📄 কথা না বলার মানতকারী মহিলার প্রতি নসিহত
আবু বকর রা. যখন নামক এক কট্টরপন্থী মহিলার কাছে গিয়ে দেখলেন সে কথা বলছে না। তিনি উপস্থিত লোকভদেরকে বললেন, এ মহিলা কথা বলছে না কেন?
তারা বলল, সে মানত করেছ কারো সাথে কথা বলবে না।
এ কথা শুনে তিনি বললেন, কথা বর্জন করা অবৈধ। এমন কাজ জাহিলী যুগে করা হতো। এ কথা শুনে মহিলাটি মানত ভঙ্গ করল।
সে জিজ্ঞেস করল, আপনি কে?
তিনি বললেন, আমি একজন মুহাজির।
সে আবার জিজ্ঞেস করল, আপনি কোন গোত্রের মুহাজির?
তিনি বললেন, কুরাইশ গোত্রের।
সে আবার জিজ্ঞাসা করল, কুরাইশ গোত্রের কে আপনি?
তিনি কিছুটা বিরক্তির স্বরে বললেন, তুমি তো দেখি প্রশ্ন করছ! অতঃপর সেই মহিলা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আল্লাহ তা'আলা জাহেলিয়াতের পর যে সত্য ও সঠিক ধর্ম দ্বীনে ইসলাম দান করেছেন, এর উপর আমরা কতদিন অটল অবিচল থাকতে পারব?
তিনি উত্তরে বললেন, যতদিন তোমাদের নেতাগণ সঠিক পথে গ্রহণ তা গোটা রাষ্ট্রে কায়েম রাখবে। সেই মহিলা পুনরায় প্রশ্ন করল নেতা আবার কারা?
তিনি বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের মধ্যে কি বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ নেই? যাদের কথা জনসাধারণ মেনে চলে?
মহিলা বলল, হাঁ আছে।
তখন আবু বকর সিদ্দিক রা. বললেন, এরাই হচ্ছেন নেতা।
📄 মৃত্যুর বিছানায়
হযরত আবু বকর রা. অসুস্থ শরীর নিয়ে মৃত্যুর বিছানায় পড়ে আছেন। তিনি দুর্বল শরীর নিয়ে তাঁর রাসূলুল্লাহ বিছানায় কাঁপছিলেন।
লোকেরা বলতে লাগল, হে আবু বকর!......হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আপনারা জানার ডাক্তার ডাকব না?
তিনি মৃদু স্বরে বললেন, ডাক্তার কিছুক্ষণ আগে আমার কাছে এসেছে।
লোকেরা আশ্চর্য হয়ে বলল, তিনি কি বলেছেন।
হযরত আবু বকর রা. বললেন, তিনি বলেছেন, আমি যা ইচ্ছে তা করি।
এ কথা শুনে মানুষ খুব আফসোস করতে করতে ফিরে গেল।
এরপর হযরত আয়েশা রা. তাঁর কাছে এলেন তখন মৃত্যু তাঁর অতি নিকট চলে এসেছিল। তিনি অশ্রুভরা চোখে বলতে লাগলেন...............
لِعَمْرُكَ مَا يَنْتَضِي الْفَوَاءُ عَنْ يَوْمٍ وَحَاقَ بِهَا الْقَدْرُ
কসম তোমার জীবনের মাটি থেকে বিমুখ নয়। যখন মৃত্যুর পূর্বে গেলে ঘাড় ঘড় করে ও বক্ষ সঙ্কীর্ণ হয়।
হযরত আবু বকর রা. তখন তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আমার মেয়ে! আমি ব্যাপারটি একরূপ নয়; বরং তুমি বল-......... وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ অর্থ- মৃত্যু যন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে......! (সূরা কাফ, ১৯)
তারপর তিনি হযরত আয়েশা রা.-কে ক্ষীণকণ্ঠে বললেন, তুমি আমার এ দু'টি কাপড়ও দেখ, এ দু'টিকে ধুয়ে দাও। এরাই আমার কাপন দিন। কেননা মৃতব্যক্তিকে জীবীতরা নতুন কাপড়ের প্রতি অধিক মুখাপেক্ষী।
হযরত সালমান রা. তাঁর শেষ অবস্থায় তাঁর কাছে এসে বললেন, হে আবু বকর!...... হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা!............আপনি আমাকে উপদেশ দিন।
তখন হযরত আবু বকর রা. বললেন, আল্লাহ তা'আলা তোমার জন্য দুনিয়া খুলে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা এর থেকে তোমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ করো না। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামায আদায় করবে সে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকে। সুতরাং তুমি আল্লাহর আশ্রয় হারিয়ে ফেল না। আর এর প্রতিফল তোমার চেহারা জাহান্নামে আগুনে জ্বলবে。
টিকাঃ
১২৮ সহীহ বুখারী।
১২৯ আবু জুহুদ লিল ইমাম আহমদ, ১০৯-১১০ পৃ.
📄 জান্নাত পেয়ে সফল
হযরত আবু বকর রা. মুহাব্বরুল মদিনার শোকার ছায়া নেমে আসল। সেদিন বাবা রাসূল স.-এর ইন্তেকালের কথা মনে করিয়ে দিল।
তখন হযরত আলী রা. এসে বললেন, আমরা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর কাছেই ফিরে যাব....আজ নবুওয়াতের বিলাফত শেষ হয়ে গেছে।
তিনি দ্রুত হযরত আবু বকর রা.-এর বাড়িতে গিয়ে দরজায় দাঁড়ালেন।
এরপর তিনি বলতে লাগলেন, আবু বকর! আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি ছিলেন ইসলাম গ্রহণ সর্বপ্রথম, ইমানের দিক দিয়ে সবার সেরা, বিশ্বাসের দিকেও সবচেয়ে শক্তিশালী, সর্বাধিক আল্লাহু ভীরু, সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী, সর্বাধিক (রাসূলের) সাহচর্য গ্রহণকারী, সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী এবং সুপথের দিক থেকে রাসূল স.-এর অধিক নিকটবর্তী। আপনি মু'মিনদের জন্যে একজন দয়ালু পিতার মতো ছিলেন। তাঁরা আপনার পরিবারের সদস্যের মতো ছিল। আপনি তাঁদেরকে সম্মুখে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। আর চলে গিয়ে তাঁদেরকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিলেন এবং জান্নাত পেয়ে সফল হলেন।
আর আমরা তো আল্লাহর জন্য এবং তাঁর নিকটই ফিরে যাব। আল্লাহর সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট এবং তাঁর কাজ আমরা তাঁর ওপরেই সমর্পণ করলাম। মুসলমানেরা রাসূল স.-এর পর আপনার মতো মানুষ আর পাবে না। আপনি দ্বীনের জন্য এক দুর্গের মতো ছিলেন। এখন আল্লাহ তা'আলা আপনাকে তাঁর নবীর কাছেই নিয়ে গেলেন। আল্লাহ যেন আপনার প্রতিদান থেকে আমাদের বঞ্চিত না করেন এবং আপনার পরে আমাদের পথভ্রষ্ট না করেন।
তারপর তিনি কান্না শুরু করলেন, তাঁর সাথে রাসূল স.-এর অন্যান্য সাহাবিগণও কান্না শুরু করলেন। আর তারা বলতে লাগলেন, হে রাসূল স.-এর চাচাতো ভাই আপনি ঠিক বলছেন。
টিকাঃ
১৩০ মাজমাউজ জাওয়াহিদ, ৯ ম খণ্ড, ২০ পৃ.