📄 বায়তুল মাল উন্মুক্ত কর
মদিনার উপত্যকায় হযরত আবু বকর রাযি.-এর রাষ্ট্রীয় কোষাগার ছিল, কিন্তু সেখানে কোনো পাহারাদার ছিল না। তখন তাঁকে কেউ একজন বলল, হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আপনি কি কোষাগারে কোনো পাহারাদার নিযুক্ত করেন না। তখন তিনি বললেন, এ ব্যাপারে চিন্তার কিছু নেই। সে বলল, কেন? তিনি বললেন, তাতে তালা আছে। হযরত আবু বকর রাযি. কোষাগারে যা আসত তা সাথে সাথে বন্টন করে দিতেন। এতে করে স্বাভাবিকভাবে কোষাগারে কোনো সম্পদ থাকত না। যখন হযরত আবু বকর রাযি. উপত্যকা থেকে মদিনায় এসে বসবাস শুরু করেন তখন তিনি কোষাগারটিও নিজের বাড়িতে স্থানান্তর করে নিয়ে আসেন। যখন কোনো প্রকার সম্পদ আসত তখন তা তিনি রাতে রেখে সবগুলো বন্টন করে দিতেন। হযরত আবু বকর রাযি.-এর ইন্তেকালের পর যখন শেষে হযরত ওমর রাযি. বিশ্বযুদ্ধের ডেকে কোষাগারে প্রবেশ করলেন, কিন্তু তারা সেখানে কোনো দিরহাম বা দিরহাম পাননি। সেখানে তারা ধন-সম্পদ রাখার শক্ত মোটা কাপড়ের একটি ব্যাগ পেলেন। ব্যাগটি খাড়া দিলে, তা থেকে মাত্র একটি দিরহাম বের হয়ে পড়ল। তখন তারা হযরত আবু বকর রাযি.-এর জন্য আল্লাহর নিকট রহমতের দোয়া করলেন。
টিকাঃ
১০৯ তাবাকাতুল কুবরা, ইবনে সা'দ, ৩য় খণ্ড, ২০৫ পৃ.। পূর্বে – ৭
📄 হযরত আবু বকর রা.-এর সদকা
হযরত আবু বকর রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে তাঁর সদকা নিয়ে এলেন। তিনি তা খুব গোপনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দিয়ে ক্ষীণকণ্ঠে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এগুলো আমার সদকা। আল্লাহর জন্য আমার কাছে পুনরায় সদকা রওয়াল।
তারপর হযরত আবু বকর রাযি. হযরত ওমর রাযি.-এর সদকা নিয়ে এলেন। তিনি তা প্রকাশ্যে প্রদান করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এগুলো আমার সদকা আর আল্লাহর নিকট আমার জন্য এর প্রতিদান। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন, ওমর! তুমি সত্য ছাড়াই ধনুক বাঁকা করে ফেলছ। (অর্থাৎ, তুমি আবু বকরকে পিছনে ফেলতে চেষ্টা করেছ, কিন্তু সক্ষম হওনি)। তারপর তিনি বললেন, তোমাদের কথার মধ্যে যেমন পার্থক্য, সদকাতেও তেমন পার্থক্য。
টিকাঃ
১১০ আবু নুয়াইম, ১ম খণ্ড, ৩৬ পৃ.
📄 যদি আমি পাখি হতাম
বহু আবহাওয়ায় হযরত আবু বকর রাযি. বের হলেন। তাঁর দৃষ্টি তখন আকাশের দিকে। ঠিক সেই সময় তিনি দেখলেন একটি পাখি গাছের ডালে বসে গান গাইছিল। তখন তিনি আবেগের সাথে বলতে লাগলেন, হে পাখি, শুভ সংবাদ তোমার! আল্লাহর শপথ! আমি তোমার মতো পছন্দ করি। তুমি গাছে বস, সেখান থেকে ফল খাও, তারপর উড়ে যাও, তোমার কোনো হিসাবও নেই, কোনো শাস্তিও নেই! আল্লাহর শপথ! আমি পছন্দ করি রাস্তার পাশের গাছ হতে, আমার পাশ দিয়ে উঠ যেত আর আমার তা মুখে খেত। এরপর আমাকে ঘাস করে বর্জ্য বানিয়ে পেট থেকে বের করত। এরপরও যদি আমি মানব না হতাম。
টিকাঃ
১১১ মুসতাদরাকে ইবনে সা'د, ২য় খণ্ড, ১৬৪ পৃ.
📄 উসামার নেতৃত্ব ও হযরত আবু বকর রা.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দুনিয়া ত্যাগ করার মহান রবের নিকট চলে গেলেন। মানুষেরা আবু বকর রাযি.-এর হাতে বাইয়াত হলো। হযরত আবু বকর রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই অন্তিম ইচ্ছা পূরণ করার জন্য উসামার নেতৃত্বে সেই বাহিনীকে রোমের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। কিন্তু আনসারী কিছু সাহাবী এ বাহিনী পরে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। তারা উমর রাযি.-কে আবু বকর রাযি.-এর সাথে এ ব্যাপারে কথা বলতে অনুরোধ করেন। তারা তাঁকে বললেন, যদি তিনি এ বাহিনী প্রেরণ করতে চান তাহলে তিনি যেন আমাদের থেকে বয়স্ক কারো নেতৃত্বে এ বাহিনী প্রেরণ করেন।
যখন হযরত আবু বকর রাযি. হযরত ওমর রাযি. থেকে এ কথা শুনতে পেলেন তিনি সাথে সাথে হযরত ওমরের দাড়ি ধরে রাগাক্রান্ত হয়ে বললেন, হে ওমর! তোমাকে তোমার মা হারাতো! উসামাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নেতৃত্ব দিয়েছেন আর তুমি আমাকে আদেশ দিচ্ছ আমি সে নেতৃত্ব অন্যের হাতে তুলে দিতাম? আল্লাহর শপথ! তা হতে পারে না। হযরত ওমর রাযি. যখন মানুষের নিকট ফিরে গেলেন, মানুষ তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, তোমাদেরকে তোমাদের মা হারাতো! তোমাদের কথা মতো চলার কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খলিফার নিকট আমি যা কিছুর সম্মুখীন হওয়ার হয়ে গেছি。
টিকাঃ
১১২ সুন্নানুল কুফায়ুল সাদিক্বীন, খণ্ড ৬৬২, ৩য় খণ্ড।