📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 নাতীকে নিয়ে মদিনায় ঘুরে বেড়ানো

📄 নাতীকে নিয়ে মদিনায় ঘুরে বেড়ানো


আসমা বিনতে আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহা থাকতেই আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের রদিয়াল্লাহু আনহু-কে গর্ভধারণ করেন। তিনি বলেন, যখন আমার গর্ভের সময় পূর্ণ হবে ঠিক সে সময়ে আমি মদীনা হিজরত করি। আমি কুবায় পৌঁছার পর সন্তান প্রসব করি। আমার ছেলের জন্মের পর তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আসা হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি খেজুর আনতে বললেন। তারপর তিনি তা চিবিয়ে তাঁর মুখে দিলেন এতে শিশু মুখ প্রথম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লালা প্রবেশ করল। তাঁর জন্মের পর মুসলমানদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল। কেননা ইহুদীরা বলত, মুসলমানদের আর কোনো সন্তান হবে না তাদের আলেমরা মুসলমানদের জন্যে যাদু করেছে। আর তাই এ আব্দুল্লাহ বিন যুবায়েরের জন্মের পর মুসলমানগণ তাকবির দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করলেন। এরপর আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে নিয়ে মদীনার গলিতে গলিতে ঘুরে বেড়াতেন যাতে করে সবাই জানতে পারে ইহুদীরা মিথ্যাবাদী。

টিকাঃ
১৩৪ কিতাবু আমীরিল মুমিনীন আব্দুল্লাহ বিন যুবায়েরের দিস সালাবী, ১০২৪ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 হাউজে তুমি আমার সাথি

📄 হাউজে তুমি আমার সাথি


একদিন হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে বসেছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, আবু বকর! তুমি হাউজে (হাউজে কাওসার) আমার সাথি এবং গুহাতেও আমার সাথি (অর্থাৎ হিজরতের সময় আশ্রয় নেওয়া হেরা পর্বতের গুহা)

টিকাঃ
১৩৫ জামিউল তিরমিযী, ৩০৩৩ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 এ তীর আমার ছেলেকে হত্যা করেছে

📄 এ তীর আমার ছেলেকে হত্যা করেছে


তায়েফের দিন............... হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর ছেলে আব্দুল্লাহ তীব্রি যুদ্ধ করে শহীদ হয়ে যান। হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু আয়েশার রদিয়াল্লাহু আনহা কাছে গিয়ে বললেন, হে আমার মেয়ে! আল্লাহর সূদ্রা আমার কাছে একটি বকরির খড় থেকে চলে যাওয়ার মতোই (অর্থাৎ সামান্য বিপদ)। হযরত আয়েশা রদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, সকল প্রশংসা সে আল্লাহ তা'আলার যিনি আপনার মনে দৃঢ়তা দান করেছেন এবং আপনাকে সওজার ওপর অটল রেখেছেন। তারপর তিনি ঘর থেকে বের হওয়ার পর বললেন, হে আমার মেয়ে! সম্ভবত তোমরা আব্দুল্লাহকে জীবিত দাফন করেছ। হযরত আয়েশা রদিয়াল্লাহু আনহা বলতে লাগলেন, আল্লাহ্ শপথ! ابونا رَاجِعُونَ وَإِنَّا إِلَيْهِ অর্থাৎ, হে বাবা! আমরা আল্লাহর জন্য আর আমরা আল্লাহর কাছেই ফিরে যাব। হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু চিন্তিত মনে বললেন, সর্বজ্ঞাতা ও মহাজ্ঞানী আল্লাহ তা'আলা কাছে আমা শয়তান থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। তারপর তিনি আবার বললেন, নিশ্চয়ই সে তাদের একজন যাদেরকে দুটি জিনিস স্পর্শ করবে এক- শাহাদতের স্পর্শ, অন্যটি ফেরেশতাদের স্পর্শ। দিনের পর দিন পার হতে লাগল............ এরই মধ্যে একদিন বনু সাকীফের একজন লোক তাঁর কাছে আসল। আর সেই তাঁর তখনো তাঁর কাছে ছিল। তিনি তাঁরটি তাদের সামনে বের করে বললেন, এ তাঁর তোমাদের কেউ কি কিন? বনু আজালানের ভাই সাদ বিন উবায়েদ বললেন, এ তাঁর আমিই নিক্ষেপ করেছি।
তখন হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এ তাঁর আমার ছেলে আব্দুল্লাহকে হত্যা করেছে। সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ তা'আলার যিনি তোমার হাতত তার তাকে শাহাদাত দান করে সম্মানিত করেছেন আর তোমাকে তার হাতে হত্যা করে অপমানিত করেননি। কেননা আব্দুল্লাহ প্রতিশোধ গ্রহণে কঠিন ছিল。

টিকাঃ
১৩৬ ◗ আল হাকীম, ৩য় খণ্ড, ৭৭ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমার থেকে প্রতিশোধ নাও

📄 আমার থেকে প্রতিশোধ নাও


হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু যাকাতের উট বকরির দ্বারা কথা ঘোষণা দিলেন। মানুষেরা তার ঘোষণা অনুযায়ী একত্রিত হলে তিনি বললেন, কেউ অনুমতি ব্যতীত আমাদের কাছে আসবে না। অন্যদিকে এক মহিলা তার স্বামীকে বলল, এ লাগাম নিয়ে যাও, হতে পারে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে একটি উট দান করবেন। লোকটি হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে আসল। সে এসে দেখল হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু উটের ঘরে প্রবেশ করেছে। লোকটি ও তাঁদের সাথে ঘরে প্রবেশ করল। কিছুক্ষণ পর হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু তাকিয়ে দেখলেন একলোক তাদের সাথে সাথে ভেতরে আসছে। লোকটির হাতে একটি লাগাম ছিল। তখন আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি কেন প্রবেশ করেছ? তিনি তার হাত থেকে লাগামটি দিয়ে বললেন, পশুকে তার গঠন শৈলী দিয়ে তুমি লোকটিকে থেকে লাগামটি দিয়ে বললেন, আমার থেকে প্রতিশোধ নাও। তখন হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহ্র শপথ! সে প্রতিশোধ নিবে না। আর আপনিও প্রতিশোধের এ পদ্ধতিটি চালু করবেন। হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্র হাত থেকে কে আমাকে বাঁচাবে! হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আপনি অন্যকিছু দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করে দিন। তাঁর কথামতো হযরত আবু বকর رضي الله عنه লোকটিকে তিন ও মধ্যমসহ একটি বাহন ও পাঁচ দীনার দিয়ে নির্দেশ দিলেন। এর দ্বারা তিনি লোকটিকে খুশি করতে চেষ্টা করলেন। আর লোকটি ও এগুলো পেয়ে খুব খুশি হয়ে চলে গেল। মনে হচ্ছিল বুঝতে তাঁর অন্তর উড়ে যাবে。

টিকাঃ
১৩৭ ◗ আসসুনানুল কুবরা, ৯খ, ৩০৬ পৃ.।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00