📄 পিতার সাথে হযরত আবু বকর রা.-এর ব্যবহার
আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ছিলেন পিতার বাধাপ্রাপ্ত সন্তান। তিনি তাঁর সাথে সদাচরণ করতেন। দ্বাদশ হিজরীর রজব মাসে ওমরা পালনার্থে মদিনা থেকে পবিত্র মক্কা নগরীর উদ্দেশ্যে একদল যুদ্ধ অনুচর সাথে নিয়ে রওনা করেন। তথায় তিনি সকালে পৌঁছালেন। তিনি নিজ বাড়িতে গেলেন। তিনি যখন বাড়িতে গিয়ে পৌঁছলেন তখন তাঁর বাবা দড়ির দরজার সামনে বসেছিলেন। তাঁকে লোকেরা বলল, এই তো আপনার ছেলে এসেছে। তিনি তখন আনন্দের সাথে দাঁড়িয়ে গেলেন। অনাদিক্রমে আবু বকর রাযি. অতি তাড়াতাড়ি তাঁর উটে উঠে বসলেন। সর্বপ্রথম তিনি পিতার সাথে দেখা করে খোঁজ খবর নিলেন। এরপর আশপাশের লোকজন তাঁর সাথে সালাম বিনিময় করেন। আর এ লোক সমাপকের মাঝে তাঁর বাবা বসে উঠলেন, আল্লাহ তা’আলা তোমাকে এহেন শাসনকর্তা বানিয়েছেন, সুতরাং তুমি এমন সাধে তালাশ করা করো। আবু বকর রাযি. বললেন, বাবা! আমার ওপর অত্যন্ত কঠিন দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। আল্লাহর বিশেষ রহমত আর সাহায্য ব্যতীত আমার পক্ষে তা আঞ্জাম দেওয়া সম্ভব নয়。
টিকাঃ
১১৫ সিয়ারুল খলিফা, ১ম খণ্ড, ২০৬ পৃ.
📄 লানতকারী হয়ো না
আয়েশা রাযি. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এরদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু বকর রাযি.-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সময় তিনি কতিপয় গোলামকে লানত দিচ্ছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন, কা’বার প্রভু শপথ! সিদ্দিক ও লানতকারী এক সাথে হতে পারে না। সেদিন আবু বকর রাযি. তাঁর দাসগুলো মুক্ত করে দিলেন। আয়েশা রাযি. বলেন, তারপর তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, আমি এখনো করব না।
📄 জনগণকে তাঁর বাইয়াত থেকে মুক্ত করে দিলেন
১৩ হিজরী জামাদিউল উখরায় আবু বকর রাযি. অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি তাঁর অসুস্থতা কঠিন আকার ধারণ করে। প্রতিদিন তাঁর অসুস্থতা বৃদ্ধি পেতেই থাকে। তাই তিনি চাইলেন যে, জনগণকে তাঁর কাছে একত্রিত করত। পরে সবাই তাঁর কাছে উপস্থিত হলে তিনি তাদের উদ্দেশে বললেন, আমি যে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছি তা তোমরা প্রত্যক্ষ করছ। আমার মনে হয় আমি বেশি দিন বাঁচব না। সুতরাং আল্লাহ তা’আলা আমার বাইয়াত থেকে তোমাদেরকে মুক্ত করে দিয়েছেন। আমার দায়বদ্ধতা থেকে তোমরা সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে গেছ। তোমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তোমাদের। তাই তোমরা তোমাদের পছন্দের আমির নির্বাচন করে নাও। কেননা, আমি আশা করি যে, আমার জীবদ্দশায় তোমরা আমির নির্বাচন করলে পরস্পর মতানৈক্যে জড়াবে না。
টিকাঃ
১২৬ তারিখুল ইসলাম ইবনু বহু, ২৩৮ পৃ.
📄 আপনি পরবর্তীদের কাঁদিয়ে গেলেন
সময় তার গতিতে চলছিল। হযরত আবু বকর রা. অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন।
এ কঠিন মুহূর্তে হযরত আয়েশা রা. তাঁর পাশে বসেছিলেন। অন্যদিক তাঁর চোখ দিয়ে অবিরাম অশ্রু ঝরছিল।
তখন হযরত আবু বকর রা. ক্ষীণকণ্ঠে বললেন, হে আমার মেয়ে! আমি কোরাইশদের মধ্যে বড় ব্যবসায়ী ও অর্থশালী ছিলাম। যখন আমার হাতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব আসে তখন আমি দেখেছি আমার কষ্টের পরিমাণ অর্থ আমার নিকট আসত.......।
হে আমার কন্যা! এ জুবা, এ পাঞ্জাবি আর এ গোলাম ব্যতীত ওই সম্পদের আর কিছুই বাকি নেই। যখন আমি মারা যাব ভূমি এগুলো দ্রুত ওসবর বিন খাত্তাবের কাছে পৌঁছে দিয়ে দিও।
তিনি ইন্তেকাল করার পর দাফন শেষে হযরত আয়েশা রা. সেই জুবা, পাত্র ও গোলাম নিয়ে হযরত উমর রা.-এর কাছে গেলেন।
এগুলো দেখে হযরত উমর রা. অশ্রুভরা চোখে বললেন, আল্লাহ আবু বকরের উপর রহম করুন, তিনি তাঁর পরবর্তীটার কাঁধে চাপিয়ে গেলেন। তিনি পছন্দ করেছেন যে, তার চলে যাওয়ার পর কেউ যেন কোনো কথা বলতে না পারে। আল্লাহর শপথ! যদি পুরো বিশ্বাসীর ইমানের সাথে আবু বকরের ইমান মাপা হয় তবে অবশ্যই আবু বকর ইমানের ওজন বেশি হবে। আল্লাহর শপথ! আবু বকরের শরীরের গোম হওয়াও আমি পছন্দ করি।
হযরত আয়েশা রা. বললেন, আবু বকর মারা গেছেন, কিন্তু তিনি কোনো দিনার বা দিরহাম রেখে যাননি। যখনই তিনি কোনো সম্পদ গ্রহণ করতেন তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে রেখে দান দিতে দিতেন。
টিকাঃ
১২৭ আবু জুহদ লিল ইমাম আহমদ, ১১০-১১১ পৃ. ও আল মারিবুল আলিয়া, ৪খ ৮৯, ৬৮ পৃ.