📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমার থেকে প্রতিশোধ নাও

📄 আমার থেকে প্রতিশোধ নাও


হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু যাকাতের উট বকরির দ্বারা কথা ঘোষণা দিলেন। মানুষেরা তার ঘোষণা অনুযায়ী একত্রিত হলে তিনি বললেন, কেউ অনুমতি ব্যতীত আমাদের কাছে আসবে না। অন্যদিকে এক মহিলা তার স্বামীকে বলল, এ লাগাম নিয়ে যাও, হতে পারে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে একটি উট দান করবেন। লোকটি হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে আসল। সে এসে দেখল হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু উটের ঘরে প্রবেশ করেছে। লোকটি ও তাঁদের সাথে ঘরে প্রবেশ করল। কিছুক্ষণ পর হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু তাকিয়ে দেখলেন একলোক তাদের সাথে সাথে ভেতরে আসছে। লোকটির হাতে একটি লাগাম ছিল। তখন আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি কেন প্রবেশ করেছ? তিনি তার হাত থেকে লাগামটি দিয়ে বললেন, পশুকে তার গঠন শৈলী দিয়ে তুমি লোকটিকে থেকে লাগামটি দিয়ে বললেন, আমার থেকে প্রতিশোধ নাও। তখন হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহ্র শপথ! সে প্রতিশোধ নিবে না। আর আপনিও প্রতিশোধের এ পদ্ধতিটি চালু করবেন। হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্র হাত থেকে কে আমাকে বাঁচাবে! হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আপনি অন্যকিছু দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করে দিন। তাঁর কথামতো হযরত আবু বকর رضي الله عنه লোকটিকে তিন ও মধ্যমসহ একটি বাহন ও পাঁচ দীনার দিয়ে নির্দেশ দিলেন। এর দ্বারা তিনি লোকটিকে খুশি করতে চেষ্টা করলেন। আর লোকটি ও এগুলো পেয়ে খুব খুশি হয়ে চলে গেল। মনে হচ্ছিল বুঝতে তাঁর অন্তর উড়ে যাবে。

টিকাঃ
১৩৭ ◗ আসসুনানুল কুবরা, ৯খ, ৩০৬ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 এ মিসকিনের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর

📄 এ মিসকিনের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর


হযরত বিলাল রদিয়াল্লাহু আনহু মক্কার নগণ্য নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াতে আশোর মল্লক দেখতে পাচ্ছিলেন। তাঁর পবিত্র রুহ এ আলোর আলায় মেঘের নৈকটতার রাস্তা দেখছিল। তাই তিনি এ আলোতে আল্লাহকে খুঁজে পেতে আঘাত নতুন ধর্মের রীতিকোলে পা রাখলেন। অন্যদিকে তার ইমানের পথের এ যাত্রার কথা কাফেরদের নেতারা জেনে গেল। আর তাই এ পথ থেকে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে তারা গলায় শিকল পরিয়ে তাঁকে মক্কার গলিতে-গলিতে ঘোরাতে লাগল। এরপর তারা তাঁকে মরুভত উষ্ণ বালুতে নিক্ষেপ করল। শুধু তাই নয়; বরং বিশাল এক পাথর এনে তাঁর বুকের উপর চাপা দিল। যাতে করে সে তাদের দেবতাদের দিকে ফিরে আসতে রাজি হয়, কিন্তু তাদের দেওয়া এ কঠিন থেকে কঠিন শাস্তিগুলো শুধু আল্লাহর প্রতি তাঁর ইমান ও দৃঢ়তায় বৃদ্ধি করতে লাগল। হযরত বিলাল ও তাঁর সময়ে শুধু একক............একক............একক বলে চিৎকার করতেন। (অর্থাৎ আল্লাহ আর তাঁর কোনো শরিক নেই)। একদিন সকালে হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখনো কাফেররা তাঁকে গালাগালি দিচ্ছিল। এ দৃশ্য দেখে হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু উমাইয়া বিন খলফকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি কি এ মিসকীনদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করনা?............আর কতক্ষণ শান্তি দিবে......? উমাইয়া বলল: তুমি তাঁকে নষ্ট করেছো, এখন তুমি মুক্ত কর। এ কথা শুনে হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে নয় ওকিয়া দিয়ে ক্রয় করে নিলেন। (ওকিয়া তৎকালীন মুদ্রা)। তখন উমাইয়া তাচ্ছিল্য করে বলল, ধর............লাভ ও উজ্বার শপথ! যদি তুমি তাকে এক ওকিয়া বেশি দিয়ে ক্রয় করতে না চাইতে তকে আমি এক ওকিয়াতেই দিয়ে দিতাম। হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহ্র শপথ! যদি তোমরা এক শত ওকিয়া ব্যতীত বিক্রয় করতে না চাইতে তকে আমি এক শত ওকিয়া দিয়েই তাকে ক্রয় করতাম。

টিকাঃ
◗ আল হুলিয়া, ১ম খণ্ড, ১৪৮ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওটাই আমাকে কাঁদিয়েছে

📄 ওটাই আমাকে কাঁদিয়েছে


খুব সাধারণভাবে হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু মদিনাতে বসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের সাথে কথা বলছিলেন। কিছুক্ষন পর তিনি তাঁর দাসকে পানি পান করতে বললেন। দাসটি পানি আনতে গেল এবং একটু পর একটি মাটির পাত্রে করে পানি নিয়ে এল। তারপর তা তাঁকে পান করতে দিল। তিনি তাঁর দুই হাত দিয়ে পাত্রটি ধরে পিপাসা নিবারণ করতে মুখে দিতে গেলেন। এমন সময় দেখলেন পানির পাত্রে থাকা পানি মুখরোচন দিয়ে গেল। তা দেখে হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু পান করে পাত্রটি রেখে দিলেন। তারপর তিনি দাসকে জিজ্ঞেস করলেন- হে বালক! এটি কি? দাসটি ইতস্তত হয়ে বলল, মুখরোচন..........পানি মিশ্রিত মুখরোচন। হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর মাথা ঝুঁকিয়ে পাত্রটির দিকে তাকালেন। সামান্য সময় না যেতেই তাঁর দুই চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে পানি গড়িয়ে শুরু করে। কান্নার কারণে তিনি হাঁপাচ্ছিলেন। তাঁর কান্না ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল। এতও লোকেরা তাঁর দিকে ছুটে এসে পেরেশান হয়ে জিজ্ঞেস করল- আপনি কেন কাঁদছেন? আর কান্নার কারণ কি? কিন্তু হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কান্না থামাতে পারছিলেন না। এমনকি তাঁর কান্নায় প্রভাবে আশপাশের লোকেরাও কান্না শুরু করে দিল। এক সময় অন্যদের কান্না থেমে গেল তবুও হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কান্না থামেনি। অনেকক্ষণ পর যখন তাঁর কান্না ধীরে ধীরে থামতে লাগল, যদিও চোখের পানি অবিরাম ঝরছিল। মানুষ আবারো জিজ্ঞেস করল- হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! এ কান্না কেনো? কিসের আসাদল? হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুশয্যায় শায়িত অবস্থায় দেখলাম, তিনি তাঁর হাত দ্বারা ইশারা করে কোনো কিছুকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন আর ক্ষীণ কণ্ঠে বললেন, আমার থেকে দূরে সর.........আমার থেকে দূরে সর, কিন্তু আমি তাকিয়ে কোনো কিছু দেখছিলাম না। তাই আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি সরাচ্ছেন, আমি তো আপনার সামনে কিছুই দেখছিনা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘশ্বস নিয়ে আমার একটি কাছে এসে বললেন, এ হচ্ছে দুনিয়া, এর মধ্যে যা আছে এগুলো আমাকে দেখানো হয়েছে। আর তখন আমি বললাম, আমার থেকে দূরে সর.........আমার থেকে দূরে সর। হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু বিষন্ন মনে মাথা নাড়িয়ে বললেন, এ কারণে আমি ভয় করছি শুধু মিশানো পানি, এ তো আমাকে দুনিয়ার ভোগ পেতে গেল...........আর এটিই আমাকে কাঁদিয়েছে。

টিকাঃ
১৪০ আল হুলিয়া, ১ম খণ্ড, ১৪৮ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 নবীর সাথে মক্কায় প্রবেশ

📄 নবীর সাথে মক্কায় প্রবেশ


মক্কা বিজয়ের দিন রাসূল (সা.) মক্কা প্রবেশের সময় তাঁর সাথে হযরত আবু বকর (রা.) ছিলেন। তিনি নারীবেষ্টকদের দেখলেন তারা ঘোড়ার চেহারায় চপেটাঘাত করছে। তখন তিনি আবু বকর (রা.)-এর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, আবু বকর! হাসসান কি বলেছে? এরপর তিনি আবৃত্তি করতে শুরু করলেন, আমাদের ঘোড়াগুলো হারিয়ে ফেলছি আমরা তাই তো তাদেরে ময়দানে বালি উড়াতে দেখছ না তোমরা! সে ঘোড়াগুলো ছিল অত্যন্ত সাহসী সামনের দিকে ছুটে যেত কাঁধে থাকত তরবারি। কিন্তু হায়! আজ তাদের অবস্থা কেন এমন নারীরা উড়না দিয়ে আঘাত করছে তাদের চেহারাঁয় এখন。

টিকাঃ
৬৯ মুস্তাদরাকে হাকিম, ৩য় খণ্ড, ৭২। ফার্মা-- ৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00