📄 সহচরদের পরীক্ষা
হযরত আবু বকর রাযি. তাঁর সহচরের বললেন, তোমরা এ দুই আয়াতের ব্যাপারে কী বল... আল্লাহ তা’আলার বাণী.... إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ তারা বললেন, যারা বলে আল্লাহ্র প্রভু আল্লাহ্, এরপর এ কথার ওপর অটল থাকে এবং তাদের ঈমানের সাথে কোনো পাপ যোগ যোগ করে না। (অর্থাৎ, ঈমান আর পর আর কোনো পাপের সাথে জড়িত হয় না)। তখন হযরত আবু বকর রাযি. বললেন, তোমরা এ আয়াতগুলো ঠিক অর্থ ব্যবহার না করে অন্য অর্থে ব্যবহার করেছ। তারপর তিনি বললেন, যারা বলে আল্লাহ্র প্রভু আল্লাহ্, এরপর এ কথার ওপর অটল থাকে। আর ঈমান আনবার পর অন্য কোনো দেব-দেবীর পূজা করে না এবং শিরকও করে না。
টিকাঃ
৯ আল হুলিয়া, ১ম খণ্ড, ৩৬৫ পৃ.
📄 আল্লাহ তাআ'লা আবু বকরকে রহম করুন
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব সাধারণ ও বিনয়ের সাথে তাঁর সাহাবীদের মাঝে গিয়ে বসলেন। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা’আলা আবু বকরকে রহম করুন, সে তাঁর মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দিয়েছে, আমাকে হিজরতে সহযোগিতা করে নিয়েছে এবং বিলাওয়াতকে আযাদ করেছে। আল্লাহ্ উমরকে রহম করুন, সে সত্য বলুক, যদিও তা ঠিক হয় এবং এর পক্ষে কোনো সমর্থন না থাকে। আল্লাহ্ উসমানকে রহম করুন, যাকে ফেরেশতারা পর্যন্ত লজ্জা করে। আল্লাহ্ আলীকে রহম করুন, হে আল্লাহ্! সে যেখানে থাকুক সত্যকে তাঁর সাথে নিয়ে যেও。
টিকাঃ
১০ আল তিরমিযী, ১৮৭৭ পৃ.
📄 আবু বকর সত্য বলেছে
একলোক হযরত আবু বকর রাযি. কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি জাহিলী যুগে মদ পান করেছেন। হযরত আবু বকর রাযি. বললেন, আমি আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তখন তাঁকে বলা হলো, কেন? তিনি বললেন, আমি আমার ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করেছি। কেননা যে মদ খায় সে তার ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা হারিয়ে ফেলে। এ কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কানে গেলে তিনি বললেন, আবু বকর সত্য বলেছে.......আবু বকর সত্য বলেছে。
টিকাঃ
১১. আল কানূয, ৩৫৯ পৃ.
📄 আবু বকর রা. ও বদরের যুদ্ধবন্দি
মদিনায় পৌঁছার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের সাথে যুদ্ধবন্দিদের ব্যাপারে পরামর্শ করতে লাগলেন। আবু বকর রাযি. বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! ওরাতো চাচাতো ভাই এবং আমাদের বংশেরই লোক। আমার মনে আপনি তাদের কাছ থেকে কিছু নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দিন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওমর বিন খাত্তাব রাযি. মতামত জানতে চাইলে তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি আবু বকরের সাথে ভিন্ন মত পোষণ করি। আমি মনে করি, আপনি আমার অমুক অমুক আত্মীয়কে আমার হাতে তুলে দেবেন আমি তাদের শিরচ্ছেদ করব। একইভাবে আকীল বিন আবু তালিবেক আকীলের হাতে তুলে দিন, আলী তার শিরচ্ছেদ করবে। একইভাবে হামযার ভাই অমুককে তার হাতে তুলে দিন, হামযা তার শিরচ্ছেদ করবে। এতে আল্লাহ্ তা’আলা বুঝতে পারবেন মুশরিকদের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু না বলে ঘরে প্রবেশ করলেন। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে আসলেন। ঐ দিকে সাহাবায়ে কেরام কেউ কেউ আবু বকর রাযি. -এর পক্ষ নিলেন আবার কেউ কেউ ওমর বিন খাত্তাব রাযি. -এর পক্ষ নিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হয়ে এসে বললেন, আল্লাহ তা’আলা কতক বান্দার অন্তরকে নরম করে দেন। এমনকি তা দুধের চেয়েও নরম থাকে। আবার কিছু মানুষের অন্তর এত কঠিন করে দেন যে, তা পাথরের চেয়েও কঠিন থাকে। আর হে আবু বকর! তোমার তুলনা হচ্ছে ইব্রাহীমের সাথে। তিনি বলেছিলেন,
فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত, কিন্তু কেউ আমার অবাধ্য হলে তুমি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা ইব্রাহীম, আয়াত ৩৬) তোমাকে আরো তুলনা করা যায় ঈসার সাথে। তিনি বলেছিলেন-
إِنْ تَعْذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ ۖ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা কর তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা মায়িদা, আয়াত- ১১৮)
হে ওমর! তোমার তুলনা নূহ্ নবের সাথে। তিনি বলেছিলেন- وَقَالَ نُوحٌ رَّبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا হে আমার প্রতিপালক! পৃথিবীতে কাফিরদের মধ্য হতে কোনো গৃহবাসীকে ছেড়ে দিবেন না। (সূরা নূহ্, আয়াত-২৬) তোমাকে আলো তুলনা করা যায় মূসার সাথে- وَنَادَىٰهُمُ الْعَذَابِ الْأَلِيمُ امْهَلْ عَلَىٰ نُوحٍ جَمِيعًا فَلَوْ يَبْقَىٰ مِنَ الْأَرْضِ غَيْرُ أَبْصَارٍ قَدْ عَلَّمَنَا أُمِّيُّونَ হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের সম্পদ বিনষ্ট করো, তাদের হৃদয় কঠিন করে দাও, তারা তো মর্মান্তিক শাস্তি না দেখা পর্যন্ত ঈমান আনবে না। (সূরা ইউনুস- ৮৮)
টিকাঃ
১১ সীরাতুন নবী, ২য় খণ্ড, ৬৫৭ পৃ.