📄 কুমারী ও বিধবা
হিজরতের কয়েক বছর পূর্বে.......... হযরত খাদীজা রাযি. এর পরপারে চলে যাওয়ার পর....... একদিন খাদীজা বিনতে হাকিম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খোঁজখবর নিতে তাঁর কাছে গমন করলেন। তিনি গিয়ে দেখলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সঙ্গীহীন একা জীবনযাপন করছিলেন। তিনি তাঁকে বললেন, আপনি কি বিয়ে করবেন না? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কাকে? তিনি বললেন, কুমারী বা বিধবা যাকেই চান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কুমারী কে? আর বিধবা কে? তিনি বললেন, কুমারী হচ্ছে আপনার কাছে আল্লাহ্র সৃষ্টির সবচেয়ে প্রিয় আবু বকরের কন্যা আয়েশা। আর বিধবা হচ্ছে সাওদা বিনতে জামআ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দুজনকে বিয়ে করেছিলেন。
টিকাঃ
২ সহীহ বুখারী, ৬৭১৭ নং হাদীস।
৩ মুসনাদুর ইমাম আহমদ, ১য় খণ্ড, ৮ পৃ.
📄 আবু বকর রা. ও উকবা বিন আবু মুআইত
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার হারাম শরীফে তাঁর ইবাদত করছিলেন। এমন সময় আল্লাহ্র শত্রু উকবা বিন আবু মুআইতও সেখানে এসে উপস্থিত হয়। সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে ইবাদত করতে দেখে নিজের কাপড়গুলোকে মজবুত করে বেঁধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ঘাড়ে রেখে দিল। এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর গলায় ফাঁস লেগে গেল। এমনকি মনে হচ্ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রূহ দেহ ছেড়ে উড়ে যাবে। আর কেউ সাহস করে তাঁর থেকে এ কষ্টের বোঝা দূর করছিল না। পরে হযরত আবু বকর রাযি. দ্রুত এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মুক্ত করলেন। আর বলতে লাগলেন, তোমরা কি এমন লোককে হত্যা করতে চাচ্ছ যিনি বলেন আমার প্রভু আল্লাহ্。
টিকাঃ
৪ সহীহ বুখারী, ৩৫৬৮ নং হাদীস।
📄 যাকে আল্লাহ সিদ্দিক নামে নামকরণ করেছেন
হযরত আলী রাযি. মজলিসে বসে অন্যদের সাথে উত্তম মানুষ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তাদের মধ্য থেকে এক লোক বলল, আপনি আমাদেরকে আমার সহচরের সম্পর্কে বলুন। হযরত আলী রাযি. বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সকল সাহাবী আমার সহচর। তখন তারা বলল, আবু বকর রাযি. সম্পর্কে কিছু বলুন। হযরত আলী রাযি. দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললেন, তিনি এমন এক লোক যাকে আল্লাহ্ তা’আলা জিবরাঈলের মাধ্যমে সিদ্দিক নামে নামকরণ করেছেন。
টিকাঃ
৫ আল হাকিম, ৩য় খণ্ড, ৮২ পৃ.
📄 আবু বকর চার কাজে আমার থেকে অগ্রগামী
একলোক হযরত আলী রাযি. কে এসে বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! মুহাজির ও আনসারের কি হয়েছে, তারা কেন আবু বকরকে অগ্রগামী বলেন। তখন হযরত আলী রাযি. খুব আশ্চর্য ও অবাকের সাথে বললেন, যদি তুমি কাঁধাপন্থী হয়ে থাক তবে আমি তোমাকে অগ্রগামীদের একজনই মনে করি। লোকটি বলল, হ্যাঁ........আমীরুল মুমিনীন। হযরত আলী রাযি. বললেন, যদি মুমিনগণ আল্লাহ্র আশ্রয়ে না থাকত তাহলে অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করতাম..........। তারপর তিনি চিৎকার দিয়ে বললেন, তোমার ধ্বংস হোক........। আবু বকর চার কাজে আমার থেকে অগ্রগামী তা- নামাযের ইমামতিতে, হিজরতে ও ইসলাম প্রচারে।
আল্লাহ তা’আলা আবু বকরের প্রশংসা আল্লাহ তা’আলা সকল মানুষের নিন্দা করেছেন আর আবু বকরের প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন-
إِنْ تَنْصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ অর্থ- যদি তোমরা তাঁকে (রাসূলকে) সাহায্য না কর, তবে মনে রেখো, আল্লাহ তা’আলা তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। (সূরা তাওবা : ৪০)
টিকাঃ
৬ আল কানূয, ৪র্থ খণ্ড, ৩৫২ পৃ.