📄 আবু বকর সত্য বলেছে
একলোক হযরত আবু বকর রাযি. কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি জাহিলী যুগে মদ পান করেছেন। হযরত আবু বকর রাযি. বললেন, আমি আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তখন তাঁকে বলা হলো, কেন? তিনি বললেন, আমি আমার ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করেছি। কেননা যে মদ খায় সে তার ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা হারিয়ে ফেলে। এ কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কানে গেলে তিনি বললেন, আবু বকর সত্য বলেছে.......আবু বকর সত্য বলেছে。
টিকাঃ
১১. আল কানূয, ৩৫৯ পৃ.
📄 আবু বকর রা. ও বদরের যুদ্ধবন্দি
মদিনায় পৌঁছার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের সাথে যুদ্ধবন্দিদের ব্যাপারে পরামর্শ করতে লাগলেন। আবু বকর রাযি. বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! ওরাতো চাচাতো ভাই এবং আমাদের বংশেরই লোক। আমার মনে আপনি তাদের কাছ থেকে কিছু নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দিন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওমর বিন খাত্তাব রাযি. মতামত জানতে চাইলে তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি আবু বকরের সাথে ভিন্ন মত পোষণ করি। আমি মনে করি, আপনি আমার অমুক অমুক আত্মীয়কে আমার হাতে তুলে দেবেন আমি তাদের শিরচ্ছেদ করব। একইভাবে আকীল বিন আবু তালিবেক আকীলের হাতে তুলে দিন, আলী তার শিরচ্ছেদ করবে। একইভাবে হামযার ভাই অমুককে তার হাতে তুলে দিন, হামযা তার শিরচ্ছেদ করবে। এতে আল্লাহ্ তা’আলা বুঝতে পারবেন মুশরিকদের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু না বলে ঘরে প্রবেশ করলেন। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে আসলেন। ঐ দিকে সাহাবায়ে কেরام কেউ কেউ আবু বকর রাযি. -এর পক্ষ নিলেন আবার কেউ কেউ ওমর বিন খাত্তাব রাযি. -এর পক্ষ নিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হয়ে এসে বললেন, আল্লাহ তা’আলা কতক বান্দার অন্তরকে নরম করে দেন। এমনকি তা দুধের চেয়েও নরম থাকে। আবার কিছু মানুষের অন্তর এত কঠিন করে দেন যে, তা পাথরের চেয়েও কঠিন থাকে। আর হে আবু বকর! তোমার তুলনা হচ্ছে ইব্রাহীমের সাথে। তিনি বলেছিলেন,
فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত, কিন্তু কেউ আমার অবাধ্য হলে তুমি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা ইব্রাহীম, আয়াত ৩৬) তোমাকে আরো তুলনা করা যায় ঈসার সাথে। তিনি বলেছিলেন-
إِنْ تَعْذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ ۖ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা কর তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা মায়িদা, আয়াত- ১১৮)
হে ওমর! তোমার তুলনা নূহ্ নবের সাথে। তিনি বলেছিলেন- وَقَالَ نُوحٌ رَّبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا হে আমার প্রতিপালক! পৃথিবীতে কাফিরদের মধ্য হতে কোনো গৃহবাসীকে ছেড়ে দিবেন না। (সূরা নূহ্, আয়াত-২৬) তোমাকে আলো তুলনা করা যায় মূসার সাথে- وَنَادَىٰهُمُ الْعَذَابِ الْأَلِيمُ امْهَلْ عَلَىٰ نُوحٍ جَمِيعًا فَلَوْ يَبْقَىٰ مِنَ الْأَرْضِ غَيْرُ أَبْصَارٍ قَدْ عَلَّمَنَا أُمِّيُّونَ হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের সম্পদ বিনষ্ট করো, তাদের হৃদয় কঠিন করে দাও, তারা তো মর্মান্তিক শাস্তি না দেখা পর্যন্ত ঈমান আনবে না। (সূরা ইউনুস- ৮৮)
টিকাঃ
১১ সীরাতুন নবী, ২য় খণ্ড, ৬৫৭ পৃ.
📄 বদরী সাহাবী
হযরত আবু বকর রা. -এর কাছে বায়তুল মাল আসার পর তিনি তা মানুষের মাঝে সমানভাবে বন্টন করতে লাগলেন। তখন হযরত উমর রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আপনি কি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদেরকে অন্য সাধারণ মানুষদের সমপরিমাণে দিচ্ছেন? হযরত আবু বকর রা. বললেন, দুনিয়া প্রাপ্তিময় আর সবশেষে উত্তম প্রাচুর্য হচ্ছে এর প্রশস্ততা। আর দুনিয়াবাসীর মর্যাদা হচ্ছে তাদের প্রতিফল। হযরত আবু বকর রা. বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে মানুষকে নিয়োজিত করছিলেন। তিনি ঐ সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজে কোনো বদরী সাহাবীকে নিযুক্ত না করতে দেখে এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আপনি কি বদরী যোদ্ধাদের নিযুক্ত করবেন না। তখন তিনি বললেন, আমি তাদের মর্যাদা সম্পর্কে জানি, কিন্তু আমি চাচ্ছি না তাদেরকে দুনিয়ার সাথে জড়িত করি。
টিকাঃ
১২ খুলাফাউল আওয়াশিয়া, ১ম খণ্ড, ৩৬ পৃ.
📄 খাদ্যের বরকত
হযরত আবু বকর রা. তিনজন মেহমান নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। তিনি তার ছেলের কাছে মেহমান রেখে নবী করীম সা.-এর সাথে রাতের খাবার খেতে গেলেন এবং সেখানে যতক্ষণ খাবার থেকে আল্লাহ্ যখন চাইলেন তখন বাড়িতে ফিরে এলেন। বাড়িতে আসার পর তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, কেনো আপনি মেহমানদেরকে এতক্ষণ পর্যন্ত বসিয়ে রেখেছেন। তিনি বললেন, তুমি কি তাদের থেকে লাজুকনি। তাঁর স্ত্রী বললেন, তারা বলছে আপনি আসার আগ পর্যন্ত খাবে না। তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি খাবো না। এরপর তিনি মেহমানদের সামনে খানা এনে দিলেন এবং তাদের বললেন, খাও......... তারা খেতে শুরু করল। তাদের একজন বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমরা যখন তা থেকে এক লোকমা খাদ্য নিতাম সাথে সাথে এর নিচ থেকে এর থেকে বেশি খাদ্য বের হয়ে আসত। এমনকি আমরা খেতে খেতে পূর্ণ পরিতৃপ্ত হয়েছি, কিন্তু খাওয়ার পর পাত্রের অবশিষ্ট খাদ্য আমাদের কাছে নিয়ে আসা খাদ্যের থেকে বেশি ছিল। পরে হযরত আবু বকর রা. খাদ্যের পাত্রের দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে খাদ্য মেহমানদের দেওয়া হয়েছে তা তেমনি আছে; বরং একটু বেশি মনে হচ্ছে। তখন তিনি তাঁর স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, বনু ফেরাসের বোন! একি? তাঁর স্ত্রী বললেন, মনে হচ্ছে প্রেরিত খাদ্য থেকে বেঁচে থাকা খাদ্য অনেক বেশি। তারপর তিনি সে খাদ্য রাসূল সা.-এর কাছে নিয়ে গেলেন。
টিকাঃ
১৩ জামিউল কারামাতুল আউলিয়া, ১খ, ১৬২ পৃ.