📄 আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত
হযরত তালহার মেয়ে আয়েশা তার মা উম্মে কুলসুমকে বলল, আমার বাবা আপনার বাবা থেকে শ্রেষ্ঠ। (অর্থাৎ, আবু বকর (রা.) থেকে তালহা শ্রেষ্ঠ) রাসূল (সা.)-এর স্ত্রী হযরত আয়েশা (রা.) বললেন, আমি তোমাদের মাঝে সমাধান করে দিব না? তারপর তিনি বললেন, আবু বকর রাসূল (সা.)-এর কাছে প্রবেশ করার পর তিনি বললেন, আবু বকর! তুমি আল্লাহ্ পক্ষ থেকে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত। তারপর হযরত আয়েশা (রা.) বললেন, তাহলে কিয়ামতের দিন কার নাম আত্নীয় হবে? আর তালহা রাসূল (সা.)-এর নিকট গমন করার পর তিনি বললেন, তালহা! তুমি তাদের একজন যাদের জীবনকাল শেষ হয়ে গেছে。
টিকাঃ
৭১ আল মুতাফিয় আল আদিয়া, লি ইবনি হাজার, ৪র্থ খণ্ড, ৩৬ পৃ.।
📄 আবু বকর রা.-এর মতামত
রাসূল (সা.) যখন হযরত মুয়ায (রা.)-কে ইয়ামান পাঠানোর ইচ্ছা করলেন তখন তাঁর কয়েকজন সাহাবীর কাছে এ ব্যাপারে পরামর্শ চাইলেন। তাঁদের মধ্যে হযরত আবু বকর, ওমর, উসমান (রা.)-ও ছিলেন। হযরত আবু বকর (রা.) বললেন, যদি আপনি আমাদের কথার ওপর ভিত্তি করে পরামর্শ না করেন। (মেনে হয়োতো)। রাসূল (সা.) বললেন, যে বিষয়ে অগ্রহী অবতীর্ণ হয় না সে বিষয়ে আমি তোমাদের মতেই। এ কথা শুনে প্রত্যেকে পরামর্শ দিতে শুরু করলেন।
লোকদের পরামর্শ শুনে রাসূল (সা.) হযরত মুয়ায (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন তোমার অভিমত কি? তখন হযরত মুয়ায (রা.) বললেন, আবু বকরের অভিমত আমার অভিমত। তখন রাসূল (সা.) বললেন, আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর আসমানের উপর থেকেই আবু বকর ভুল করবে তা অপছন্দ করেন。
টিকাঃ
৭২ মাজমাউয যাওয়াঈদ, ৮ম খণ্ড, ৪৬ পৃ.।
📄 তোমার ওপর একজন নবী ও একজন সিদ্দিক রয়েছেন
রাসূল (সা.) উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করলেন। তাঁর সাথে হযরত আবু বকর, ওমর, উসমান (রা.)-ও ছিলেন। তখন তাদেরে নিয়ে পাহাড় উঁচুও লাগল। এতে রাসূল (সা.) তাঁর পা দিয়ে পাহাড়ে আঘাত করে বললেন, স্থির হও, কেননা তোমার উপরে একজন নবী, একজন সিদ্দিক্ব ও দুইজন শহীদ রয়েছেন। এখানে সিদ্দিক্ব হচ্ছেন হযরত আবু বকর আর দুই শহীদ হচ্ছেন হযরত ওমর ও উসমান。
টিকাঃ
৭৩ সহীহ বুখারী, ৩৮৬৬ নং হাদীস।
📄 আল্লাহর নাঙ্গা তলোয়ারের ইসলাম গ্রহণ
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) মুসলমান হওয়ার জন্য রাসূল (সা.)-এর কাছে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন। ...এই মধ্যে একদিন তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, তাঁর কাছে মনে হচ্ছিল তিনি একটি সঙ্কীর্ণ ভূমিতে আছেন, এরপর তিনি সে সঙ্কীর্ণ ভূমি থেকে বের হয়ে এক বিশাল সবুজ ভূমিতে চলে এসেছেন। ঘুম থেকে জেগে উঠে তিনি বললেন, এটা অবশ্যই সত্য স্বপ্ন। যখন তিনি মদিনা আসলেন তখন তিনি মনে মনে বললেন, অবশ্যই তা আমি আবু বকর (রা.)-কে বলব.......। সংকল্প মতো পরে তা তিনি হযরত আবু বকর (রা.)-এর কাছে গিয়ে বললেন। তাঁর স্বপ্ন শুনে হযরত আবু বকর (রা.) বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে যে ইসলাম দ্বারা হেদায়েত দিয়েছেন তা হচ্ছে তোমার বের হয়ে আসা। আর সঙ্কীর্ণতা হচ্ছে তুমি যে শিরকের উপরে ছিলে。
টিকাঃ
৭৪ আল মুতাফিয়র রাশিদীন, ৪১ পৃ.।