📄 জান্নাতের পরিণতবয়সিদের সর্দার
একবার হযরত আবু বকর রাযি. ও হযরত ওমর রাযি. কোথাও থেকে আসছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে দুজন! জান্নাতে নবী ও রাসূল ব্যতীত আগে পরের সকল পরিণতিবসিদের সর্দার। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে আলী! তুমি তাদেরকে এ কথা জানাবে না。
টিকাঃ
১০৬ জামিউত তিরমিযী, ৩৬৭৯ পৃ.
📄 বৃদ্ধার সেবায় মুসলিম বিশ্বের শাসনকর্তা
ওমর বিন খাত্তাব রাযি. মদিনার পার্শ্ববর্তী মহল্লাহার এক অন্ধা বৃদ্ধা মহিলাকে রাতের বেলায় গিয়ে দেখাশোনা করতেন। তিনি সে বৃদ্ধার পানীয় ব্যবহার্য অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার ইচ্ছা করলেন। কিন্তু তিনি প্রতিদিন এসে দেখতেন কে যেন তাঁর আগেই এ সকল কাজ সম্পন্ন করে দিয়ে যেত। এভাবে অনেক দিন সর্বাত্মক চেষ্টা করেও সে বৃদ্ধার সেবা করার সুযোগ তিনি পাননি। কোন লোক গোপনে এ কাজ করে তাকে দেখার জন্যে হযরত ওমর রাযি. একদিন ওৎ পেতে অপেক্ষা করতে লাগলেন। তিনি দেখে অবাক হলেন, ওই লোকটি স্বয়ং মুসলিম বিশ্বের খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাযি.。
টিকাঃ
১০৭ আবু বকর লি আলী আলবাভী, ২৯ পৃ.
📄 দাদির মিরাস ও হযরত আবু বকর রা.
একলোকের দাদি আবু বকর রাযি.-এর কাছে এসে তাঁর মিরাসের দাবি উত্থাপন করলে তিনি বলেন, আল্লাহর কিতাবে আপনার জন্য মিরাসের কোনো অংশ নির্ধারিত নেই। তাছাড়া আমার জানা মতে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও আপনার জন্য কোনো অংশ নির্ধারণ করেননি। এ কথা বলার পর তিনি উপস্থিত জনতাকে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে মুগীরা রাযি. দাঁড়িয়ে বললেন, আমি দেখতে পেয়েছি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক দাদিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-ষষ্ঠাংশ দিয়েছেন। এরপর আবু বকর রাযি. বললেন, তোমার সাথে আর কেউ ছিল কি? তখন মুহাম্মাদ বিন মাসলামা রাযি. এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিলে আবু বকর রাযি. সেই দাদিকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করেন。
টিকাঃ
১০৮ আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, ৭ম খণ্ড, ২০।
📄 বায়তুল মাল উন্মুক্ত কর
মদিনার উপত্যকায় হযরত আবু বকর রাযি.-এর রাষ্ট্রীয় কোষাগার ছিল, কিন্তু সেখানে কোনো পাহারাদার ছিল না। তখন তাঁকে কেউ একজন বলল, হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আপনি কি কোষাগারে কোনো পাহারাদার নিযুক্ত করেন না। তখন তিনি বললেন, এ ব্যাপারে চিন্তার কিছু নেই। সে বলল, কেন? তিনি বললেন, তাতে তালা আছে। হযরত আবু বকর রাযি. কোষাগারে যা আসত তা সাথে সাথে বন্টন করে দিতেন। এতে করে স্বাভাবিকভাবে কোষাগারে কোনো সম্পদ থাকত না। যখন হযরত আবু বকর রাযি. উপত্যকা থেকে মদিনায় এসে বসবাস শুরু করেন তখন তিনি কোষাগারটিও নিজের বাড়িতে স্থানান্তর করে নিয়ে আসেন। যখন কোনো প্রকার সম্পদ আসত তখন তা তিনি রাতে রেখে সবগুলো বন্টন করে দিতেন। হযরত আবু বকর রাযি.-এর ইন্তেকালের পর যখন শেষে হযরত ওমর রাযি. বিশ্বযুদ্ধের ডেকে কোষাগারে প্রবেশ করলেন, কিন্তু তারা সেখানে কোনো দিরহাম বা দিরহাম পাননি। সেখানে তারা ধন-সম্পদ রাখার শক্ত মোটা কাপড়ের একটি ব্যাগ পেলেন। ব্যাগটি খাড়া দিলে, তা থেকে মাত্র একটি দিরহাম বের হয়ে পড়ল। তখন তারা হযরত আবু বকর রাযি.-এর জন্য আল্লাহর নিকট রহমতের দোয়া করলেন。
টিকাঃ
১০৯ তাবাকাতুল কুবরা, ইবনে সা'দ, ৩য় খণ্ড, ২০৫ পৃ.। পূর্বে – ৭