📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উম্মে আয়মানের কান্না

📄 উম্মে আয়মানের কান্না


চিৎকার রেখা ঊর্ধ্ব থেকে থেকে দর্গ টানছিল। রাসূল ﷺ -এর ইন্তেকালে সকলে শোকে বিহ্বল। হযরত আবু বকর (রাঃ) দুঃখ ও বিশাল মেঘের মনের আকাশ থেকে তাড়িয়ে হযরত ওমর (রাঃ)-কে গিয়ে বললেন, চল আমরা উম্মে আয়মানের কাছে যাই। রাসূল ﷺ তার সাথে দেখা করত আমরাও গিয়ে সেভাবে দেখা করি।
যখন তারা হযরত উম্মে আয়মানের কাছে গিয়ে পৌঁছলেন তিনি প্রচণ্ড কান্নাকাটি শুরু করলেন। তারা বললেন, আপনি কেন কাঁদছেন? আপনি কি জানেন না রাসূল ﷺ -এর জন্য আল্লাহর নিকটে যা আছে তা অনেক উত্তম? তিনি বললেন, আমি এ জন্য কাঁদছি না; বরং আমি কাঁদছি আসমান থেকে ওহী আর আসবে না............। এ কথা শুনে হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর (রাঃ) উভয়ে তাঁর সাথে কান্না শুরু করলেন。

টিকাঃ
৪৬ মুসতাদরাকুল হাকিম, ৩য় খণ্ড, ৫৮৬৭ পৃ:।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তুমি দৃঢ়তা অবলম্বন করেছ

📄 তুমি দৃঢ়তা অবলম্বন করেছ


মদিনা মুনাওয়ারায়............. হযরত আবু বকর (রাঃ) ও হযরত ওমর (রাঃ) রাসূল ﷺ -এর সামনে গিয়ে খুব ভদ্রতার সাথে বসলেন। উদ্দেশ্য রাসূল ﷺ -এর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন। তখন রাসূল ﷺ হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন- তুমি কখন বিতর পড়? তিনি বললেন, রাতের প্রথম অংশে। তারপর রাসূল ﷺ হযরত ওমর (রাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন- তুমি কখন বিতর পড়? তিনি বললেন, রাতের শেষ অংশে। তখন রাসূল ﷺ হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে বললেন, তুমি দৃঢ়তা অবলম্বন করেছ আর ওমর সামর্থ্যতা অবলম্বন করেছে。

টিকাঃ
৪৭ সুনানে আবু দাউদ, ১২২২ পৃ:।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ভীমরুল ও মৌমাছির দংশন

📄 ভীমরুল ও মৌমাছির দংশন


একদল লোক সফরে বের হয়েছে। তাদের মধ্যে একলোক দাঁড়িয়ে হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর (রাঃ)-কে গালমন্দ করতে লাগল। এতে মানুষ খুব রাগান্বিত হয়ে চিৎকার দিয়ে বলল, এই বেটা থাম....। তুই কি বলিস.......। তুই কি রাসূল ﷺ -এর দুই পবিত্র সাহাবী হযরত আবু বকর ও ওমর (রাঃ)-কে গালি দিচ্ছিস? কিন্তু লোকটি তারপরেও থামেনি। তাদের বিরুদ্ধে একাধারে সে বলে যাচ্ছিল। এর কিছুক্ষণ পর ঐ লোকটি তার প্রয়োজন পূরণ করার জন্য টয়লেটে গেল। টয়লেট থেকে বের পর পরই একঝাঁক ভীমরুল ও মৌমাছি এসে তাকে ঘিরে ধরে তাঁর শরীরে হুল ফোটাতে শুরু করল। এতে লোকটি চিৎকার শুরু করে দিল। চিৎকার শুনে মানুষ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে, কিন্তু তারা ভীমরুল আর মৌমাছির কারণে তার নিকটে যেতে পারছিল না। যে লোকে কাছে আসার চেষ্টা করত তাকে ভীমরুল আর মৌমাছি আক্রমণ করে বসত। এতে তাদের দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। ভীমরুল ও মৌমাছি তার সারা শরীর হুল ফুটিয়ে অবশেষে তাকে ছেড়ে দিল। আল্লাহ তা'আলা তাঁর বন্ধুদের পক্ষ থেকে এমনভাবে প্রতিশোধ নিলেন。

টিকাঃ
৪৮ ফায়াযুল মাসারা, ১৫৫ পৃ:।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বদরের যুদ্ধে নবী সা.-এর পাহারাদার

📄 বদরের যুদ্ধে নবী সা.-এর পাহারাদার


একদিন হযরত আলী (রাঃ) তাঁর সাথীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, হে মানুষের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বীর কে? তারা বলল, আমীরুল মুমিনীন! আপনি। তিনি বললেন, আমি ধারণা করছি তোমরা আমার কথা বলবে। এরপর তিনি বললেন, বীর তো ছিলেন আবু বকর। আমরা একদিন রাসূল ﷺ -এর কাছে ছিলাম। এমন সময় বলা হলো, কে সে ব্যক্তি যে রাসূল ﷺ -এর পাশে থাকবে যাতে করে তাঁর ওপর মুশরিকদের কোনো আক্রমণ না আসে। আল্লাহর কসম, তখন আমাদের কেউ তাঁর নিকটবর্তী হয়নি। হযরত আবু বকর (রাঃ) ই তাঁর তলোয়ার উন্মুক্ত করে রাসূল ﷺ -এর মাথার কাছে গেলেন। তাই আমরা মনে করি তিনিই সবচেয়ে সেরা বীর。

টিকাঃ
৪৯ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৫৭৯ পৃ:।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00