📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বদরী সাহাবী

📄 বদরী সাহাবী


হযরত আবু বকর রা. -এর কাছে বায়তুল মাল আসার পর তিনি তা মানুষের মাঝে সমানভাবে বন্টন করতে লাগলেন। তখন হযরত উমর রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আপনি কি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদেরকে অন্য সাধারণ মানুষদের সমপরিমাণে দিচ্ছেন? হযরত আবু বকর রা. বললেন, দুনিয়া প্রাপ্তিময় আর সবশেষে উত্তম প্রাচুর্য হচ্ছে এর প্রশস্ততা। আর দুনিয়াবাসীর মর্যাদা হচ্ছে তাদের প্রতিফল। হযরত আবু বকর রা. বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে মানুষকে নিয়োজিত করছিলেন। তিনি ঐ সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজে কোনো বদরী সাহাবীকে নিযুক্ত না করতে দেখে এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আপনি কি বদরী যোদ্ধাদের নিযুক্ত করবেন না। তখন তিনি বললেন, আমি তাদের মর্যাদা সম্পর্কে জানি, কিন্তু আমি চাচ্ছি না তাদেরকে দুনিয়ার সাথে জড়িত করি。

টিকাঃ
১২ খুলাফাউল আওয়াশিয়া, ১ম খণ্ড, ৩৬ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 খাদ্যের বরকত

📄 খাদ্যের বরকত


হযরত আবু বকর রা. তিনজন মেহমান নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। তিনি তার ছেলের কাছে মেহমান রেখে নবী করীম সা.-এর সাথে রাতের খাবার খেতে গেলেন এবং সেখানে যতক্ষণ খাবার থেকে আল্লাহ্ যখন চাইলেন তখন বাড়িতে ফিরে এলেন। বাড়িতে আসার পর তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, কেনো আপনি মেহমানদেরকে এতক্ষণ পর্যন্ত বসিয়ে রেখেছেন। তিনি বললেন, তুমি কি তাদের থেকে লাজুকনি। তাঁর স্ত্রী বললেন, তারা বলছে আপনি আসার আগ পর্যন্ত খাবে না। তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি খাবো না। এরপর তিনি মেহমানদের সামনে খানা এনে দিলেন এবং তাদের বললেন, খাও......... তারা খেতে শুরু করল। তাদের একজন বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমরা যখন তা থেকে এক লোকমা খাদ্য নিতাম সাথে সাথে এর নিচ থেকে এর থেকে বেশি খাদ্য বের হয়ে আসত। এমনকি আমরা খেতে খেতে পূর্ণ পরিতৃপ্ত হয়েছি, কিন্তু খাওয়ার পর পাত্রের অবশিষ্ট খাদ্য আমাদের কাছে নিয়ে আসা খাদ্যের থেকে বেশি ছিল। পরে হযরত আবু বকর রা. খাদ্যের পাত্রের দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে খাদ্য মেহমানদের দেওয়া হয়েছে তা তেমনি আছে; বরং একটু বেশি মনে হচ্ছে। তখন তিনি তাঁর স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, বনু ফেরাসের বোন! একি? তাঁর স্ত্রী বললেন, মনে হচ্ছে প্রেরিত খাদ্য থেকে বেঁচে থাকা খাদ্য অনেক বেশি। তারপর তিনি সে খাদ্য রাসূল সা.-এর কাছে নিয়ে গেলেন。

টিকাঃ
১৩ জামিউল কারামাতুল আউলিয়া, ১খ, ১৬২ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকর রা.-এর মর্যাদা

📄 আবু বকর রা.-এর মর্যাদা


হযরত সাঈদ বিন মুসায়েব রহ. ছিলেন। তাঁর আশপাশে মানুষ জমা হয়ে বসেছিল। তারা তাঁর কাছে হযরত আবু বকর রা.-এর সম্পর্কে জানতে চাইল। তখন তিনি বললেন, হযরত আবু বকর রা. রাসূল সা.-এর উজিরের মতো ছিলেন। রাসূল সা. প্রতিটি কাজে তাঁর সাথে পরামর্শ করতেন। তিনি হিজরতের দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন। হিজরতের সময় গুহায় অবস্থানকালেও তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন। বদরের যুদ্ধে তাঁবুর ভেতরেও তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন। কবরেও তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তি। রাসূল সা. কাউকে তাঁর ওপর প্রাধান্য দিতেন না। [এখানে প্রথম ব্যক্তি স্বয়ং রাসূল সা. আর দ্বিতীয় ব্যক্তি হযরত আবু বকর রা.]।
একলোক এসে হযরত হুসাইন রা.-এর ছেলে আলীকে জিজ্ঞেস করলেন, নবী করীম সা.-এর কাছে হযরত আবু বকর ও হযরত ওমরের মর্যাদা কেমন ছিল? তিনি বললেন, বর্তমানে তাঁদের মর্যাদা যেমন। (অর্থাৎ কবরে রাসূল সা.-এর পাশে তাঁদের অবস্থান যেমন)

টিকাঃ
১৪ জামিউল কারামাতুল আউলিয়া, ১ম খণ্ড, ১৮৯ পৃ.।
১৫ আবু হুদাল ইমান ওয়াযেন, ১৬২ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তোমরা নিজেদের চিন্তা কর

📄 তোমরা নিজেদের চিন্তা কর


যুবক চিন্তিত ও অস্থির মনে হযরত আবু বকর রা.রর মিশে উঠে দাঁড়ালেন। সর্বপ্রথম তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তারপর তিনি বললেন, হে মানুষেরা! তোমরা এ আয়াত পাঠ করেছ....... يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ অর্থ- ওহে যারা ঈমান এনেছ, তোমরা নিজেদের চিন্তা কর। যখন তোমরা সৎপথে রয়েছ, তখন কেউ পথভ্রষ্ট হলে তাতে তোমাদের কোনো ক্ষতি নাই। কিন্তু তোমরা তা অন্য অর্থে ব্যবহার করছ অর্থাৎ আমি রাসূল সা.-এর থেকে শুনেছি তিনি বলেছেন, মানুষ কোনো খারাপ কাজ করতে দেখলে যখন প্রতিরোধ করে না, অচিরেই আল্লাহ্ তা'আলা তাদের সবাইকে কষ্টেও ফেলে দিবেন.......এবং তাদের থেকে সে কষ্ট দূরও করবেন না。

টিকাঃ
১৬ আল জামিউত তিরমিজি, ২১৮৮ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00