📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ভীমরুল ও মৌমাছির দংশন

📄 ভীমরুল ও মৌমাছির দংশন


একদল লোক সফরে বের হয়েছে। তাদের মধ্যে একলোক দাঁড়িয়ে হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর (রাঃ)-কে গালমন্দ করতে লাগল। এতে মানুষ খুব রাগান্বিত হয়ে চিৎকার দিয়ে বলল, এই বেটা থাম....। তুই কি বলিস.......। তুই কি রাসূল ﷺ -এর দুই পবিত্র সাহাবী হযরত আবু বকর ও ওমর (রাঃ)-কে গালি দিচ্ছিস? কিন্তু লোকটি তারপরেও থামেনি। তাদের বিরুদ্ধে একাধারে সে বলে যাচ্ছিল। এর কিছুক্ষণ পর ঐ লোকটি তার প্রয়োজন পূরণ করার জন্য টয়লেটে গেল। টয়লেট থেকে বের পর পরই একঝাঁক ভীমরুল ও মৌমাছি এসে তাকে ঘিরে ধরে তাঁর শরীরে হুল ফোটাতে শুরু করল। এতে লোকটি চিৎকার শুরু করে দিল। চিৎকার শুনে মানুষ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে, কিন্তু তারা ভীমরুল আর মৌমাছির কারণে তার নিকটে যেতে পারছিল না। যে লোকে কাছে আসার চেষ্টা করত তাকে ভীমরুল আর মৌমাছি আক্রমণ করে বসত। এতে তাদের দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। ভীমরুল ও মৌমাছি তার সারা শরীর হুল ফুটিয়ে অবশেষে তাকে ছেড়ে দিল। আল্লাহ তা'আলা তাঁর বন্ধুদের পক্ষ থেকে এমনভাবে প্রতিশোধ নিলেন。

টিকাঃ
৪৮ ফায়াযুল মাসারা, ১৫৫ পৃ:।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বদরের যুদ্ধে নবী সা.-এর পাহারাদার

📄 বদরের যুদ্ধে নবী সা.-এর পাহারাদার


একদিন হযরত আলী (রাঃ) তাঁর সাথীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, হে মানুষের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বীর কে? তারা বলল, আমীরুল মুমিনীন! আপনি। তিনি বললেন, আমি ধারণা করছি তোমরা আমার কথা বলবে। এরপর তিনি বললেন, বীর তো ছিলেন আবু বকর। আমরা একদিন রাসূল ﷺ -এর কাছে ছিলাম। এমন সময় বলা হলো, কে সে ব্যক্তি যে রাসূল ﷺ -এর পাশে থাকবে যাতে করে তাঁর ওপর মুশরিকদের কোনো আক্রমণ না আসে। আল্লাহর কসম, তখন আমাদের কেউ তাঁর নিকটবর্তী হয়নি। হযরত আবু বকর (রাঃ) ই তাঁর তলোয়ার উন্মুক্ত করে রাসূল ﷺ -এর মাথার কাছে গেলেন। তাই আমরা মনে করি তিনিই সবচেয়ে সেরা বীর。

টিকাঃ
৪৯ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৫৭৯ পৃ:।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 চোর ও শাস্তি

📄 চোর ও শাস্তি


মানুষের মাঝে রাসূল ﷺ -এর কাছে এক চোরকে নিয়ে আসা হয়েছে। তখন রাসূল ﷺ বললেন, তোমরা তাকে হত্যা কর। তারা খুব আশ্চর্যের সাথে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ চুরি করেছে। তিনি আবার বললেন, তাকে হত্যা কর। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ তো শুধু চুরি করেছে। তখন রাসূল ﷺ বললেন, তার হাত কেটে দাও। এইভাবে দিন কাটছিল......। লোকটি আবার চুরি করল। এতে তার পা কেটে দেওয়া হলো। হযরত আবু বকর (রাঃ) -এর খিলাফতকালে লোকটি আবারও চুরি করল। এতে তার বাম হাতও কেটে দেওয়া হলো। তারপর আবার চুরি করল। এবার তার বাম পাও কেটে ফেলা হলো। এভাবে তার হাত পা সবগুলো কেটে ফেলা হলো। হাত পা সবগুলো হারানোর পর লোকটি পশমের মতো আবারও চুরি করল।
তখন হযরত আবু বকর (রাঃ) বললেন, রাসূল ﷺ এ সম্পর্কে অধিক জানতেন তাই তিনি বলেছিলেন, তাকে হত্যা কর। তারপর তাকে হত্যা করার জন্য কোরাইশের যুবক দলের হাতে হস্তান্তর করা হল.........। তারা তাকে হত্যা করল।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উত্তম কে?

📄 উত্তম কে?


কুফা ও বসরার কিছু অধিবাসী হযরত ওমর (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে মদিনায় আগমন করে। তারা মদিনায় বসে বসে কথাবার্তা বলছিল। একপর্যায়ে তারা হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর (রাঃ)-কে নিয়ে আলোচনা করতে লাগল। তাদের কেউ হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে হযরত ওমর (রাঃ)-এর উপরে প্রাধান্য দিল। আবার কেউ হযরত ওমর (রাঃ)-কে হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর উপর প্রাধান্য দিল।
তাদের কথাবার্তা শুনে হযরত ওমর চাবুক নিয়ে ছুটে আসলেন। যারা তাঁকে হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর উপর প্রাধান্য দিয়েছিল, তিনি তাদের দিকে ছুটে গিয়ে এক এক করে চাবুক দিয়ে আঘাত করতে লাগলেন। তারা বলল, ঠিক.......কেননা আমরা আপনাকে আবু বকরের ওপর প্রাধান্য দেওয়া আল্লাহ তা’আলা দেখতে চান না। আবু বকর এ দিক থেকে উত্তম...........। ওদিক থেকে উত্তম। তাদের কথাগুলো হযরত ওমর (রাঃ)-কে আনন্দিত করল। পরে তিনি নিজেই মিহরে উঠে আল্লাহ্র প্রশংসা ও গুণকীর্তন করার পর বললেন, এ উম্মতের নবীর পরে সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি হচ্ছেন আবু বকর। আমার এ ঘোষণার পর যদি কেউ বিরোধী ব্যক্তি থেকে থাকে তবে সে অপবাদদাতা। আর তার ওপর অপবাদের শাস্তিই প্রযোজ্য হবে。

টিকাঃ
৫০ সুনানে নাসাঈ, ৮৮৬১ পৃ.।
৫১ আল মুলাফুযুর রাশিদীন, ৮৬ পৃ:।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00