📄 ওটাই আমাকে কাঁদিয়েছে
খুব সাধারণভাবে হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু মদিনাতে বসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের সাথে কথা বলছিলেন। কিছুক্ষন পর তিনি তাঁর দাসকে পানি পান করতে বললেন। দাসটি পানি আনতে গেল এবং একটু পর একটি মাটির পাত্রে করে পানি নিয়ে এল। তারপর তা তাঁকে পান করতে দিল। তিনি তাঁর দুই হাত দিয়ে পাত্রটি ধরে পিপাসা নিবারণ করতে মুখে দিতে গেলেন। এমন সময় দেখলেন পানির পাত্রে থাকা পানি মুখরোচন দিয়ে গেল। তা দেখে হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু পান করে পাত্রটি রেখে দিলেন। তারপর তিনি দাসকে জিজ্ঞেস করলেন- হে বালক! এটি কি? দাসটি ইতস্তত হয়ে বলল, মুখরোচন..........পানি মিশ্রিত মুখরোচন। হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর মাথা ঝুঁকিয়ে পাত্রটির দিকে তাকালেন। সামান্য সময় না যেতেই তাঁর দুই চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে পানি গড়িয়ে শুরু করে। কান্নার কারণে তিনি হাঁপাচ্ছিলেন। তাঁর কান্না ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল। এতও লোকেরা তাঁর দিকে ছুটে এসে পেরেশান হয়ে জিজ্ঞেস করল- আপনি কেন কাঁদছেন? আর কান্নার কারণ কি? কিন্তু হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কান্না থামাতে পারছিলেন না। এমনকি তাঁর কান্নায় প্রভাবে আশপাশের লোকেরাও কান্না শুরু করে দিল। এক সময় অন্যদের কান্না থেমে গেল তবুও হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কান্না থামেনি। অনেকক্ষণ পর যখন তাঁর কান্না ধীরে ধীরে থামতে লাগল, যদিও চোখের পানি অবিরাম ঝরছিল। মানুষ আবারো জিজ্ঞেস করল- হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! এ কান্না কেনো? কিসের আসাদল? হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুশয্যায় শায়িত অবস্থায় দেখলাম, তিনি তাঁর হাত দ্বারা ইশারা করে কোনো কিছুকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন আর ক্ষীণ কণ্ঠে বললেন, আমার থেকে দূরে সর.........আমার থেকে দূরে সর, কিন্তু আমি তাকিয়ে কোনো কিছু দেখছিলাম না। তাই আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি সরাচ্ছেন, আমি তো আপনার সামনে কিছুই দেখছিনা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘশ্বস নিয়ে আমার একটি কাছে এসে বললেন, এ হচ্ছে দুনিয়া, এর মধ্যে যা আছে এগুলো আমাকে দেখানো হয়েছে। আর তখন আমি বললাম, আমার থেকে দূরে সর.........আমার থেকে দূরে সর। হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু বিষন্ন মনে মাথা নাড়িয়ে বললেন, এ কারণে আমি ভয় করছি শুধু মিশানো পানি, এ তো আমাকে দুনিয়ার ভোগ পেতে গেল...........আর এটিই আমাকে কাঁদিয়েছে。
টিকাঃ
১৪০ আল হুলিয়া, ১ম খণ্ড, ১৪৮ পৃ.।
📄 নবীর সাথে মক্কায় প্রবেশ
মক্কা বিজয়ের দিন রাসূল (সা.) মক্কা প্রবেশের সময় তাঁর সাথে হযরত আবু বকর (রা.) ছিলেন। তিনি নারীবেষ্টকদের দেখলেন তারা ঘোড়ার চেহারায় চপেটাঘাত করছে। তখন তিনি আবু বকর (রা.)-এর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, আবু বকর! হাসসান কি বলেছে? এরপর তিনি আবৃত্তি করতে শুরু করলেন, আমাদের ঘোড়াগুলো হারিয়ে ফেলছি আমরা তাই তো তাদেরে ময়দানে বালি উড়াতে দেখছ না তোমরা! সে ঘোড়াগুলো ছিল অত্যন্ত সাহসী সামনের দিকে ছুটে যেত কাঁধে থাকত তরবারি। কিন্তু হায়! আজ তাদের অবস্থা কেন এমন নারীরা উড়না দিয়ে আঘাত করছে তাদের চেহারাঁয় এখন。
টিকাঃ
৬৯ মুস্তাদরাকে হাকিম, ৩য় খণ্ড, ৭২। ফার্মা-- ৬
📄 প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী
জ্ঞানের এক বাগানে হযরত শা’বী ইবনে আব্বাসের নিকটে গিয়ে বসলেন। তিনি ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বললেন, ইসলামের প্রথম ব্যক্তি কে? তখন হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, তুমি কি হাসসান বিন সাবিতের কথা শুনলি? হাসসান বিন সাবিতের কবিতা,..........
ইযাক্ব কূরুত মিন আ’ফীক্বাহ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ أَقَالَهَا وَ أَعْدَلَهَا ওয়াল্লাযী আ’তান মু’মেরা মুহতাদেয়া وَأَوْلَى النَّاسِ مِنْهُمْ صَدَقَ الْعُلَا কিন্তু কোনো ভাইয়ের আহ্বানগুলোয় কথা মনে পড়বে যখন তোমার ভাই আবু বকর ও তার কর্ম করিত স্মরণ তখন নবীর পরেই যিনি শ্রেষ্ঠ তাকাওয়াবান ও ন্যায়বান যে দায়িত্ব হয়েছিল অর্পিত তাঁর ওপর তিনি করেছেন তা পূরণ। যিনি ছিলেন তার কর্মে প্রশংসিত ইসলামের দ্বিতীয়জন রাসূলকে সকল মানুষের আগে করিয়াছেন সত্যয়ন। হযরত শা’বী তখন বললেন, আপনি সত্য বলেছেন......আপনি সত্য বলেছেন。
টিকাঃ
৭° মাজমাউয যাওয়াঈদ, ৮ম খণ্ড, ৪৬ পৃ.।
📄 আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত
হযরত তালহার মেয়ে আয়েশা তার মা উম্মে কুলসুমকে বলল, আমার বাবা আপনার বাবা থেকে শ্রেষ্ঠ। (অর্থাৎ, আবু বকর (রা.) থেকে তালহা শ্রেষ্ঠ) রাসূল (সা.)-এর স্ত্রী হযরত আয়েশা (রা.) বললেন, আমি তোমাদের মাঝে সমাধান করে দিব না? তারপর তিনি বললেন, আবু বকর রাসূল (সা.)-এর কাছে প্রবেশ করার পর তিনি বললেন, আবু বকর! তুমি আল্লাহ্ পক্ষ থেকে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত। তারপর হযরত আয়েশা (রা.) বললেন, তাহলে কিয়ামতের দিন কার নাম আত্নীয় হবে? আর তালহা রাসূল (সা.)-এর নিকট গমন করার পর তিনি বললেন, তালহা! তুমি তাদের একজন যাদের জীবনকাল শেষ হয়ে গেছে。
টিকাঃ
৭১ আল মুতাফিয় আল আদিয়া, লি ইবনি হাজার, ৪র্থ খণ্ড, ৩৬ পৃ.।