📄 চোর ও শাস্তি
মানুষের মাঝে রাসূল ﷺ -এর কাছে এক চোরকে নিয়ে আসা হয়েছে। তখন রাসূল ﷺ বললেন, তোমরা তাকে হত্যা কর। তারা খুব আশ্চর্যের সাথে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ চুরি করেছে। তিনি আবার বললেন, তাকে হত্যা কর। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ তো শুধু চুরি করেছে। তখন রাসূল ﷺ বললেন, তার হাত কেটে দাও। এইভাবে দিন কাটছিল......। লোকটি আবার চুরি করল। এতে তার পা কেটে দেওয়া হলো। হযরত আবু বকর (রাঃ) -এর খিলাফতকালে লোকটি আবারও চুরি করল। এতে তার বাম হাতও কেটে দেওয়া হলো। তারপর আবার চুরি করল। এবার তার বাম পাও কেটে ফেলা হলো। এভাবে তার হাত পা সবগুলো কেটে ফেলা হলো। হাত পা সবগুলো হারানোর পর লোকটি পশমের মতো আবারও চুরি করল।
তখন হযরত আবু বকর (রাঃ) বললেন, রাসূল ﷺ এ সম্পর্কে অধিক জানতেন তাই তিনি বলেছিলেন, তাকে হত্যা কর। তারপর তাকে হত্যা করার জন্য কোরাইশের যুবক দলের হাতে হস্তান্তর করা হল.........। তারা তাকে হত্যা করল।
📄 উত্তম কে?
কুফা ও বসরার কিছু অধিবাসী হযরত ওমর (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে মদিনায় আগমন করে। তারা মদিনায় বসে বসে কথাবার্তা বলছিল। একপর্যায়ে তারা হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর (রাঃ)-কে নিয়ে আলোচনা করতে লাগল। তাদের কেউ হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে হযরত ওমর (রাঃ)-এর উপরে প্রাধান্য দিল। আবার কেউ হযরত ওমর (রাঃ)-কে হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর উপর প্রাধান্য দিল।
তাদের কথাবার্তা শুনে হযরত ওমর চাবুক নিয়ে ছুটে আসলেন। যারা তাঁকে হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর উপর প্রাধান্য দিয়েছিল, তিনি তাদের দিকে ছুটে গিয়ে এক এক করে চাবুক দিয়ে আঘাত করতে লাগলেন। তারা বলল, ঠিক.......কেননা আমরা আপনাকে আবু বকরের ওপর প্রাধান্য দেওয়া আল্লাহ তা’আলা দেখতে চান না। আবু বকর এ দিক থেকে উত্তম...........। ওদিক থেকে উত্তম। তাদের কথাগুলো হযরত ওমর (রাঃ)-কে আনন্দিত করল। পরে তিনি নিজেই মিহরে উঠে আল্লাহ্র প্রশংসা ও গুণকীর্তন করার পর বললেন, এ উম্মতের নবীর পরে সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি হচ্ছেন আবু বকর। আমার এ ঘোষণার পর যদি কেউ বিরোধী ব্যক্তি থেকে থাকে তবে সে অপবাদদাতা। আর তার ওপর অপবাদের শাস্তিই প্রযোজ্য হবে。
টিকাঃ
৫০ সুনানে নাসাঈ, ৮৮৬১ পৃ.।
৫১ আল মুলাফুযুর রাশিদীন, ৮৬ পৃ:।
📄 হযরত ওমরের কান্না
একবার....। বসরার আমির হযরত আবু মুসা আল আশআরী (রাঃ) বের হলেন। তিনি যখনই খুতবা দিতেন আল্লাহর গুণকীর্তন করে ও নবী করীম ﷺ -এর ওপর দুরুদ পাঠ করে ওমর (রাঃ) -এর জন্য দোয়া করতেন। দিবা দিন মুসলিম নামক এক ব্যক্তির কাছে বিষয়টি খুব খারাপ লাগল। তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, তাঁর সাথীর (আবু বকরের) ব্যাপারে তোমার অবস্থান কি? তুমি কি আবু বকর (রাঃ)-এর ওপর প্রাধান্য দিচ্ছ?
তার কথায় হযরত আবু মূসা রদিয়াল্লাহু আনহু খুবই রাগান্বিত হলেন। তিনি আমীরুল মুমিনীনদের কাছে তার ব্যাপারে এ অভিযোগ লিখে পাঠালেন,............... "দিয়া বিন মুহসিন আমার ভায়গেু বিমত পোষণ করেছে।" তার চিঠি পেয়ে হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু প্রতিশোধ লিখলেন,.......... "তাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও।" দিয়া বিন মুহসিন হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট এসে উপস্থিত হলেন। হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তোমাকে আপততও না ওড়তেছাও না। দিয়া বললেন, স্বাগতম তো আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর আমাকে আপনি কোনো অপরাধ ব্যতীতই এখানে নিয়ে আসার মধ্যে কোনো ওচ্ছোচ্ছাও নেই আর কোনো লাভও নেই। হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি কি নিয়ে আবু মূসার সাথে ঝগড়া করেছ? দিয়া বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি এমন তা আপনাকে বলেছি, যে মুতবা দিতে দাঁড়ালে আল্লাহর প্রশংসা করে ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দুরূদ পাঠ করে আপনার জন্যে দোয়া করে। তখন আমি তাকে বললাম, তাঁর সাথির (আবু বকর) ব্যাপারে তোমার অবস্থান কি? তুমি কি আবু বকরের ওপর তাঁকে প্রাধান্য দিবা? আর এতে সে আপনার কাছে আমার বিরুদ্ধে লিখে পাঠায়। তখন হযরত ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু কান্না শুরু করলেন। চোখের অশ্রু তাঁর গাল বেয়ে নিচে পড়ছিল। তিনি বলতে লাগলেন, আল্লাহর শপথ! তুমিই সঠিক, তুমিই যথাযথ......তুমি আমার জন্যে ক্ষমাশীল হতে পারবে তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে ক্ষমা করবেন? দিয়া বললেন, আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। হযরত ওমর চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন, আল্লাহর শপথ! আবু বকরের একদিন ও একরাত ওমর ও ওমরের পরিবার থেকেও উত্তম।"
টিকাঃ
◗ আবূ দাউদ ওয়াল বুখা, ১৫৪,১৫৫ পৃ.
📄 নাতীকে নিয়ে মদিনায় ঘুরে বেড়ানো
আসমা বিনতে আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহা থাকতেই আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের রদিয়াল্লাহু আনহু-কে গর্ভধারণ করেন। তিনি বলেন, যখন আমার গর্ভের সময় পূর্ণ হবে ঠিক সে সময়ে আমি মদীনা হিজরত করি। আমি কুবায় পৌঁছার পর সন্তান প্রসব করি। আমার ছেলের জন্মের পর তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আসা হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি খেজুর আনতে বললেন। তারপর তিনি তা চিবিয়ে তাঁর মুখে দিলেন এতে শিশু মুখ প্রথম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লালা প্রবেশ করল। তাঁর জন্মের পর মুসলমানদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল। কেননা ইহুদীরা বলত, মুসলমানদের আর কোনো সন্তান হবে না তাদের আলেমরা মুসলমানদের জন্যে যাদু করেছে। আর তাই এ আব্দুল্লাহ বিন যুবায়েরের জন্মের পর মুসলমানগণ তাকবির দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করলেন। এরপর আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে নিয়ে মদীনার গলিতে গলিতে ঘুরে বেড়াতেন যাতে করে সবাই জানতে পারে ইহুদীরা মিথ্যাবাদী。
টিকাঃ
১৩৪ কিতাবু আমীরিল মুমিনীন আব্দুল্লাহ বিন যুবায়েরের দিস সালাবী, ১০২৪ পৃ.।