি পেয়ে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে প্রবেশ করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ধমকের সুরে বললেন, খাত্তাবের ছেলে! তোমাকে কিসে নিয়ে এসেছে? আল্লাহর শপথ! আমি তো দেখছি আল্লাহর শাস্তি না আসার আগে তুমি কুফরি থেকে ফিরে আসবে না। তখন ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তিনি যা নিয়ে এসেছেন এর ওপর ঈমান আনাতে এসেছি। তাঁর মুখে এমন কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবির দিলেন। তাকবিরের আওয়াজ শুনে মুসলমানগণ বুঝতে পেরেছেন, ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এতে তাঁরা এত জোরে তাকবির দিলেন যে, তা মক্কার অধিবাসী সবাই শুনেছে। আল্লাহ তাআলা ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু -কে হেদায়েত দিয়েছেন এবং মুসলমানদেরকে বিজয় দিয়েছেন। কেননা তাঁকে মক্কার সবাই ভয় করত। তাঁর ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানগণ একে অপরকে সুসংবাদ দিতে লাগলেন。
টিকাঃ
২২৫ খলীফাদের রাশিদীর দিন আল-আফযাল।