📄 হযরত আবু বকর রা.-এর আযাদকৃত দাস
হযরত আবু বকর রাযি. মক্কায় থাকাকালীন অন্যদের থেকে দাস-দাসী ক্রয় করে আযাদ করে দিতেন। তিনি বেশিরভাগ ইসলাম গ্রহণকারী মহিলা ও দুর্বল ব্যক্তিদেরকে আযাদ করে দিতেন। তখন তাঁর পিতা আবু কুফাহা এসে বলল, হে আমার ছেলে! আমি দেখছি তুমি দুর্বল দুর্বল মানুষদেরকে আযাদ করছ। যদি তুমি শক্তিশালীদের আযাদ করতে তাহলে তোমার বিপদে তারা পাশে দাঁড়াতো এবং তোমার শত্রুদেরকে প্রতিহত করত। এ কথা শুনে হযরত আবু বকর রাযি. বললেন, হে আমার পিতা! আমি আল্লাহর কাছে যা আছে তা চাচ্ছি। তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করলেন। فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى অর্থ: অতএব, যে দান করে এবং খোদাভীরু হয়। (সূরা লাইল: ৫)
টিকাঃ
১১৪ তারিকুল বুখারি, ৮২ পৃ.
📄 পিতার সাথে হযরত আবু বকর রা.-এর ব্যবহার
আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ছিলেন পিতার বাধাপ্রাপ্ত সন্তান। তিনি তাঁর সাথে সদাচরণ করতেন। দ্বাদশ হিজরীর রজব মাসে ওমরা পালনার্থে মদিনা থেকে পবিত্র মক্কা নগরীর উদ্দেশ্যে একদল যুদ্ধ অনুচর সাথে নিয়ে রওনা করেন। তথায় তিনি সকালে পৌঁছালেন। তিনি নিজ বাড়িতে গেলেন। তিনি যখন বাড়িতে গিয়ে পৌঁছলেন তখন তাঁর বাবা দড়ির দরজার সামনে বসেছিলেন। তাঁকে লোকেরা বলল, এই তো আপনার ছেলে এসেছে। তিনি তখন আনন্দের সাথে দাঁড়িয়ে গেলেন। অনাদিক্রমে আবু বকর রাযি. অতি তাড়াতাড়ি তাঁর উটে উঠে বসলেন। সর্বপ্রথম তিনি পিতার সাথে দেখা করে খোঁজ খবর নিলেন। এরপর আশপাশের লোকজন তাঁর সাথে সালাম বিনিময় করেন। আর এ লোক সমাপকের মাঝে তাঁর বাবা বসে উঠলেন, আল্লাহ তা’আলা তোমাকে এহেন শাসনকর্তা বানিয়েছেন, সুতরাং তুমি এমন সাধে তালাশ করা করো। আবু বকর রাযি. বললেন, বাবা! আমার ওপর অত্যন্ত কঠিন দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। আল্লাহর বিশেষ রহমত আর সাহায্য ব্যতীত আমার পক্ষে তা আঞ্জাম দেওয়া সম্ভব নয়。
টিকাঃ
১১৫ সিয়ারুল খলিফা, ১ম খণ্ড, ২০৬ পৃ.
📄 লানতকারী হয়ো না
আয়েশা রাযি. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এরদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু বকর রাযি.-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সময় তিনি কতিপয় গোলামকে লানত দিচ্ছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন, কা’বার প্রভু শপথ! সিদ্দিক ও লানতকারী এক সাথে হতে পারে না। সেদিন আবু বকর রাযি. তাঁর দাসগুলো মুক্ত করে দিলেন। আয়েশা রাযি. বলেন, তারপর তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, আমি এখনো করব না।
📄 জনগণকে তাঁর বাইয়াত থেকে মুক্ত করে দিলেন
১৩ হিজরী জামাদিউল উখরায় আবু বকর রাযি. অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি তাঁর অসুস্থতা কঠিন আকার ধারণ করে। প্রতিদিন তাঁর অসুস্থতা বৃদ্ধি পেতেই থাকে। তাই তিনি চাইলেন যে, জনগণকে তাঁর কাছে একত্রিত করত। পরে সবাই তাঁর কাছে উপস্থিত হলে তিনি তাদের উদ্দেশে বললেন, আমি যে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছি তা তোমরা প্রত্যক্ষ করছ। আমার মনে হয় আমি বেশি দিন বাঁচব না। সুতরাং আল্লাহ তা’আলা আমার বাইয়াত থেকে তোমাদেরকে মুক্ত করে দিয়েছেন। আমার দায়বদ্ধতা থেকে তোমরা সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে গেছ। তোমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তোমাদের। তাই তোমরা তোমাদের পছন্দের আমির নির্বাচন করে নাও। কেননা, আমি আশা করি যে, আমার জীবদ্দশায় তোমরা আমির নির্বাচন করলে পরস্পর মতানৈক্যে জড়াবে না。
টিকাঃ
১২৬ তারিখুল ইসলাম ইবনু বহু, ২৩৮ পৃ.