📄 নবিগণের পর সবচেয়ে মর্যাদাবান লোক
একদিন হযরত আবু বকর (রা.) হযরত আবুদরদা (রা.)-এর সাথে কোনো এক কাজে কোথাও হেঁটে যাচ্ছিলেন। ইটার সময়ে হযরত আবু দারদা (রা.) হযরত আবু বকর (রা.)-এর সামনে চলে গেলেন এবং তাঁকে পেছনে রেখে নিজে সম্মুখে হাঁটাচ্ছিলেন। তাঁকে আবু বকর (রা.)-এর সম্মুখে দিয়ে হাঁটতে দেখে রাসূল (সা.) সতর্ক করে বললেন, আবূদারদা! তুমি কি এমন লোকের সম্মুখে দিয়ে হাঁটছ, নবীদ্বয়ের পরে যার থেকে উত্তম কোনো লোকের ওপর সূর্য উদিত হয়নি। হযরত আবূদারদা (রা.) এ কথা শুনে লজ্জায় মাথা নাড়িয়ে আনুগত্যের সায় দিলেন। আর এমন কৃতকর্মের আফসোসে তাঁর দু চোখ দিয়ে টপ টপ করে অশ্রু ঝরতে লাগল। এরপর আর কখনো তাঁকে হযরত আবু বকর (রা.)-এর সম্মুখে দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়নি。
টিকাঃ
৭৯ মাজমাউয যাওয়াঈদ, (৪৬-৪৮)।
📄 আবু বকর রা. খিলাফতের যোগ্য
হযরত আবু বকর (রা.) খিলাফতের দায়িত্ব দেওয়ার পরে তিনি তাঁর ঘরে হযরত আলী (রা.)-এর কাছে এসে ক্ষোভের সাথে বললেন, এ ব্যাপারটি এমন কেন যে, তা রঞ্জ ও নিচু জাতির হাতে চলে যাবে। (উদ্দেশ্য হযরত আবু বকর (রা.)। তারপর আবার বললেন, যদি আপনি আমাদের কথার ওপর ভিত্তি করে পরামর্শ না করতেন, তুমি কি তা হাল করবে? হযরত আলী (রা.) বললেন, তুমি ইসলাম ও মুসলমানদের যে ক্ষতি করেছ তা অনেক হয়েছে। সুতরাং এর আর কোনো ক্ষতি করো না। আমরা দেখছি আবু বকর খিলাফতের যোগ্য ব্যক্তি。
টিকাঃ
৮০ মাজমাউয যাওয়াঈদ, ৮৪-৯৭ পৃ.
📄 হে আল্লাহ মদিনাকে আমাদের কাছে প্রিয় করে দাও
হযরত আবু বকর রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে হিজরত করে মদিনা যাওয়ার পর মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তাঁকে দেখতে হযরত আয়েশা রাযি. তাঁর নিকটে গমন করলেন। তিনি তাঁকে বললেন, বাবা! আপনি কেমন আছেন? তিনি বললেন:
اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَحُبِّنَا مكَّةَ أَوْ أَشَدَّ প্রত্যেক মানুষ পরিবারের সাথে ঘুম থেকে উঠে সকালে অথবা মৃত্যু উদ্ধার ফিতা থেকেও অধিক নিকটে। হযরত আয়েশা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গিয়ে তাঁর অবস্থা বর্ণনা করলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ! মদিনাকে মক্কার মতো; বরং এর থেকেও অধিক প্রিয় করে দাও। আর এর আবহাওয়া ঠিক করে দাও, এর বাটারায় আমাদের জন্য বরকত দাও, এর জ্বর জুহফার দিকে নিয়ে যাও。
টিকাঃ
১ আল হাকিম, ৩য় খণ্ড, ৭৯ পৃ.।
📄 কুমারী ও বিধবা
হিজরতের কয়েক বছর পূর্বে.......... হযরত খাদীজা রাযি. এর পরপারে চলে যাওয়ার পর....... একদিন খাদীজা বিনতে হাকিম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খোঁজখবর নিতে তাঁর কাছে গমন করলেন। তিনি গিয়ে দেখলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সঙ্গীহীন একা জীবনযাপন করছিলেন। তিনি তাঁকে বললেন, আপনি কি বিয়ে করবেন না? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কাকে? তিনি বললেন, কুমারী বা বিধবা যাকেই চান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কুমারী কে? আর বিধবা কে? তিনি বললেন, কুমারী হচ্ছে আপনার কাছে আল্লাহ্র সৃষ্টির সবচেয়ে প্রিয় আবু বকরের কন্যা আয়েশা। আর বিধবা হচ্ছে সাওদা বিনতে জামআ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দুজনকে বিয়ে করেছিলেন。
টিকাঃ
২ সহীহ বুখারী, ৬৭১৭ নং হাদীস।
৩ মুসনাদুর ইমাম আহমদ, ১য় খণ্ড, ৮ পৃ.