📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 জনগণকে তাঁর বাইয়াত থেকে মুক্ত করে দিলেন

📄 জনগণকে তাঁর বাইয়াত থেকে মুক্ত করে দিলেন


১৩ হিজরী জামাদিউল উখরায় আবু বকর রাযি. অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি তাঁর অসুস্থতা কঠিন আকার ধারণ করে। প্রতিদিন তাঁর অসুস্থতা বৃদ্ধি পেতেই থাকে। তাই তিনি চাইলেন যে, জনগণকে তাঁর কাছে একত্রিত করত। পরে সবাই তাঁর কাছে উপস্থিত হলে তিনি তাদের উদ্দেশে বললেন, আমি যে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছি তা তোমরা প্রত্যক্ষ করছ। আমার মনে হয় আমি বেশি দিন বাঁচব না। সুতরাং আল্লাহ তা’আলা আমার বাইয়াত থেকে তোমাদেরকে মুক্ত করে দিয়েছেন। আমার দায়বদ্ধতা থেকে তোমরা সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে গেছ। তোমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তোমাদের। তাই তোমরা তোমাদের পছন্দের আমির নির্বাচন করে নাও। কেননা, আমি আশা করি যে, আমার জীবদ্দশায় তোমরা আমির নির্বাচন করলে পরস্পর মতানৈক্যে জড়াবে না。

টিকাঃ
১২৬ তারিখুল ইসলাম ইবনু বহু, ২৩৮ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আপনি পরবর্তীদের কাঁদিয়ে গেলেন

📄 আপনি পরবর্তীদের কাঁদিয়ে গেলেন


সময় তার গতিতে চলছিল। হযরত আবু বকর রা. অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন।
এ কঠিন মুহূর্তে হযরত আয়েশা রা. তাঁর পাশে বসেছিলেন। অন্যদিক তাঁর চোখ দিয়ে অবিরাম অশ্রু ঝরছিল।
তখন হযরত আবু বকর রা. ক্ষীণকণ্ঠে বললেন, হে আমার মেয়ে! আমি কোরাইশদের মধ্যে বড় ব্যবসায়ী ও অর্থশালী ছিলাম। যখন আমার হাতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব আসে তখন আমি দেখেছি আমার কষ্টের পরিমাণ অর্থ আমার নিকট আসত.......।
হে আমার কন্যা! এ জুবা, এ পাঞ্জাবি আর এ গোলাম ব্যতীত ওই সম্পদের আর কিছুই বাকি নেই। যখন আমি মারা যাব ভূমি এগুলো দ্রুত ওসবর বিন খাত্তাবের কাছে পৌঁছে দিয়ে দিও।
তিনি ইন্তেকাল করার পর দাফন শেষে হযরত আয়েশা রা. সেই জুবা, পাত্র ও গোলাম নিয়ে হযরত উমর রা.-এর কাছে গেলেন।
এগুলো দেখে হযরত উমর রা. অশ্রুভরা চোখে বললেন, আল্লাহ আবু বকরের উপর রহম করুন, তিনি তাঁর পরবর্তীটার কাঁধে চাপিয়ে গেলেন। তিনি পছন্দ করেছেন যে, তার চলে যাওয়ার পর কেউ যেন কোনো কথা বলতে না পারে। আল্লাহর শপথ! যদি পুরো বিশ্বাসীর ইমানের সাথে আবু বকরের ইমান মাপা হয় তবে অবশ্যই আবু বকর ইমানের ওজন বেশি হবে। আল্লাহর শপথ! আবু বকরের শরীরের গোম হওয়াও আমি পছন্দ করি।
হযরত আয়েশা রা. বললেন, আবু বকর মারা গেছেন, কিন্তু তিনি কোনো দিনার বা দিরহাম রেখে যাননি। যখনই তিনি কোনো সম্পদ গ্রহণ করতেন তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে রেখে দান দিতে দিতেন。

টিকাঃ
১২৭ আবু জুহদ লিল ইমাম আহমদ, ১১০-১১১ পৃ. ও আল মারিবুল আলিয়া, ৪খ ৮৯, ৬৮ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 কথা না বলার মানতকারী মহিলার প্রতি নসিহত

📄 কথা না বলার মানতকারী মহিলার প্রতি নসিহত


আবু বকর রা. যখন নামক এক কট্টরপন্থী মহিলার কাছে গিয়ে দেখলেন সে কথা বলছে না। তিনি উপস্থিত লোকভদেরকে বললেন, এ মহিলা কথা বলছে না কেন?
তারা বলল, সে মানত করেছ কারো সাথে কথা বলবে না।
এ কথা শুনে তিনি বললেন, কথা বর্জন করা অবৈধ। এমন কাজ জাহিলী যুগে করা হতো। এ কথা শুনে মহিলাটি মানত ভঙ্গ করল।
সে জিজ্ঞেস করল, আপনি কে?
তিনি বললেন, আমি একজন মুহাজির।
সে আবার জিজ্ঞেস করল, আপনি কোন গোত্রের মুহাজির?
তিনি বললেন, কুরাইশ গোত্রের।
সে আবার জিজ্ঞাসা করল, কুরাইশ গোত্রের কে আপনি?
তিনি কিছুটা বিরক্তির স্বরে বললেন, তুমি তো দেখি প্রশ্ন করছ! অতঃপর সেই মহিলা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আল্লাহ তা'আলা জাহেলিয়াতের পর যে সত্য ও সঠিক ধর্ম দ্বীনে ইসলাম দান করেছেন, এর উপর আমরা কতদিন অটল অবিচল থাকতে পারব?
তিনি উত্তরে বললেন, যতদিন তোমাদের নেতাগণ সঠিক পথে গ্রহণ তা গোটা রাষ্ট্রে কায়েম রাখবে। সেই মহিলা পুনরায় প্রশ্ন করল নেতা আবার কারা?
তিনি বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের মধ্যে কি বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ নেই? যাদের কথা জনসাধারণ মেনে চলে?
মহিলা বলল, হাঁ আছে।
তখন আবু বকর সিদ্দিক রা. বললেন, এরাই হচ্ছেন নেতা।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 মৃত্যুর বিছানায়

📄 মৃত্যুর বিছানায়


হযরত আবু বকর রা. অসুস্থ শরীর নিয়ে মৃত্যুর বিছানায় পড়ে আছেন। তিনি দুর্বল শরীর নিয়ে তাঁর রাসূলুল্লাহ বিছানায় কাঁপছিলেন।
লোকেরা বলতে লাগল, হে আবু বকর!......হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আপনারা জানার ডাক্তার ডাকব না?
তিনি মৃদু স্বরে বললেন, ডাক্তার কিছুক্ষণ আগে আমার কাছে এসেছে।
লোকেরা আশ্চর্য হয়ে বলল, তিনি কি বলেছেন।
হযরত আবু বকর রা. বললেন, তিনি বলেছেন, আমি যা ইচ্ছে তা করি।
এ কথা শুনে মানুষ খুব আফসোস করতে করতে ফিরে গেল।
এরপর হযরত আয়েশা রা. তাঁর কাছে এলেন তখন মৃত্যু তাঁর অতি নিকট চলে এসেছিল। তিনি অশ্রুভরা চোখে বলতে লাগলেন...............
لِعَمْرُكَ مَا يَنْتَضِي الْفَوَاءُ عَنْ يَوْمٍ وَحَاقَ بِهَا الْقَدْرُ
কসম তোমার জীবনের মাটি থেকে বিমুখ নয়। যখন মৃত্যুর পূর্বে গেলে ঘাড় ঘড় করে ও বক্ষ সঙ্কীর্ণ হয়।
হযরত আবু বকর রা. তখন তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আমার মেয়ে! আমি ব্যাপারটি একরূপ নয়; বরং তুমি বল-......... وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ অর্থ- মৃত্যু যন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে......! (সূরা কাফ, ১৯)
তারপর তিনি হযরত আয়েশা রা.-কে ক্ষীণকণ্ঠে বললেন, তুমি আমার এ দু'টি কাপড়ও দেখ, এ দু'টিকে ধুয়ে দাও। এরাই আমার কাপন দিন। কেননা মৃতব্যক্তিকে জীবীতরা নতুন কাপড়ের প্রতি অধিক মুখাপেক্ষী।
হযরত সালমান রা. তাঁর শেষ অবস্থায় তাঁর কাছে এসে বললেন, হে আবু বকর!...... হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা!............আপনি আমাকে উপদেশ দিন।
তখন হযরত আবু বকর রা. বললেন, আল্লাহ তা'আলা তোমার জন্য দুনিয়া খুলে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা এর থেকে তোমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ করো না। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামায আদায় করবে সে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকে। সুতরাং তুমি আল্লাহর আশ্রয় হারিয়ে ফেল না। আর এর প্রতিফল তোমার চেহারা জাহান্নামে আগুনে জ্বলবে。

টিকাঃ
১২৮ সহীহ বুখারী।
১২৯ আবু জুহুদ লিল ইমাম আহমদ, ১০৯-১১০ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00