📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 কাপড় বিক্রেতা

📄 কাপড় বিক্রেতা


সূর্য ঘুম ভেঙে উঠার আগেই হযরত আবু বকর (রাঃ) কাপড়ের বোঝা মাথায় নিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে বাজারের দিকে রওনা দিলেন। যাওয়ার পথে তাঁকে হযরত ওমর ও আবু উবায়দা বিন আল জাররা (রাঃ) দেখতে পেলেন। তারা দু'জন খুব দ্রুত তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন। হযরত ওমর (রাঃ) উঁচু গলায় চিৎকার দিয়ে বললেন, আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আপনি কোথায় যাচ্ছেন? হযরত আবু বকর (রাঃ) তাঁর মাথায় থাকা কাপড়ের বোঝার নিচ দিয়ে তাদের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, বাজারে। হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, আপনি বাজারে কি করবেন? তিনি আশ্চর্যে হয়ে বললেন, ওম্র! আমি কাপড় বিক্রয় করব। হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, আপনার বাস্তবতা এসেছে। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, তুমি কি খিলাফতের কথা বলছ? হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তিনি হাত নাড়িয়ে বললেন, তাহলে আমার পরিবারকে কে খাওয়াবে? হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, আমরা বায়তুল মাল থেকে কিছু অর্থ নির্ধারণ করে দিব। মুসলিম জাতির অবস্থার কথা বর্ণনা করে হযরত আবু বকর (রাঃ) তা গ্রহণ করতে রাজি হলেন এবং বাজারে যাওয়া থেকে বিরত থাকলেন。

টিকাঃ
৪৫ আল মুলাফুযুর রাশিদীন, ৬৯পৃ:।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উম্মে আয়মানের কান্না

📄 উম্মে আয়মানের কান্না


চিৎকার রেখা ঊর্ধ্ব থেকে থেকে দর্গ টানছিল। রাসূল ﷺ -এর ইন্তেকালে সকলে শোকে বিহ্বল। হযরত আবু বকর (রাঃ) দুঃখ ও বিশাল মেঘের মনের আকাশ থেকে তাড়িয়ে হযরত ওমর (রাঃ)-কে গিয়ে বললেন, চল আমরা উম্মে আয়মানের কাছে যাই। রাসূল ﷺ তার সাথে দেখা করত আমরাও গিয়ে সেভাবে দেখা করি।
যখন তারা হযরত উম্মে আয়মানের কাছে গিয়ে পৌঁছলেন তিনি প্রচণ্ড কান্নাকাটি শুরু করলেন। তারা বললেন, আপনি কেন কাঁদছেন? আপনি কি জানেন না রাসূল ﷺ -এর জন্য আল্লাহর নিকটে যা আছে তা অনেক উত্তম? তিনি বললেন, আমি এ জন্য কাঁদছি না; বরং আমি কাঁদছি আসমান থেকে ওহী আর আসবে না............। এ কথা শুনে হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর (রাঃ) উভয়ে তাঁর সাথে কান্না শুরু করলেন。

টিকাঃ
৪৬ মুসতাদরাকুল হাকিম, ৩য় খণ্ড, ৫৮৬৭ পৃ:।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তুমি দৃঢ়তা অবলম্বন করেছ

📄 তুমি দৃঢ়তা অবলম্বন করেছ


মদিনা মুনাওয়ারায়............. হযরত আবু বকর (রাঃ) ও হযরত ওমর (রাঃ) রাসূল ﷺ -এর সামনে গিয়ে খুব ভদ্রতার সাথে বসলেন। উদ্দেশ্য রাসূল ﷺ -এর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন। তখন রাসূল ﷺ হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন- তুমি কখন বিতর পড়? তিনি বললেন, রাতের প্রথম অংশে। তারপর রাসূল ﷺ হযরত ওমর (রাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন- তুমি কখন বিতর পড়? তিনি বললেন, রাতের শেষ অংশে। তখন রাসূল ﷺ হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে বললেন, তুমি দৃঢ়তা অবলম্বন করেছ আর ওমর সামর্থ্যতা অবলম্বন করেছে。

টিকাঃ
৪৭ সুনানে আবু দাউদ, ১২২২ পৃ:।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ভীমরুল ও মৌমাছির দংশন

📄 ভীমরুল ও মৌমাছির দংশন


একদল লোক সফরে বের হয়েছে। তাদের মধ্যে একলোক দাঁড়িয়ে হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর (রাঃ)-কে গালমন্দ করতে লাগল। এতে মানুষ খুব রাগান্বিত হয়ে চিৎকার দিয়ে বলল, এই বেটা থাম....। তুই কি বলিস.......। তুই কি রাসূল ﷺ -এর দুই পবিত্র সাহাবী হযরত আবু বকর ও ওমর (রাঃ)-কে গালি দিচ্ছিস? কিন্তু লোকটি তারপরেও থামেনি। তাদের বিরুদ্ধে একাধারে সে বলে যাচ্ছিল। এর কিছুক্ষণ পর ঐ লোকটি তার প্রয়োজন পূরণ করার জন্য টয়লেটে গেল। টয়লেট থেকে বের পর পরই একঝাঁক ভীমরুল ও মৌমাছি এসে তাকে ঘিরে ধরে তাঁর শরীরে হুল ফোটাতে শুরু করল। এতে লোকটি চিৎকার শুরু করে দিল। চিৎকার শুনে মানুষ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে, কিন্তু তারা ভীমরুল আর মৌমাছির কারণে তার নিকটে যেতে পারছিল না। যে লোকে কাছে আসার চেষ্টা করত তাকে ভীমরুল আর মৌমাছি আক্রমণ করে বসত। এতে তাদের দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। ভীমরুল ও মৌমাছি তার সারা শরীর হুল ফুটিয়ে অবশেষে তাকে ছেড়ে দিল। আল্লাহ তা'আলা তাঁর বন্ধুদের পক্ষ থেকে এমনভাবে প্রতিশোধ নিলেন。

টিকাঃ
৪৮ ফায়াযুল মাসারা, ১৫৫ পৃ:।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00