📄 তুমি তো আমাকে ধ্বংস করে দিতে
হযরত আবু বকর (রা.)-এর এক দাস ছিল। যে প্রতিদিন কাজ করতে বের হতো এবং দিন শেষে অর্জিত খাদ্য-বস্তু নিয়ে ফিরে আসত। তেমনিভাবে একদিন দাসটি খাদ্য নিয়ে এসে হযরত আবু বকরকে দিলেন। তিনি তা সাথে সাথে খেলেন। তখন দাসটি তাঁকে বলল, আপনি تو সবসময় কোনো খাদ্য নিয়ে আসলে জিজ্ঞেস করতেন তা কোথায় থেকে এনেছি। হযরত আবু বকর (রা.) তার দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম। তুমি দাও কোথায় থেকে? দাসটি বলল, আমি জাহেলী যুগে এক লোকের ভাগ্য গণনা করেছি। বাস্তবে আমি গণনা জানতাম না; বরং তাকে ধোঁকা দিয়েছি। আজকে তার সাথে দেখা হলে সে আমাকে এ খাদ্য নিয়ে বলল, আমার গণনা সত্য হয়েছে। তখন হযরত আবু বকর (রা.) বললেন, তুমি তো আমাকে ধ্বংস করে দিতে। তারপর তিনি মুখের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে ওই খাদ্য বমি করে ফেলে দিলেন। তখন তাকে বলা হলো, এক লোকমার কারণে আপনার এত কষ্ট হয়েছে।
তিনি বললেন, এ লোকমা খেয়ে যদি আমার জানও যেত তবুও আমি তা বের করতাম। আমি রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, প্রত্যেক শরীর যা হারাম দিয়ে গঠিত হয়েছে তা অবশ্যই জাহান্নামের জন্যে অধিক উপযুক্ত। (অর্থাৎ, জাহান্নামে যাবে)। আর আমি ভয় করছি যদি না এ লোকমার দ্বারা আমার শরীরের কোনো অংশ গঠিত হয়ে যায়。
টিকাঃ
৭৭ সহীহ বুখারী, ৬১৪২পৃ.।
৭৮ আল বুয়ালি, ১১২ খণ্ড, ৩১ পৃ.
📄 নবিগণের পর সবচেয়ে মর্যাদাবান লোক
একদিন হযরত আবু বকর (রা.) হযরত আবুদরদা (রা.)-এর সাথে কোনো এক কাজে কোথাও হেঁটে যাচ্ছিলেন। ইটার সময়ে হযরত আবু দারদা (রা.) হযরত আবু বকর (রা.)-এর সামনে চলে গেলেন এবং তাঁকে পেছনে রেখে নিজে সম্মুখে হাঁটাচ্ছিলেন। তাঁকে আবু বকর (রা.)-এর সম্মুখে দিয়ে হাঁটতে দেখে রাসূল (সা.) সতর্ক করে বললেন, আবূদারদা! তুমি কি এমন লোকের সম্মুখে দিয়ে হাঁটছ, নবীদ্বয়ের পরে যার থেকে উত্তম কোনো লোকের ওপর সূর্য উদিত হয়নি। হযরত আবূদারদা (রা.) এ কথা শুনে লজ্জায় মাথা নাড়িয়ে আনুগত্যের সায় দিলেন। আর এমন কৃতকর্মের আফসোসে তাঁর দু চোখ দিয়ে টপ টপ করে অশ্রু ঝরতে লাগল। এরপর আর কখনো তাঁকে হযরত আবু বকর (রা.)-এর সম্মুখে দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়নি。
টিকাঃ
৭৯ মাজমাউয যাওয়াঈদ, (৪৬-৪৮)।
📄 আবু বকর রা. খিলাফতের যোগ্য
হযরত আবু বকর (রা.) খিলাফতের দায়িত্ব দেওয়ার পরে তিনি তাঁর ঘরে হযরত আলী (রা.)-এর কাছে এসে ক্ষোভের সাথে বললেন, এ ব্যাপারটি এমন কেন যে, তা রঞ্জ ও নিচু জাতির হাতে চলে যাবে। (উদ্দেশ্য হযরত আবু বকর (রা.)। তারপর আবার বললেন, যদি আপনি আমাদের কথার ওপর ভিত্তি করে পরামর্শ না করতেন, তুমি কি তা হাল করবে? হযরত আলী (রা.) বললেন, তুমি ইসলাম ও মুসলমানদের যে ক্ষতি করেছ তা অনেক হয়েছে। সুতরাং এর আর কোনো ক্ষতি করো না। আমরা দেখছি আবু বকর খিলাফতের যোগ্য ব্যক্তি。
টিকাঃ
৮০ মাজমাউয যাওয়াঈদ, ৮৪-৯৭ পৃ.
📄 হে আল্লাহ মদিনাকে আমাদের কাছে প্রিয় করে দাও
হযরত আবু বকর রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে হিজরত করে মদিনা যাওয়ার পর মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তাঁকে দেখতে হযরত আয়েশা রাযি. তাঁর নিকটে গমন করলেন। তিনি তাঁকে বললেন, বাবা! আপনি কেমন আছেন? তিনি বললেন:
اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَحُبِّنَا مكَّةَ أَوْ أَشَدَّ প্রত্যেক মানুষ পরিবারের সাথে ঘুম থেকে উঠে সকালে অথবা মৃত্যু উদ্ধার ফিতা থেকেও অধিক নিকটে। হযরত আয়েশা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গিয়ে তাঁর অবস্থা বর্ণনা করলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ! মদিনাকে মক্কার মতো; বরং এর থেকেও অধিক প্রিয় করে দাও। আর এর আবহাওয়া ঠিক করে দাও, এর বাটারায় আমাদের জন্য বরকত দাও, এর জ্বর জুহফার দিকে নিয়ে যাও。
টিকাঃ
১ আল হাকিম, ৩য় খণ্ড, ৭৯ পৃ.।