📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 হযরত ওমরের কান্না

📄 হযরত ওমরের কান্না


একবার....। বসরার আমির হযরত আবু মুসা আল আশআরী (রাঃ) বের হলেন। তিনি যখনই খুতবা দিতেন আল্লাহর গুণকীর্তন করে ও নবী করীম ﷺ -এর ওপর দুরুদ পাঠ করে ওমর (রাঃ) -এর জন্য দোয়া করতেন। দিবা দিন মুসলিম নামক এক ব্যক্তির কাছে বিষয়টি খুব খারাপ লাগল। তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, তাঁর সাথীর (আবু বকরের) ব্যাপারে তোমার অবস্থান কি? তুমি কি আবু বকর (রাঃ)-এর ওপর প্রাধান্য দিচ্ছ?
তার কথায় হযরত আবু মূসা রদিয়াল্লাহু আনহু খুবই রাগান্বিত হলেন। তিনি আমীরুল মুমিনীনদের কাছে তার ব্যাপারে এ অভিযোগ লিখে পাঠালেন,............... "দিয়া বিন মুহসিন আমার ভায়গেু বিমত পোষণ করেছে।" তার চিঠি পেয়ে হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু প্রতিশোধ লিখলেন,.......... "তাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও।" দিয়া বিন মুহসিন হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট এসে উপস্থিত হলেন। হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তোমাকে আপততও না ওড়তেছাও না। দিয়া বললেন, স্বাগতম তো আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর আমাকে আপনি কোনো অপরাধ ব্যতীতই এখানে নিয়ে আসার মধ্যে কোনো ওচ্ছোচ্ছাও নেই আর কোনো লাভও নেই। হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি কি নিয়ে আবু মূসার সাথে ঝগড়া করেছ? দিয়া বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি এমন তা আপনাকে বলেছি, যে মুতবা দিতে দাঁড়ালে আল্লাহর প্রশংসা করে ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দুরূদ পাঠ করে আপনার জন্যে দোয়া করে। তখন আমি তাকে বললাম, তাঁর সাথির (আবু বকর) ব্যাপারে তোমার অবস্থান কি? তুমি কি আবু বকরের ওপর তাঁকে প্রাধান্য দিবা? আর এতে সে আপনার কাছে আমার বিরুদ্ধে লিখে পাঠায়। তখন হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু কান্না শুরু করলেন। চোখের অশ্রু তাঁর গাল বেয়ে নিচে পড়ছিল। তিনি বলতে লাগলেন, আল্লাহর শপথ! তুমিই সঠিক, তুমিই যথাযথ......তুমি আমার জন্যে ক্ষমাশীল হতে পারবে তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে ক্ষমা করবেন? দিয়া বললেন, আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। হযরত ওমর চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন, আল্লাহর শপথ! আবু বকরের একদিন ও একরাত ওমর ও ওমরের পরিবার থেকেও উত্তম।"

টিকাঃ
◗ আবূ দাউদ ওয়াল বুখা, ১৫৪,১৫৫ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 নাতীকে নিয়ে মদিনায় ঘুরে বেড়ানো

📄 নাতীকে নিয়ে মদিনায় ঘুরে বেড়ানো


আসমা বিনতে আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহা থাকতেই আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের রদিয়াল্লাহু আনহু-কে গর্ভধারণ করেন। তিনি বলেন, যখন আমার গর্ভের সময় পূর্ণ হবে ঠিক সে সময়ে আমি মদীনা হিজরত করি। আমি কুবায় পৌঁছার পর সন্তান প্রসব করি। আমার ছেলের জন্মের পর তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আসা হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি খেজুর আনতে বললেন। তারপর তিনি তা চিবিয়ে তাঁর মুখে দিলেন এতে শিশু মুখ প্রথম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লালা প্রবেশ করল। তাঁর জন্মের পর মুসলমানদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল। কেননা ইহুদীরা বলত, মুসলমানদের আর কোনো সন্তান হবে না তাদের আলেমরা মুসলমানদের জন্যে যাদু করেছে। আর তাই এ আব্দুল্লাহ বিন যুবায়েরের জন্মের পর মুসলমানগণ তাকবির দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করলেন। এরপর আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে নিয়ে মদীনার গলিতে গলিতে ঘুরে বেড়াতেন যাতে করে সবাই জানতে পারে ইহুদীরা মিথ্যাবাদী。

টিকাঃ
১৩৪ কিতাবু আমীরিল মুমিনীন আব্দুল্লাহ বিন যুবায়েরের দিস সালাবী, ১০২৪ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 হাউজে তুমি আমার সাথি

📄 হাউজে তুমি আমার সাথি


একদিন হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে বসেছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, আবু বকর! তুমি হাউজে (হাউজে কাওসার) আমার সাথি এবং গুহাতেও আমার সাথি (অর্থাৎ হিজরতের সময় আশ্রয় নেওয়া হেরা পর্বতের গুহা)

টিকাঃ
১৩৫ জামিউল তিরমিযী, ৩০৩৩ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 এ তীর আমার ছেলেকে হত্যা করেছে

📄 এ তীর আমার ছেলেকে হত্যা করেছে


তায়েফের দিন............... হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর ছেলে আব্দুল্লাহ তীব্রি যুদ্ধ করে শহীদ হয়ে যান। হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু আয়েশার রদিয়াল্লাহু আনহা কাছে গিয়ে বললেন, হে আমার মেয়ে! আল্লাহর সূদ্রা আমার কাছে একটি বকরির খড় থেকে চলে যাওয়ার মতোই (অর্থাৎ সামান্য বিপদ)। হযরত আয়েশা রদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, সকল প্রশংসা সে আল্লাহ তা'আলার যিনি আপনার মনে দৃঢ়তা দান করেছেন এবং আপনাকে সওজার ওপর অটল রেখেছেন। তারপর তিনি ঘর থেকে বের হওয়ার পর বললেন, হে আমার মেয়ে! সম্ভবত তোমরা আব্দুল্লাহকে জীবিত দাফন করেছ। হযরত আয়েশা রদিয়াল্লাহু আনহা বলতে লাগলেন, আল্লাহ্ শপথ! ابونا رَاجِعُونَ وَإِنَّا إِلَيْهِ অর্থাৎ, হে বাবা! আমরা আল্লাহর জন্য আর আমরা আল্লাহর কাছেই ফিরে যাব। হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু চিন্তিত মনে বললেন, সর্বজ্ঞাতা ও মহাজ্ঞানী আল্লাহ তা'আলা কাছে আমা শয়তান থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। তারপর তিনি আবার বললেন, নিশ্চয়ই সে তাদের একজন যাদেরকে দুটি জিনিস স্পর্শ করবে এক- শাহাদতের স্পর্শ, অন্যটি ফেরেশতাদের স্পর্শ। দিনের পর দিন পার হতে লাগল............ এরই মধ্যে একদিন বনু সাকীফের একজন লোক তাঁর কাছে আসল। আর সেই তাঁর তখনো তাঁর কাছে ছিল। তিনি তাঁরটি তাদের সামনে বের করে বললেন, এ তাঁর তোমাদের কেউ কি কিন? বনু আজালানের ভাই সাদ বিন উবায়েদ বললেন, এ তাঁর আমিই নিক্ষেপ করেছি।
তখন হযরত আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এ তাঁর আমার ছেলে আব্দুল্লাহকে হত্যা করেছে। সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ তা'আলার যিনি তোমার হাতত তার তাকে শাহাদাত দান করে সম্মানিত করেছেন আর তোমাকে তার হাতে হত্যা করে অপমানিত করেননি। কেননা আব্দুল্লাহ প্রতিশোধ গ্রহণে কঠিন ছিল。

টিকাঃ
১৩৬ ◗ আল হাকীম, ৩য় খণ্ড, ৭৭ পৃ.।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00